ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাইকা-সহায়তাপ্রাপ্ত ভবন নিরাপত্তা প্রকল্পে এনপিএল শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক


জাইকা-সহায়তাপ্রাপ্ত ভবন নিরাপত্তা প্রকল্পে এনপিএল শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

 তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে কারখানার ভবন নিরাপত্তা উন্নয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সহায়তাপ্রাপ্ত ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্টের (ইউবিএসপি) আওতায় অর্থায়ন ত্বরান্বিত করতে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (পিএফআই) জন্য খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সংক্রান্ত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার প্রকল্পটির কম্পোনেন্ট-১-এর আওতায় ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট (বিডি-পি৮৪)’-এর পরিচালনা নির্দেশিকা (অপারেটিং গাইডলাইন) সংশোধন করে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, পরিচালনা নির্দেশিকার ৪.১(৬) ধারা সংশোধন করে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্যানসার সচেতনতায় বাকৃবিতে সিসিআরটিবির ক্যাম্পাস চ্যাপ্টার গঠনের উদ্যোগ, আবেদন ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ভবন নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নে সক্ষম আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিধি বাড়িয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করতেই এ সংশোধন আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে কারখানার সংস্কার, নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং কর্মপরিবেশের মানোন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ঋণ বিতরণ দ্রুততর হবে। এর মাধ্যমে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট (এসএমইএসপিডি) জাইকার প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের (পিআইইউ) সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সার্কুলারে অংশগ্রহণকারী সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংশোধিত বিধান অবিলম্বে তাদের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সংশোধিত এ বিধান ছাড়া পরিচালনা নির্দেশিকার অন্যান্য সব শর্ত ও বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।

আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে নৃশংসভাবে ৬ খণ্ড করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে নৃশংসভাবে ৬ খণ্ড করে হত্যা

ঢাকার মহাখালী এলাকায় স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করানোর কারণে হত্যা করে তাঁর মরদেহ ছয় টুকরো করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, মরদেহ গুমের দায়ে ফাতেমার ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়েছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির।

রায় ঘোষণা করার সময় ফাতেমাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণগুলো থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে সাড়ে ১০টার সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকার নীল রঙের ড্রামের মধ্যে বনানী থানা-পুলিশ একজন পুরুষ ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই রাতে ১১টার পরে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টার এলাকায় একটি ব্যাগের ভেতর থেকে উরু থেকে খণ্ডিত দু’টি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দু’টি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ।

মোট দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থানে লাশের ছয় টুকরো উদ্ধার করা হয়।

শুধুমাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ফাতেমা পুলিশকে জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহ, অর্থ-বণ্টন ও একাধিক বিয়ে নিয়ে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করেন যে তিনি তাঁর অটোরিকশা চালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করবেন এবং পরে তাঁকে জবাই করে লাশ ছয় টুকরো করবেন। একটি লাল কাপড়ের ব্যাগে মাথা এবং শরীরের মূল অংশকে একটি নীল পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে রেখে দেন ফাতেমা। এরপর ১ হাজার ৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলেন। পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত এবং দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে বাসায় চলে যান। সেখান থেকে খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগটি বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দেন এবং তারপর বাসায় ফিরে আসেন।

এই ঘটনার সাথে জড়িত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমাকে অভিযুক্ত করে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালতে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলতে থাকাকালীন আদালতে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও আইসিআইএমওডির যৌথ অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও আইসিআইএমওডির যৌথ অঙ্গীকার

 বাংলাদেশ ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) যৌথভাবে একটি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে যা জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সুশাসন জোরদার করার উদ্দেশ্যে।

আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং আইসিআইএমওডি-এর মহাপরিচালক পেমা গ্যামশো-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আয়োজিত বৈঠকে, আইসিআইএমওডি-এর মহাপরিচালক বাংলাদেশের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করে জানান যে, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, বিশেষ করে হিমবাহ-গঠিত নদী ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যৌথ পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত আন্তঃসীমান্ত কর্মপরিকল্পনা অত্যাবশ্যক এবং আইসিআইএমওডি-এর মধ্যমেয়াদি মূল্যায়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।

বৈঠকে, আইসিআইএমওডি -এর ‘ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশে মনোনীত করার জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। মন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নিয়ে যাবেন।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের আইসিআইএমওডি -এর বোর্ড সভায় অংশগ্রহণ এবং সংস্থার মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

উভয় পক্ষই পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর উৎপত্তি প্রতিবেশী দেশগুলোতে হওয়ায়, আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং পর্বত-থেকে-বদ্বীপ (mountain-to-delta) বাস্তুতন্ত্রের টেকসই ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। বৈঠকটি বাংলাদেশ ও আইসিআইএমওডি-এর মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের প্রতি সন্তোষ প্রকাশকৃত এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও গভীর করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


পটুয়াখালীতে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন

জেলার বাউফলে ৬ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ধানের বীজ, সবজির বীজ, ফলদ ও বনজ চারা এবং রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা ও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এ সব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

প্রধান অতিথি বলেন, ‘কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত হলে দেশ আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, খরিপ-২ মৌসুমের এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে উফশী আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেয়া হবে। এছাড়া ১ হাজার ৫০৫ জন কৃষকের মাঝে লেবুসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হবে। একই কর্মসূচির আওতায় ৩৫০ জন কৃষককে হাইব্রিড মরিচের বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ৮৫৫ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এ কর্মসূচির লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেদোয়ান তালুকদার জুনিয়র, কৃষি অফিসার মো. ফোরকান, বাউফল জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক কৃষক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকসই উত্তরণে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


টেকসই উত্তরণে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এলডিসিতে উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়, বরং একটি টেকসই ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘উত্তরণের জন্য এই অতিরিক্ত সময় আমাদের বিভিন্ন কারণে প্রয়োজন। আমরা বিলম্ব চাই না; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য এই সময় প্রয়োজন।’

আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ প্রিপার্ডনেস ফর এলডিসি গ্রাজুয়েশব এন্ড রেশনাল ফর এক্সটেনশন অব দি প্রিপারেটরি প্রিয়ড’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ সেমিনারের আয়োজন করেছে।

মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’র কাছে বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময় তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রস্তুতিমূলক সময়ে বাংলাদেশ একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্নতা। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। সুতরাং, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস পরিচালিত গ্র্যাজুয়েশন প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যথেষ্ট অনুকূল নয়। অতএব, অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময় প্রয়োজন।

আমরা ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার সমন্বিত একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, ডিরেগুলেশন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছি। যাতে ১৫তম দিনে কোনো প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারে।’

তিনি আরও জানান, ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা ও ওভারল্যাপ চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এভাবে ব্যবসা করার সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর জন‍্য কাজ চলছে।

সেমিনারে জানানো হয়, সরকারের গঠিত জাতীয় গ্র্যাজুয়েশন মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি এবং পাবলিক-প্রাইভেট টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি ও দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেয়াদ বৃদ্ধি ও উন্নয়ন অংশীদারদের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কাঠামোগত ও আন্তর্জাতিকভাবে বিদ্যমান প্রধান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি সুষ্ঠু ও টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকার ও প্রস্তাবিত প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির সময়টি কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত গতিশীল বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গতি যেন থেমে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুযোগ ও সম্ভাবনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (ইঅচও)-এর সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) গীতাঞ্জলি সিং, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’র সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, ফুটওয়্যার লেদারগুডস এন্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মহ্জুর, বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিবৃন্দ।

এছাড়া সুইডেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতরাও সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ টেকসই এলডসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন এবং করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, বেসরকারি খাত, থিংক ট্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)-এর নিকট এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ ও বিদ্যমান পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি) ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর নিকট দাখিল করেছে। এখন ইকোসক বর্ধিত প্রস্তুতিকাল নিয়ে এই বিষয়ে বিবেচনা করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে এলডিসি হতে বাংলাদেশের উত্তরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতি কার্যক্রম ও তা বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি এবং সুষ্ঠু ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে এই প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনদের অবহিত করার লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%