বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৮ পি.এম
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে নতুন দাম এখন লিটারপ্রতি ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার রাত ১২টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, বিইআরসি এর ২২ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েলের সিআইএফ মূল্যের ভিত্তিতে, ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে বিইআরসি আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এর অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হয়েছে।
এছাড়া, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, এই আদেশ ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী কোনো আদেশ না আসা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
এর আগে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের প্রতি লিটারের দাম ছিল ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ক্যাম্পাসকে এমনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে। উপাচার্য আরও জানান, নতুন ক্যাম্পাসকে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ‘ডেভেলপিং স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর সাসটেইনেবল গ্রিন ক্যাম্পাস অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী এবং অর্থনীতি শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার।
বিশেষজ্ঞরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সবুজায়ন, আশেপাশের পর্যটনশিল্পের কারণে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন ক্যাম্পাসকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই একটি গ্রিন ক্যাম্পাসে পরিণত করা।" তিনি জানান, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ক্যাম্পাসে প্রায় পাঁচ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা প্রথম ক্যাম্পাসে পাহাড় ও প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে স্থাপনা নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
তিনি আরও জানান, নতুন ক্যাম্পাসে যাওয়ার ছয় মাস বা এক বছর আগে থেকেই পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে চান। প্রযুক্তির ব্যবহার, কার্যকর নীতিমালা, পর্যাপ্ত বাজেট এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চান, যা দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Learn, Create, Connect and Lead’ এই চারটি মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ক্যারাম দল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার শিরোপাজয়ী দলের দুই খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজার, কোচ ও টিম পরিচালকদের ব্লেজার পরিয়ে দেন।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ভিসির সচিবালয়ের সভাকক্ষে চ্যাম্পিয়নদের ব্লেজার পরিধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া উন্নয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলকে ব্লেজার পরানো হয়।
ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। ছেলেদের দ্বৈত ইভেন্টে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং সেমিফাইনালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (কুয়েট) পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছায় বাকৃবি। ফাইনালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি ২-০ সেটে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাকৃবি দল।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি.এম. মুজিবর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুল হক সজল উপস্থিত ছিলেন। চ্যাম্পিয়ন দলের ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার, দলের কোচের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহীন হালিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচালক ও চ্যাম্পিয়ন দলের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাকৃবি ভিসি চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানান। পরে অংশগ্রহণকারী দুই খেলোয়াড়সহ টিম ম্যানেজার, কোচ ও টিম পরিচালকদের ব্লেজার পরানো হয়।
চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়রা জানান, "প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অনেক ভালো লাগছে। এর আগে বাকৃবি ক্যারামে অংশগ্রহণ করেনি। আমাদের কাছেও আনএক্সপেক্টেড ছিল। একক খেলাতে রেজাল্ট করতে পারিনি, আয়োজকদের থেকে আনফেয়ার ছিল। দ্বৈত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এটা ভালো লাগছে বিগত কয়েকটি ইভেন্টে বাকৃবি ২য় তৃতীয় হলেও চ্যাম্পিয়ন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পেরে নিজেদেরকে গর্বিত মনে করছি।"
ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জি.এম. মুজিবর রহমান মন্তব্য করেন, "আমাদের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আজকের চ্যাম্পিয়নদের থেকে অনুপ্রাণিত হবে। দুইজন খেলোয়াড়কে বলবো যারা প্রতিভাবান তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে প্রসপেক্টিভ খেলোয়াড়দের কিভাবে ক্রীড়ায় আনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন আমরা কাজ করে যাবো।"
বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, "বাকৃবি চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যারা অবদান রেখেছো তাদেরকে অভিনন্দন। আমাদের উদ্দেশ্য ছাত্ররা লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এগিয়ে আসুক। কারণ খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম অনুষঙ্গ।"
তিনি বলেন, "হলে হলে ক্রীড়া আয়োজনের তাগিদ দিয়ে আমাদের ঘরোয়া খেলা শুরু করতে হবে। প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়কে এব্যাপারে পদক্ষেপ জরুরি নিতে হবে। সামনে শীতকাল আসতেছে, প্রতি হলের প্রভোস্টবৃন্দ শীতকালীন খেলার আয়োজন করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বাইরে সময় কাটানোর চেয়ে বিনোদন খুঁজে পাবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কমলনগরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগণের চিকিৎসা সেবার একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান হলো কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে, এই সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে সেবা, যা চার লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য।
টেকনিশিয়ানের অভাবে হাসপাতালের কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের দুটি এক্স-রে মেশিন। এর ফলে দরিদ্র রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দ্রুত এক্স-রে সেবা চালুর জন্য টেকনিশিয়ান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে করইতলা এলাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়, যাতে প্রান্তিক জনগণের চাহিদা পূরণ করা যায়।
২০০২ সালে হাসপাতালের প্রথম এনালগ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু, ২০০৭ সালে টেকনিশিয়ান বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।
করোনা মহামারির সময়, ২০২০ সালের শেষের দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল এক্স-রে’ মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। যদিও মেশিনটি যথাযথভাবে স্থাপন করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান না পাওয়ার কারণে নতুন ডিজিটাল ও পুরানো এনালগ—দুটি এক্স-রে মেশিনই বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
হাসপাতালে ভাঙা পা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দিদার ও আবু সায়েদ জানান, দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর ডাক্তার এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের মেশিন বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়েছে। যেখানে নামমাত্র খরচে এক্স-রে করানো সম্ভব ছিল, সেখানে বাইরে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছে। তারা বলেন, "হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকা সত্ত্বেও আমরা সুবিধা পাচ্ছি না।"
চরপাগলা এলাকা থেকে আসা রোগী সৈয়দ আহাম্মদও একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "দুর্ঘটনায় বুকে আঘাত পেয়েছি। হাসপাতালে আসলে এক্স-রে লাগবে বলে চিকিৎসক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। যদি এই হাসপাতালে এক্স-রে সুবিধা থাকতো, তাহলে এমন দুর্ভোগ হতো না।"
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "এক্স-রে মেশিন আছে। কিন্তু টেকনিশিয়ানের অভাবে এগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে আবারও ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখা হচ্ছে। বুধবার দুপুরে হলের গেটে নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু করে হল প্রশাসন।
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী জানালেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লিখিত কোনো আবেদন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিখিত আবেদন আমাদের কাছে নেই। মৌখিকভাবে বারবার এসে তারা আমাদের বিরক্ত করছে। অভিভাবকেরা বিভ্রান্ত হন। তাদের সার্টিফিকেটে এক নাম, আর বলা হচ্ছে আরেক নাম। এখন শুধু শেখ মুজিবুর রহমান হল লেখা হবে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের মূল ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ওই নাম পরিবর্তন করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবিতে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ডাকসু নেতারা।
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার সুপারিশ করা হয়।
তবে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। এ সময় প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ