মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
০৪:২৭ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় একই দিনে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান, পৃথক জানাজা এবং দাফনের মধ্য দিয়ে তাঁদের শেষ বিদায় জানানো হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওসমান গনি ঢাকা শহরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নাখারগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের সফরটারী গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইদ্রিস আলী (৬৮) ৩০ জুলাই রাত ৮টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। শুক্রবার বিকাল ৩টায় সফরটারী কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
উভয় অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনারের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা রতন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, নাগেশ্বরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বদরুজ্জামান রিশাদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নূর ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সংসদ সদস্য মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বীর সন্তানদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। তাঁদের বিদায়ে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বদরুজ্জামান রিশাদ বলেছেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নূর ইসলাম বলেছেন, আজ আমরা আমাদের দুইজন সহযোদ্ধাকে হারালাম। তাঁদের দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। আমরা তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে তুরস্কের জন্য ফরমাশ করা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান 'ইউরোফাইটার টাইফুন' যুদ্ধবিমানের উৎপাদন কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'বিএই সিস্টেমস'। সম্প্রতি প্রকাশিত কোম্পানির চলতি বছরের প্রথমার্ধের আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে প্রথম ধাপে বিমানগুলোকে ইস্তাম্বুলের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া বিএই সিস্টেমস যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকেও একটি চুক্তি পেয়েছে। এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিমানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহায়তা সরঞ্জাম এবং সেবা প্রদান। উল্লেখ্য, তুরস্ক ২০২১ সালের অক্টোবরে বিমানগুলোর জন্য ফরমাশ দিয়েছিল।
বিএই সিস্টেমস তাদের অর্ধবার্ষিক বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেছে, ২০২১ সালের অক্টোবরে ফরমাশ করা তুরস্কের ২০টি টাইফুন বিমানের জন্য প্রশিক্ষণ, সহায়তা সরঞ্জাম এবং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে একটি চুক্তি পাওয়া গেছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোফাইটার প্রকল্পের অংশীদার দেশগুলোতে ইতোমধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান এবং ২০৩০ সালের জন্য বিমানগুলোর হস্তান্তরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় রয়েছে তুর্কি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা। বিএই সিস্টেমস জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বিষয়ক এই চুক্তির মূল্য প্রায় ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (৩.৩৬ বিলিয়ন ডলার)। তুরস্ক ও যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৬ সালের মার্চে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। এটি মূলত ২০২৫ সালে সম্মত হওয়া টাইফুন যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তির একটি সম্প্রসারিত অংশ। এই চুক্তিতে প্রধান ঠিকাদার হলো বিএই সিস্টেমস।
কোম্পানিটি যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতের কাজ করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাও প্রদান করবে। ব্রিটিশ কোম্পানিটির আশা, যুদ্ধবিমানগুলো পরিষেবায় যুক্ত হওয়ার পর প্রথম তিন বছর এই সহায়তা কার্যক্রম চলবে। এর আওতায় পাইলট, প্রকৌশলী এবং রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ, তুরস্ক ও যুক্তরাজ্য একটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে 'ইউরোফাইটার টাইফুন' বহরের জন্য কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন ২০টি যুদ্ধবিমান পর্যায়ক্রমে তুর্কি বিমানবাহিনীতে যুক্ত হবে। ২০৩০ সালে ছয়টি বিমান আসার কথা রয়েছে। এক বছর পর ২০৩১ সালে আসবে আরও আটটি এবং সবশেষে ২০৩২ সালে আসবে বাকি ছয়টি বিমান। এই সরবরাহের প্যাকেজে আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমি লক্ষ্যভেদী গোলাবারুদ ও মিশন পড অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলের জানিয়েছেন, এই প্যাকেজে 'মিটিওর' বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ (দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যভেদী) আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া, তুর্কি কর্মীরা আসন্ন আগস্টে যুক্তরাজ্যে যাবে প্রশিক্ষণের জন্য। তারা ইউরোফাইটার টাইফুন পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ নেবেন। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ১০ জন তুর্কি প্রশিক্ষক পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং প্রায় ১০০ জন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষককেও প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। পরবর্তী বছরগুলোতে আরও পাইলট ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য সেখানে পাঠানো হবে।
এর লক্ষ্য হলো তুর্কি বিমানবাহিনীকে আগে থেকেই প্রস্তুত করে তোলা। কর্মকর্তারা চান ২০৩০ সালে প্রথম নতুন জেটটি আসার আগে এর পরিচালনগত ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকুক। চলতি বছরের ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেছিল। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোফাইটার (ইএফ) সংগ্রহের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ফ্লাইট-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যুক্তরাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এরপরই সেখানে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী বছরগুলোতেও যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের পাঠানো অব্যাহত থাকবে। কাতার ও ওমানের কাছ থেকে ব্যবহৃত 'ইউরোফাইটার টাইফুন' যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে তুরস্ক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন যুদ্ধবিমান হাতে না আসা পর্যন্ত নিজেদের যুদ্ধবিমানের চাহিদা মেটানোই এর পরিকল্পনা।
কাতার 'ইউরোফাইটার টাইফুন ট্রাঞ্চ ৪' মডেলের বিমান ব্যবহার করে, যা গত কয়েক বছর আগে কেনা হয়েছিল। কাতার তুরস্ককে এ ধরনের ১২টি বিমান সরবরাহ করতে যাচ্ছে। তুরস্ক আশা করেছিল, ব্যবহৃত বিমানগুলো দ্রুতই হাতে পাবে। তবে জানাগেছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে এই সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে গেছে।
ব্যবহৃত এই বিমানগুলো মূলত অন্তর্বর্তীকালীন চাহিদা পূরণের জন্য নেওয়া হচ্ছে। নতুন ইউরোফাইটার টাইফুন বিমানগুলো পরিষেবায় যুক্ত না হওয়ার আগপর্যন্ত এগুলো তুর্কি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সহায়তা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের অবৈধ বিক্রি প্রতিরোধ করতে অভিযান চালিয়ে ৪৬৪টি বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগ। এই অভিযানের সময় তিন বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের নাম হল রবিউল ইসলাম (৪০), মো. আজাদ (৩০) এবং মো. রাজন (৩৪)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাজধানীতে সংঘটিত ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে রেখে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএমপি। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদের পরিকল্পনায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের (এডিসি) নেতৃত্বে বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ মার্কেট লিংক রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এই অভিযানে মোট ৪৬৪টি বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বড় চাপাতি, বড় ছুরি, সুইচ গিয়ার চাকু, কমব্যাট নাইফ, আসল পিস্তলের আদলে তৈরি খেলনা পিস্তল, ইলেকট্রিক শক গান, চাইনিজ কুড়াল এবং ব্যাটন স্টিক।
অভিযানের সময় ওই তিন বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়। নিয়াজ মেহেদী আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্রের বিক্রি ও ব্যবহার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় নজিরবিহীন সংখ্যক অভিবাসীর অনুপ্রবেশের ঘটনার পর সেখানে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ মরক্কো থেকে সীমান্ত পেরিয়ে সিউটায় প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সীমান্ত অনুপ্রবেশের ঘটনা। একই সময়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, অর্থাৎ হঠাৎ বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর আগমনে স্থানীয় প্রশাসন চাপে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মরক্কোর সঙ্গে স্পেনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের অধিকাংশই সীমান্তের বাধা অতিক্রম করতে গিয়ে সাঁতরে যাওয়ার সময় ডুবে মারা গেছেন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সীমান্তে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্পেনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এ ঘটনায় ইউরোপের অন্যান্য দেশেও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতালি ইউরোপের বহিঃসীমান্ত রক্ষায় ‘অসাধারণ ব্যবস্থা’ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইউরোপের কিছু রাজনীতিক এই অভিবাসন সংকটকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ওপর একটি বহুজাতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই নেটওয়ার্কের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের মাহান এয়ার এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানিয়ে দিয়েছে, ছয় ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাহান এয়ারকে আর্থিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাহান এয়ার বেশ কয়েক বছর ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের পরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি অস্ত্র, সেনাসদস্য ও ড্রোন পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। তবে ইরান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট মন্তব্য করেছেন, যারা আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক, বাণিজ্যিক বা লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় শামীল হয়েছে চীনের সাংহাই উইংস ইন্টারন্যাশনাল লজিস্টিকস কম্পানি, সাংহাই এলিট ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল কোম্পানি এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ট্যাং শিন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সাংহাই উইংস চীন থেকে ইরানে ইলেকট্রনিক পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করত এবং মাহান এয়ারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সহায়তা করতো।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে ভারতের স্কাইজ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড লজিস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেড এবং রাশিয়ার এয়ার কার্গো প্রো লিমিটেড। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি মাহান এয়ারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, পণ্য পরিবহণ ও লজিস্টিকস সেবায় সহায়তা করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আরও জানিয়েছে, ইরানের ডেডনেগার নামক একটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানটি আইআরজিসির আড়াল হিসেবে কাজ করতো এবং গোয়েন্দা তৎপরতায় সহায়তা করত। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে বাণিজ্যিক জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চলমান কয়েকটি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তি জব্দ করা হবে। এছাড়া মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে সমস্ত ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে।
এছাড়া, পরোক্ষ বা ‘সেকেন্ডারি’ নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ হারাবেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং দেশটির সামরিক ও আঞ্চলিক কার্যক্রমে সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলোকে দুর্বল করাই নতুন নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ