০৫:৫৪ পি.এম
প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি নেই।
বৃহস্পতিবার, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদ্দেশে একটি চিঠিতে জন হিলি তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই চিঠিটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে চিঠিতে জন হিলি বলেছেন, বর্তমান সময়ে যখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং হুমকি বেড়ে চলেছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সম্পদ দেওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ইরান পরমাণু চুক্তি বজায় রেখেছে: উপপ্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি
তিনি লিখেছেন, “দেশকে রক্ষার জন্য যে সম্পদের প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে আপনি সক্ষম হননি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি দিতে অনিচ্ছুক ছিল।”
গত কয়েক মাস ধরে ব্রিটেনে প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্ত গত বছর থেকে প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়ারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
এই বিলম্ব কারণে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে একটি অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের প্রতিরক্ষা দায়িত্ব থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পরেও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, যার ফলে তারা সমস্যায় পড়ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ব্রিটেনের ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির চাপ পড়েছে। তবে একই সময়ে দেশে অর্থনৈতিক চাপ ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নীতির কারণে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।
আরও পড়ুন: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত আইএইএ, দাবি গ্রোসি
জন হিলির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ কিয়ার স্টারমারের সরকারের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে এখন নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন