ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালেমাখচিত পতাকা বিতর্ক: উগ্রবাদের শঙ্কা বনাম ঈমানী আবেগের যুক্তি


কালেমাখচিত পতাকা বিতর্ক: উগ্রবাদের শঙ্কা বনাম ঈমানী আবেগের যুক্তি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমাখচিত কিছু পতাকা টানানোর প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে অনেক তরুণ ধর্মীয় গভীর আবেগ ও অনুভূতি থেকে এসব পতাকা ব্যবহার করছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সমালোচকদের উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

বিষয়টি নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন বা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তাদের দাবি—কালেমা ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র ও মৌলিক বাণী হলেও অতীতে বিভিন্ন উগ্রপন্থী ও সশস্ত্র সংগঠন (যেমন: আইএস, তালেবান, আল-কায়েদা) একই ধরনের কালেমাখচিত পতাকা নিজেদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছে।

আরও পড়ুন: কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে গিয়ে হতাশ পর্যটকরা

এর ফলে বিশ্বজুড়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে:

নিরাপত্তা শঙ্কা: অনেক দেশে এ ধরনের পতাকা নিরাপত্তা ও চরমপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার আশঙ্কায় সন্দেহের চোখে দেখা হয়।

ভুল বার্তা যাওয়ার ঝুঁকি: শুধুমাত্র ধর্মীয় আবেগ থেকে এসব পতাকা ব্যবহার না করে এর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রতীকী অর্থ সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

জনমনে বিভ্রান্তি: কোনো প্রতীক যদি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তবে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন: রাউজানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটে সড়কে বাড়ছে ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা

ভিন্ন মত: ‘কালেমা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া প্রতীক নয়’

অন্যদিকে, একদল মানুষ এই সমালোচনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য হলো, কালেমা মুসলমানদের ঈমানের মৌলিক ঘোষণা। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের একচেটিয়া নিজস্ব প্রতীক নয়।

তাদের যুক্তি:

"কোনো উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী সংগঠন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলামের পবিত্র বাণী ব্যবহার করলেই, মহান কালেমাকে সেই সংগঠনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সাধারণ মুসলিমরা তাদের বিশ্বাসের জায়গা থেকেই এটি ব্যবহার করছেন।"

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, জেলা প্রশাসকের কৃতজ্ঞতা


বিশ্লেষকদের পরামর্শ: আবেগ বনাম বাস্তবতা

ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে কেবল আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। বরং সচেতনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মত প্রকাশ করা জরুরি।

তারা বলছেন, যেকোনো প্রতীক জনসমক্ষে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে তার ধর্মীয়, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ভোলায় গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের আগামী নির্বাচনে কি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবন শেষ হতে চলেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


ইসরাইলের আগামী নির্বাচনে কি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবন শেষ হতে চলেছে?

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জায়গায় অন্য কোনো নেতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে সেখানকার জনগণের জন্য। কারণ আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।

নেতানিয়াহু ইসরাইলের দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। কিন্তু অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের কারণে এখন পর্যন্ত তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, এবং এটি তার প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের এক তিক্ত পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারে।

এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার সঙ্গে যোগ দিতে রাজি করানোর পর তেহরান ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাদের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে।

উত্তরে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইল আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে নেতানিয়াহু একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার মার্কিন চাপ এবং অন্যদিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক মদতপুষ্টদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে আগ্রহী ইসরাইলি জনগণের মাঝে আটকা পড়েছেন।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার আগে ও পরে তার সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে একটি স্বাধীন প্রকাশ্য তদন্ত করতে না পারায় নেতানিয়াহু বিশাল জনরোষের সম্মুখীন হয়েছেন।

গাজায় পরবর্তী গণহত্যার পর, ইসরাইল তার কর্মকাণ্ডের জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক তদন্তের সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশের কাছে একঘরে হয়ে পড়েছে এবং মার্কিন রাজনৈতিক মহলে আরও সোচ্চার সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এদিকে, নেতানিয়াহু এখনও ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি, এবং এগুলিতে দোষী সাব্যস্ত হলে সম্ভবত তিনি কারাবাসে যেতে পারেন।

সর্বোপরি, ইসরাইলি নির্বাচনটি নেতানিয়াহু এবং দেশটির জন্য অন্যতম সংকটময় একটি মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোড ফ্ল্যাশেনবার্গ আল জাজিরাকে বলেছেন, মনে হচ্ছে (নেতানিয়াহু) সত্যিকার অর্থে বিপদে পড়েছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিটি জনসমর্থন পায়নি এবং লেবাননে যে ঘটনা ঘটছে, তা জনগণের কাছে একেবারেই স্পষ্ট নয়। এখানকার গণমাধ্যম থেকেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

ইসরাইলি জনগণ নিজেদের দেশের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সমর্থনের গুরুত্ব সম্পর্কে ভালভাবে অবগত। এখন, লেবানন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দেখা যাচ্ছে; ট্রাম্প যুদ্ধ কমিয়ে আনতে আগ্রহী, যাতে ইরানের সাথে শান্তি বজায় থাকে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।

ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো নতুন ইসরাইলি হামলা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

যদিও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) ইসরাইল-লেবানন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিতে নিহত প্রবাসী পরিবারকে এক বছর আগে পাঠানো হয়েছিল হত্যার হুমকির উড়ো চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


ইতালিতে নিহত প্রবাসী পরিবারকে এক বছর আগে পাঠানো হয়েছিল হত্যার হুমকির উড়ো চিঠি

ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী ও মেয়েসহ নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি কামাল উদ্দিন বাবুলকে প্রায় এক বছর আগে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বাবা সিরাজুল ইসলাম। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতমের মধ্যেই তিনি এ দাবি তুলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন স্বজন ও পরিচিতজনরা।

নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “প্রায় এক বছর আগে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম। তিনি আরও জানান, শুক্রবার (২৬ জুন) ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডে জড়িত রয়েছে নিহত বাবুলের বন্ধু একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত।  

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮)।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই নিহতদের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আহত অয়নকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

ইতালির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রোম পুলিশের বিশেষ শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রেপ্তারি এড়াতে আসামির কোপে দুই পুলিশ কর্মকর্তার আহত হওয়া, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


গ্রেপ্তারি এড়াতে আসামির কোপে দুই পুলিশ কর্মকর্তার আহত হওয়া, অতঃপর...

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অধীনে থাকা আসামিকে ধরতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রের হামলায় দুটি পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি গ্রামে।

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল লতিফ। আহতদের মধ্যে এসআই রুহুল আমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গেন্দুকুড়ি গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, যিনি ‘রাশেদ চোর’ নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে আদালত ব্যবস্থা নিয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরে এসআই রুহুল আমিন ও এএসআই আব্দুল লতিফ রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালান। কিন্তু রাশেদুল গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য দুই পুলিশ অফিসারকে লক্ষ্য করে দেশি ধারালো দা দিয়ে একাধিক কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসআই রুহুল আমীনের হাতে কবজিসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একইভাবে আঘাত পান এএসআই আব্দুল লতিফও।

এ ঘটনায় খবর পেয়ে থানার অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত এসে তাদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে এসআই রুহুল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতের মধ্যেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থা সংকটজনক অবস্থায় থাকায় অস্ত্রোপচার করতে শনিবার সকালে তাকে বেসরকারি হাসপাতাল রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডক্টরস ক্লিনিক) ভর্তি করা হয়।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ডা. আনারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এসআই রুহুল আমীন অত্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী জানিয়েছেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আসামির হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ যথাযথভাবে নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি জয়নুল আবেদিন ফারুকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি জয়নুল আবেদিন ফারুকের

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সরকারের অর্থমন্ত্রীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য ভাতা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক। একইসাথে তিনি মন্তব্য করেন, যদি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে দেশের ইতিহাসে সরকারের একটি স্মরণীয় পদক্ষেপ।

আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।

বক্তব্যের শুরুতে, জয়নুল আবেদিন ফারুক একটি ‘সুন্দর বাজেট’ উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক আত্মত্যাগকে স্মরণ রাখতে হবে, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও কখনো ভোলা যাবে না। এসময় তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, ‘অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।’

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসাথে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ উদ্যোগ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে তাঁর মত।

নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপেরও তিনি প্রশংসা করেন। অতিরিক্ত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংসদের সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার উপরও তিনি মন্তব্য করেন।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, অতীতে বহু বাজেটের সময় ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান শোনা গেলেও এবার সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, বিরোধীরা অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবেন, তবে তা হওয়া উচিত গঠনমূলক। ‘সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব। কিন্তু সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে,’ বললেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ইতিহাস, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে। ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ এই প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%