ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৈয়দপুর লায়ন্স কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান


সৈয়দপুর লায়ন্স কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান

নীলফামারীর সৈয়দপুরে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শহরের বিমানবন্দর সড়কের প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের সভাপতি লায়ন মো. জাকির হোসেন মেনন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের সহ-সভাপতি লায়ন আলী ইমাম এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন হাসান ইমাম। সভাপতিত্ব করেন লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লায়ন আলহাজ মো. শফিয়ার রহমান সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল জেহাদী এবং সহকারী অধ্যাপক নাছিমা সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লায়ন আনোয়ার আলী, লায়ন মো. আবুল খায়ের মোল্লা, লায়ন শাহানা আজহারসহ কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। উপাধ্যক্ষ (কলেজ) মো. সাজ্জাদ হোসেনের সার্বিক পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহী ও লাবিব। নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহেদুল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠানে লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের কর্মকর্তা ও সদস্য, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, উল্লেখ্য যে, লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুর পরিচালিত লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির তিন বিভাগে মোট ৩৫২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫৭ জন, মানবিক বিভাগে ১৩৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন অস্ত্রসহ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪১ এম


পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন অস্ত্রসহ গ্রেফতার

ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : আজ রামপুরা থানাধীন টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসআরবি-৩ এর একটি দল পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে।

এই অভিযানে পিচ্চি আলামিনের কাছ থেকে ১টি বিদেশি রিভলভার এবং ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পিচ্চি আলামিন রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী এলাকায় অবস্থিত ‘গ্রীনজোন অনলাইন’ নামক একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটির কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দেয়।

এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলার অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিলমারীতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ এম


চিলমারীতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি

প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে এক নড়বড়ে সেতু পার হতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ব্যবহার করতে হচ্ছে। চার দশকের পুরোনো সেতুটির সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, এবং সুরক্ষার কোনো নিশ্চয়তা নেই। নিচে গর্জে ওঠা তিস্তা খাল এবং ওপরে প্রতিদিনের এই মরণফাঁদ পেরিয়েই চিলমারী ও পার্শ্ববর্তী উলিপুর উপজেলার বাসিন্দাদের উপজেলা সদর, বাজার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে হয়। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বালাবাড়িহাট থেকে সাদুল্লাগামী সড়কের তিস্তা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির বর্তমান অবস্থা এমন। ১৯৮০ এর দশকে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাত বছর কেটে গেলেও সেতুটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়ার ফলে দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এই পথ দিয়ে সিঙের ভিটা, নালারপাড়, হাজিপাড়া, চাচিয়ারপাড়, উত্তর সাদুল্যা, দক্ষিণ সাদুল্যা ও উমানন্দসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে এবং কিনারা ভেঙে গেছে। বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে। অটো, রিকশা ও অন্যান্য হালকা যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে ও হেলেদুলে সেতু পার হচ্ছে। প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করা শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, "সেতু পার হতে খুব ভয় করে। দীর্ঘদিন ধরে শুনছি নতুন সেতু হবে, কিন্তু কোনো কাজ হতে দেখছি না।"

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মাহবুব আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "সাতটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই পথ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।" এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের জন্য ইতিপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) পক্ষ থেকে মাপজোক করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ আটকে যায় বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক জটিলতা ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে নতুন সেতু নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাইদুর রহমান বলেন, "সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছেন। সেতুর পাশাপাশি সংযোগ সড়কের অবস্থাও নাজুক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) প্রদীপ কুমার বলেন, "আমি সম্প্রতি চিলমারীর দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।" তবে সম্প্রতি বদলী হওয়া কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী বলেন, "উক্ত সেতুটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিটফোর্ডে ডাক্তারদের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখা, দালালচক্রের জিম্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ এম


মিটফোর্ডে ডাক্তারদের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখা, দালালচক্রের জিম্মি

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের চারপাশে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালালচক্র এবং অবৈধ ক্লিনিক বাণিজ্য। অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় রোগীদের সেবা না দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখছেন।

অন্যদিকে, হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্র দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বাইরের অর্ধশতাধিক মানহীন ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ রোগীরা নামমাত্র চিকিৎসা ও প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিক ও শারীরিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। হাসপাতালটিতে নিয়মিত চুরির ঘটনাও ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিটফোর্ড এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের ১৫ থেকে ২০০ গজের মধ্যে প্রায় ১৫-২০টি এবং কোতোয়ালি-চকবাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের পাশে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, মেডিসান হেলথ কেয়ার, ডক্টরস ক্লিনিক; ২ নম্বর গেটের মুখে আল আরাফাত, বাঁধন, ম্যাক্স এইড, নিউ ঢাকা মডার্ন ও ঢাকা হাসপাতাল এবং ১ নম্বর গেট সংলগ্ন মুনলাইট, ইস্টার্ন ডায়াগনস্টিক ও মেডি লাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল। এসব ক্লিনিকের ভবনের নিচে সারিবদ্ধ দোকান, কেমিক্যাল গোডাউন এবং ওপরেই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যূনতম নির্দেশনা মানছে না এবং নেই ভৌত অবকাঠামোও। পর্যাপ্ত ডিউটি ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, টেকনিশিয়ান কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নেই। মূলত সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে এনে ব্যবসা করাই এসব ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য।

আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর প্রচারসামগ্রী ও চিকিৎসক তালিকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের নাম ব্যবহারের বিষয়টিও দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরিচয় ব্যবহার করে রোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা হয়। এরপর দালালের মাধ্যমে রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। একাধিক রোগীর স্বজনের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়েছে।

সরেজমিনে বেলা ১টা ২০ মিনিটে মিটফোর্ড হাসপাতালের বর্হিবিভাগের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ তানভীরকে হাসপাতালের পাশের ‘ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে’ রোগী দেখতে দেখা যায়। অথচ ওই সময়ে তার সরকারি হাসপাতালে ডিউটিতে থাকার কথা ছিল।

একই সময়ে শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকার এবং মেডিসিন বিভাগের আরও তিন চিকিৎসককে ওই ক্লিনিকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালে রোগী সংগ্রহ করার পর কল দিলেই চিকিৎসকেরা চা-শিঙারা খাওয়ার অজুহাতে ডিউটি ফেলে ক্লিনিকে ছোটেন। দালালরাও ওৎ পেতে বসে থাকে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে রোগী ভাগাতে।

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার আশায় এসে দালালচক্রের ফান্দে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ থেকে আগত রোগী আব্দুল মজিদ (৭৫)। চিকিৎসার নামে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিটফোর্ড হাসপাতালের বাইরে গড়ে ওঠা মেডিসান ক্লিনিকে। সেখানে অপ্রয়োজনীয় ও চড়া মূল্যের টেস্টের বোঝা চাপিয়ে এই অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি দেউলিয়া করে ছেড়েছে চক্রটি।

ভুক্তভোগী মজিদ জানান, পিত্তথলির পাথর ও তলপেটের ব্যথার নিয়ে কষ্ট করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে এসেছিলাম ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু বহির্বিভাগে টিকিটের লাইনে দাঁড়ানোর পর থেকেই একাধিক দালাল কম খরচে ও দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।

একপর্যায়ে না বুঝে তাদের কথায় বিশ্বাস করে হাসপাতালের বাইরে ক্লিনিকে যান মজিদ। সেখানে নেওয়া মাত্রই শুরু হয় নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খেলা। মজিদের শারীরিক পরিস্থিতি বোঝার নামে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট দেওয়া হয়। নিজের জমানো শেষ সম্বল এবং সঙ্গে থাকা সামান্য টাকা পুরোটাই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অর্থ খরচের পরও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা।

সর্বস্ব হারিয়ে কান্নাভেজা চোখে মজিদ বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভাবছিলাম কম খরচে চিকিৎসা পাব। দালালরা আমাকে ফুসলিয়ে বাইরে নিয়ে গেল। যা টাকা-পয়সা ছিল সব টেস্টের নামে কাইড়া নিয়েছে। এখন আমার কাছে বাড়ি ফেরার ভাড়াও নাই, চিকিৎসাও পেলাম না।

মিটফোর্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন মজিদ মিয়ার মতো শত শত গ্রামীণ ও দরিদ্র রোগী এভাবে দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের ভেতরের ভিড় ও চিকিৎসকদের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে চক্রটি রোগীদের বাইরে পাঠায়। সেখানে ক্লিনিকে অনৈতিক চুক্তি অনুযায়ী কমিশন পাওয়ার লোভে ভুয়া ও নিম্নমানের প্যাথলজি টেস্ট করিয়ে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক শিথিলতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক গলেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এসব চক্র। অবিলম্বে এই দালালচক্র ও লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কড়া টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান না চালালে মজিদ মিয়ার মতো হাজারও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিতে এসে নিঃস্ব হওয়ার মিছিল থামবে না।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর নেতা ও নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অফিস সময়ে এভাবে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখা ১৯৮২ সালের দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্স-এর ৪ নম্বর ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। চিকিৎসকদের এই অনিয়মের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসা না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সমগ্র দেশের ডাক্তারদের বদনাম হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এসব অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধের মাধ্যমে দালালচক্রকে কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ এইচ এম এ রুস্তম বলেন, ‘অফিস চলাকালীন কোনো চিকিৎসক বাইরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাসপাতালের চুরি ও দালালদের উপদ্রব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দালাল ও চুরি প্রতিরোধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে চোরেরা প্রায়ই স্বজন সেজে হাসপাতালের ভেতরে ঢোকে, ফলে আনসারদের শনাক্ত করতে কষ্ট হয়। তবুও নিয়মিত চোর ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে। রোগী ও তাদের স্বজনদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কফি দিবসে নেসক্যাফের যুব উৎসবে ১০ নতুন ভ্যারিয়েন্টের উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ এম


কফি দিবসে নেসক্যাফের যুব উৎসবে ১০ নতুন ভ্যারিয়েন্টের উন্মোচন

আন্তর্জাতিক কফি দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি (বিআইসিসি) হল-১-এ একটি বর্ণাঢ্য কফি উৎসবের আয়োজন করেছে নেসক্যাফে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই উৎসবে তরুণদের জন্য সংগীত, গেমিং, কফি টেস্টিং এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় কার্যক্রম ছিল। একই সাথে, নেসক্যাফের থ্রি ইন ওয়ান লিমিটেড এডিশনের ১০টি বিশেষ ভ্যারিয়েন্টের নতুন প্যাক উন্মোচন করা হয়।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে বিভিন্ন বয়সী কফিপ্রেমী এবং তরুণরা অংশগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় শিল্পী প্রীতম হাসান এবং ব্যান্ড লেভেল ফাইভ লাইভ পারফরম্যান্স করেন। অতিথিদের জন্য কফি টেস্টিংয়ের সুযোগও ছিল।

বিনোদনের অংশ হিসেবে পিএস-৫ গেমিং, ক্যানভাস ও ডুডলিং, ক্রিয়েটর চ্যালেঞ্জ এবং পোলারয়েড বুথসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে দর্শনার্থীরা নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ পান। পুরো আয়োজনজুড়ে ছবি তোলার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও ছিল।

এছাড়া, উৎসবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাবা খান, রাকিন আবসার এবং মাহিম মেকস উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে দর্শনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং ক্রিয়েটরভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%