ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিম অবদানের উজ্জ্বল দলিল


ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিম অবদানের উজ্জ্বল দলিল

প্যারিসের লাতিন কোয়ার্টারের ঐতিহাসিক এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা গ্র্যান্ড মসজিদ ২০২৬ সালে শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। একশ বছরের এ পথচলায় এটি এক সংগে একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিমদের অবদান, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সামাজিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) পর গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই যুদ্ধে ফ্রান্সের পক্ষ হয়ে লড়াই করেছিলেন বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিম সৈনিকরা, যারা উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন। যুদ্ধের সময় তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি ও স্মৃতি সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশেই প্যারিসে একটি বড় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।

১৯২০ সালে ফরাসি পার্লামেন্ট গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন দেয় এবং কয়েক বছরের নির্মাণকাজ শেষে ১৯২৬ সালের ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ। উদ্বোধন করেন তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট গাস্তোঁ দুমের্গ। মসজিদের প্রথম রেক্তর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সি কাদ্দুর বেংগাব্রিত।

আরও পড়ুন: শামোন্ডা নামের ভাইরাসটি কতটা ভয়ংকর?

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্র্যান্ড মসজিদ ফ্রান্সের মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এখানে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। সময়ের সাথে এটি বর্তমানে ফ্রান্সে মুসলিম ঐতিহ্য ও উপস্থিতির একটি পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

প্যারিসের এ মসজিদের স্থাপত্যও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর নকশায় আন্দালুসীয় ও মুরিশ স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব রয়েছে। ৩৩ মিটার উঁচু মিনার, খিলানযুক্ত প্রবেশপথ, আরবি ক্যালিগ্রাফি, মোজাইক নকশা এবং বাগানের সমন্বয়ে তৈরি এ স্থাপনা প্যারিসের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত।

একশ বছর পরে গ্র্যান্ড মসজিদের মূল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। সাথে আরবি ভাষা শিক্ষা, ইসলামি শিক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবারের জুমার নামাজ এবং রমজান ও ঈদের সময় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

গ্র্যান্ড মসজিদের পরিচালনা ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে থাকে। ফরাসি সরকার কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ করে না। গ্র্যান্ড মসজিদও সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়; এটি একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমানে এর রেক্তর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেমস এদ্দিন হাফিজ।

আরও পড়ুন: টাইফুন ‘চাম্পি’র আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক

২০২৬ সালে শতবর্ষ উপলক্ষে গ্র্যান্ড মসজিদে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মধ্যে ঐতিহাসিক প্রদর্শনী, পুরোনো ছবি ও দলিল উপস্থাপন, ইসলামি শিল্প ও সংস্কৃতির আয়োজন এবং আলোচনা সভা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে একশ বছরের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

শতবর্ষের এ আয়োজনে ফ্রান্সের সরকারি প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, কূটনীতিক, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ, মন্ত্রী অরোর বেরজে, প্যারিস পুলিশের প্রিফেক্ট পত্রিস ফোর, প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার, ইল দ্য ফ্রঁস অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ভালেরি পেক্রেস ও আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

গ্র্যান্ড মসজিদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি মানবিক অধ্যায়ও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, নাৎসি দখলদারিত্বের সময় তৎকালীন রেক্তর সি কাদ্দুর বেংগাব্রিতের নেতৃত্বে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্যাতিত মানুষকে সহায়তা করেছিলেন। তবে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে।

ফরাসি ইতিহাসবিদ বেনজামিন স্তোরা গ্র্যান্ড মসজিদকে ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিমদের অবদান এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একশ বছর আগে যুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য যে মসজিদ নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা ফ্রান্সের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বর্তমানে ফ্রান্সের একটি ঐতিহাসিক দলিল, যেখানে সংরক্ষিত আছে আত্মত্যাগ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সহাবস্থানের একটি দীর্ঘ ইতিহাস।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ৫৪৬২ কোটি টাকা অনুদান দিলেন মাস্ক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল ৮ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৩ এম


ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল ৮ জনের

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে অবস্থিত একটি অবৈধ আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আরও অন্তত নয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শনিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আহমেদাবাদের ভাস্ত্রাল অঞ্চলে অবস্থিত ‘ট্যালেন্ট ফায়ারওয়ার্কস’ নামক কারখানাটির এই বিস্ফোরণ ঘটে। কারখানাটির লাইসেন্স আগে থেকেই বাতিল করা হয়েছিল। তাও স্থানীয় একটি খামারে অবৈধভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে থাকছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বিস্ফোরণের পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মণিনগর সিভিল হাসপাতাল ও এলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আহতদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে তারা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের জন্য দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির ভক্ত হয়ে ব্রাজিলের সমর্থন ছাড়লেন দুই যুবক, দুধ দিয়ে উদ্‌যাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৯ এম


মেসির ভক্ত হয়ে ব্রাজিলের সমর্থন ছাড়লেন দুই যুবক, দুধ দিয়ে উদ্‌যাপন

ফুটবল উন্মাদনায় কত কিছুই না ঘটে! তবে এবার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ঘটেছে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। দীর্ঘকাল ধরে প্রিয় দল ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে উঠেছেন দুই ফুটবলপ্রেমী। আর এই দলবদল স্মরণীয় করে রাখতে তারা রীতিমতো ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের টুকু বাজার এলাকায় এই ঘটনা সংগঠিত হয়।

দলবদলকারী ওই দুই যুবক হলেন রাতইল গ্রামের বাসিন্দা হাসিব মুন্সী এবং ওহিদুল শেখ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাসিব ও ওহিদুল দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলের ভক্ত ছিলেন। তবে চলতি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির জাদুকরি এবং অসাধারণ পারফরম্যান্স তাদের মন জয় করে নেয়। মেসির ফুটবলশৈলীতে মুগ্ধ হয়ে তারা ব্রাজিলের মায়া ত্যাগ করে আর্জেন্টিনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শনিবার সকালে টুঙ্গু বাজারে তারা ১০ লিটার খাঁটি দুধ এনে সবার সামনে গোসল করেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে অতীত ধুয়ে-মুছে তারা এখন ‘খাঁটি’ আর্জেন্টিনার সমর্থক।

হাসিব মুন্সী বলেন, "আমরা ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক ছিলাম। নেইমারকে ভালোবাসতাম। কিন্তু এবার সেমিফাইনালে লিওনেল মেসি যেভাবে খেললেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। মেসির এ ফুটবল জাদু দেখার পর ব্রাজিলে থাকার আর কোনো মানে হয় না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিই, ফুটবলের রাজপুত্রকে সম্মান জানাতে আমরা এখন থেকে আর্জেন্টিনা করব। আর অতীতকে ধুয়ে পরিষ্কার করতে আমরা দুধ দিয়ে গোসল করে নতুন শুরু করলাম।"

ওহিদুল শেখ বলেন, "ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের জন্য সহজ ছিল না। অনেকেই আমাদের খেপাবে জানি। কিন্তু বাস্তবতাকে তো আর অস্বীকার করা যায় না। মেসি আমাদের বাধ্য করেছেন আর্জেন্টিনার ভক্ত হতে। আমরা আজীবন মেসির ভক্ত হয়ে থাকতে চাই। আমাদের এ দলবদলকে স্মরণীয় রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।"

এদিকে, দুধ দিয়ে গোসল করে দলবদলের এই খবর দ্রুত টুকু বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উৎসুক জনতীর ঢল নামে। ব্যতিক্রমী এ ঘটনা দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমান। উপস্থিত অনেকেই এই দৃশ্যকে মুঠোফোনে ভিডিও করেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে এখন নেটদুনিয়ায় হাসির রোল এবং তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনালে মেসিকে নিয়ে কী কৌশল স্পেনের, আগেই জানিয়ে দিলেন কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ এম


ফাইনালে মেসিকে নিয়ে কী কৌশল স্পেনের, আগেই জানিয়ে দিলেন কোচ

 

আর্জেন্টিনাকে ‘ঝামেলার’ প্রতিপক্ষ বললেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ

সোমবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসিকে ধরার জন্য আলাদা কোনো খেলোয়াড় রাখছে না স্পেন। এমনটাই জানিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার বদলে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ওপর ‘খুব কাছ থেকে নজর’ রাখবে তার দল। কারণ মেসিকে ম্যান-মার্ক করলে যে উল্টো বিপদ হতে পারে, তা বহু আগেই টের পেয়েছেন তিনি।

৩৯ বছর বয়সী মেসিকে ঠেকাতে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় ব্যবহার করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে দে লা ফুয়েন্তে ফিরে যান পুরোনো এক স্মৃতিতে। তার সেভিয়া দল তারপর বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলছিল এক যুব ম্যাচে। কিশোর মেসিকে আটকাতে গিয়ে সেদিন কী নাটকীয়ভাবে সব ভেস্তে গিয়েছিল, সেই গল্পই বলেন তিনি।

শনিবার সাংবাদিকদের দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। মেসি নামের একটা ছেলের সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমরা শুরু থেকে তাকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ে রেখেছিলাম। আর ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ০-০। যে খেলোয়াড় তাকে মার্ক করছিল, তাকে যখন কার্ড দেখানো হলো, আমি তাকে তুলে নিলাম। এর ১৫ মিনিটের মধ্যেই মেসি চারটা গোল করে ফেলল।’

এই অভিজ্ঞতা স্পেন কোচের মনে গভীর দাগ কেটেছে।

তিনি বলেন, ‘এর মানে কী? আমরা কি তাকে ম্যান-টু-ম্যান মার্ক করব? না। কিন্তু আমরা কি তার ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখব? হ্যাঁ।’

নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা এখনো তিনিই। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।

মেসির উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই তুলনা টেনে আনে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের সঙ্গে। তবে ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের ওপর সেই তুলনার চাপ চাপাতে রাজি নন দে লা ফুয়েন্তে।

তিনি বলেন, ‘মেসি একজনই। সে অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটা উদাহরণ। কিন্তু লামিনকে লামিনই থাকতে হবে। আমার মনে হয়, তাকে সাহায্য করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তার পাশে থাকা, তাকে যেমন চিনি সেভাবেই থাকতে সহায়তা করা।’

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জোরালো ট্যাকলের শিকার হয়ে বুধবার অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন ইয়ামাল। তার ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগও দূর করেছেন দে লা ফুয়েন্তে।

তিনি বলেন, ‘তার উরুতে জোরালো আঘাত লেগেছিল। বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হয়েছিল সে, বেশ ব্যথাপ্রবণ জায়গায়। আজ সে বাকি সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।’

টুর্নামেন্টের অস্বাভাবিক পরিবেশের জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছে স্পেন। এর মধ্যে আছে পানি পানের বিরতি ও দীর্ঘ বিরতির আয়োজন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খেলোয়াড়দের দে লা ফুয়েন্তে বলেছিলেন, মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

তিনি বলেন, ‘কেউ একটা অভিযোগও করেনি, একটুও গজগজ করেনি। মানিয়ে নেওয়া মানে যা বদলাতে পারবে না, তা মেনে নেওয়া। আর যেহেতু বদলাতে পারবে না, তাই এটা উপভোগ করাই ভালো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে যোগ্য দল স্পেন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪২ এম


‘বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে যোগ্য দল স্পেন’

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আমার কাছে একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার—স্পেন বর্তমানে আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো একটি দল। স্পেন শুধুমাত্র ভালো নয়, তারা যেভাবে পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছে, তাতে তাদের শিরোপা জেতার জন্য সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার বলেই আমি মনে করি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের সেমিফাইনাল আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা যেভাবে ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, সেটি ছিল অসাধারণ। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণেও তারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। এমন একটি পারফরম্যান্সই একটি চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয় বলে মনে করি।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা অবশ্যই ফাইনালে ওঠার জন্য কৃতিত্বের দাবিদার। তবে আমার কাছে তাদের এ পর্যন্ত আসার পথটি খুব একটা দাপুটে মনে হয়নি। কেপ ভার্ডের বিপক্ষে তারা ভুগেছে, এবং মিসরের বিপক্ষে তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে দুটি গোল করে তারা জিতেছে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমরা তাদের হারানোর সুযোগ নিজেদেরই নষ্ট করেছি। আর্জেন্টিনা আমাদের হারায়নি, বরং আমরা নিজেদের ভুলের কারণে ম্যাচটি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।

ইংল্যান্ডের হারের সবচেয়ে বড় কারণ মনে হয় আমাদের মানসিকতা। এক ঘণ্টা পর্যন্ত আমরা পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি, ১-০ গোলে এগিয়েও ছিলাম। সে সময় আমাদের উচিত ছিল স্পেনের খেলা দেখে শিক্ষাগ্রহণ করা; এগিয়ে থেকেও কীভাবে বলের দখল ধরে রাখতে হয়, সাহসী হয়ে খেলতে হয় এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হয়।

এটা প্রথমবার নয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে আমরা একই ভুল করেছিলাম। সে সময়ও আমরা এগিয়ে থেকে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছি, আর সেটাকেই সাফল্য ভেবেছি। কিন্তু এভাবে বড় শিরোপা জয় করা সম্ভব নয়। আমার এলাকার কোন দলের খেলোয়াড়কে দিয়েও শুধু বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে রক্ষণ করা সম্ভব।

আমার কাছে মনে হয়, ইংল্যান্ডের সমস্যা খেলোয়াড়দের নয়, বরং মানসিকতার। আমরা যখন এগিয়ে যাই, তখন হারানোর ভয়ে ভুগতে থাকি। সেই ভয় থেকেই আসে ভুল সিদ্ধান্ত, এবং ফলস্বরূপ বড় ম্যাচে তার মূল্য দিতে হয়।

ফাইনালে তাই আমি স্পেনকেই এগিয়ে রাখছি। তাদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং ফুটবল খেলার ধরন আমার মনে একটি জোরালো বিশ্বাস তৈরি করেছে যে, এ দলটি বিশ্বকাপ জেতার যোগ্য। যদি তারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলতে পারে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, ট্রফিটি তাদের হাতেই উঠবে।

মাইকেল ওয়েন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%