বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৭ পি.এম
ইরান সম্প্রতি মার্কিন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘নতুন রণকৌশল’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মহসিন রেজাই মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, খুব শীঘ্রই যুদ্ধক্ষেত্র ও কূটনীতিতে ইরানের এই নতুন কৌশল ওয়াশিংটনে দৃশ্যমান হবে।
মহসিন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মার্কিন প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "আপনারা নিজেদের জন্য যে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তা থেকে এই ধরনের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে রেহাই পাবেন না।"
তিনি আরও বলেন, "খুব শীঘ্রই আপনারা দেখতে পাবেন যে যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইরানের নতুন কৌশল আপনাদের সমস্ত ভিত নাড়িয়ে দেবে।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান ও সামরিক হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৯ জনে পৌঁছেছে। এই তথ্য ইরানি গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকা লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। এই হামলার ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রাণহানির বিস্তারিত পরিসংখ্যান
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো:
খুজেস্তান প্রদেশ: এখানে হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন।
কুহেস্তাক: বিমান হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
কেরমানশাহ: ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
লাভান দ্বীপ: আধা-সামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর ৩ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
জাহরোম / ফার্স প্রদেশ: ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার পর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় আদালত এক আসামিকে মৃত্যুদন্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি রুবেল এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত এলিন ও শুভ কুমার পলাতক রয়েছেন। মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে আদালত খালাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান রংপুরের একটি স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ ১০ বছর ৯ মাসের বিচারকার্য শেষে বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী নুরজাহান বেগম জানান, "এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।" তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ জানান, মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে।
তবে আদালত হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ডকেই খালাস দিয়েছে। এ রায়ে আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। তারা জানান, এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি বিনামূল্যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এই কোর্সটি আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোর্সটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম কোর্সটির উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য উল্লেখ করেন, "পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম স্থান হচ্ছে মসজিদ। আর মসজিদে কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের মতো একটি উদ্যোগে উপস্থিত হতে পেরে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করি।"
তিনি আরও বলেন, "মহান আল্লাহ মানুষকে তার বান্দা হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বহু আউলিয়া-দরবেশের আগমন ঘটেছে এবং তাদের মাধ্যমে এ দেশে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে।"
উপাচার্য বলেন, "বাংলাদেশের সমাজে সত্যিকার অর্থে ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধকে এগিয়ে নিতে কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পবিত্র কোরআন শুদ্ধভাবে পড়া ও শেখার সুযোগ সৃষ্টির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।" তিনি এই কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও কোরআনের শিক্ষা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "শুধু কোরআন তেলাওয়াত করাই নয়, এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও অন্তর্নিহিত শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও প্রয়োজন।" তিনি সকলকে নিয়মিত পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও কোরআনের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এই কোর্স চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগ্রহীরা শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন পড়া, তেলাওয়াতের প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন শেখা এবং কোরআন শিক্ষার সুযোগ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে ১৮৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন, উপজেলা লামাকাজি ইউনিয়নের মির্জারগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের মো. আরশদ আলীর ছেলে মংলা মিয়া (৫৬) এবং অন্যজন হলেন মির্জারগাঁও মাঝপাড়া গ্রামের মো. মিয়ার ছেলে সৈয়দ মিয়া (৪৫)।
বুধবার দুপুরে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে তাদের সিলেট আদালতে সোর্পোদ করা হয়। এর আগে, গত মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ গ্রাম এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় উভয়ের দেহ তল্লাশি করে ১৮৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত দুইজন পেশাদার মাদক কারবারি। গত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। গ্রেফতারের পর মংলা মিয়ার কাছ থেকে ১০০ পিস এবং সৈয়দ মিয়ার কাছ থেকে আরও ৮৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ গাজী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ