ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত আইএইএ, দাবি গ্রোসি


ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত আইএইএ, দাবি গ্রোসি

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পরমাণু কার্যক্রম যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতির অধিকাংশই সম্পন্ন করেছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হবে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় গ্রোসি উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য যে কারিগরি কাজের প্রয়োজন, তার অধিকাংশই সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তিনি বলেন, “আইএইএ প্রস্তুত।”

গ্রোসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন এবং মধ্যস্থতার উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার, ওমান ও মিসরের ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, “কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ও স্থিতিশীল সমাধান সম্ভব নয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইএইএর মাধ্যমে যাচাই নিশ্চিত করা আবশ্যক।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

এসময় সিরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানান আইএইএর মহাপরিচালক।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার সব পরমাণু উপাদান এখন আইএইএর নজরদারির আওতায় রয়েছে।

গ্রোসি আশা প্রকাশ করেন যে, সিরিয়ার ক্ষেত্রে অর্জিত এই অগ্রগতির মতো ইরানের সঙ্গেও একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এএম

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুরে রাশিয়ার কালিনিনের চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


রূপপুরে রাশিয়ার কালিনিনের চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

আধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরমাণু থেকে নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এর একটি বড় উদাহরণ হলো রাশিয়ার কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা চার দশক ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছে। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়েছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি থাকা যথেষ্ট নয়, আদর্শ নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলাও প্রয়োজন।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে উদোমলিয়া শহর অবস্থিত। ২৫ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের এই শহরের জনজীবন অন্যান্য এলাকার মতোই স্বাভাবিক। সবুজে ঘেরা পার্কে কেউ অবসর কাটাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত খেলাধুলায়। স্বচ্ছ পানির লেকে সাঁতার কাটা ও মাছ ধরায় সময় পার করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সেই লেকের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট।

প্রশ্ন উঠছে, লোকালয় ও পরিবেশের স্বাভাবিকতা বজায় রেখে স্পর্শকাতর পারমাণবিক জ্বালানি থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে? কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এখানে সবার আগে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১০০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও প্রতিটি ধাপে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপত্তার এসব দিক নিশ্চিত করেই রাশিয়ার কালিনিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নজির গড়ে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব ও বিকিরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। এ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয় ১৭টি স্টেশন থেকে। এসব তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া উদোমলিয়ার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, স্থানীয় আবহাওয়া, বায়ুর মান ও পানির গুণগত মানও নিয়মিত পরীক্ষা করে কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকিরণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ভিক্টর ও. দোলেচিখ বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার নিরাপত্তা ও বিকিরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার বিকিরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছি। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।”

এদিকে, কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় আরও উন্নত থ্রি প্লাস জেনারেশন প্রযুক্তির ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানিয়েছেন, রূপপুরের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কোনো জায়গা নেই।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “এটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত একটি প্রকল্প। আল্লাহ চাইলে আমাদের এর চেয়ে বেশি কিছু নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হবে না।”

কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো রূপপুরেও আদর্শ নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তাব্যবস্থা যত উন্নত হোক না কেন, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষ ব্যবস্থাপনা। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বাড়তি নিরাপত্তার কারণে রিঅ্যাক্টরে দুর্ঘটনা ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তা বাইরে ছড়িয়ে পড়বে না; এটি আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে শেষ পর্যন্ত এই রিঅ্যাক্টর আর চালানো সম্ভব হবে না। রিঅ্যাক্টর চালাতে না পারলে দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, যা সামাল দেয়া কঠিন। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতাও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান পরমাণু চুক্তি বজায় রেখেছে: উপপ্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


ইরান পরমাণু চুক্তি বজায় রেখেছে: উপপ্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি

জাতিসংঘে ইরানের উপপ্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি জানিয়েছেন, ইরান পরমাণু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসেনি বা তা স্থগিত করেনি। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলস্বরূপ এসব বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তাসনিম, ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

দারজি আরও বলেন, সামরিক হামলার শিকার হওয়ার পরও ইরান তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছে। পরমাণু নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দেশটি কোনোভাবেই সরে আসেনি।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকেরা ইরান ত্যাগ করেছেন বলে জানান দারজি। তার মতে, আইএইএও এই পরিদর্শকদের চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দারজি বলেন, পরিদর্শকদের ইরানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আইএইএর উদ্বেগও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারগঞ্জের পরিত্যক্ত মুজিব কিল্লা এখন মাদকসেবীদের দখলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


মাদারগঞ্জের পরিত্যক্ত মুজিব কিল্লা এখন মাদকসেবীদের দখলে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়ের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের পর থেকে কিল্লা দুটি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এই স্থাপনাগুলো এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কক্ষগুলোতে ধুলোবালি জমে গেছে, সোলার প্যানেল নষ্ট হয়েছে, এবং সিলিং ফ্যানও নেই। জানালার গ্রিলে মরিচা ধরে গেছে, দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। চারপাশের মাটি রক্ষার জন্য বসানো কংক্রিটের ব্লকও ধসে পড়েছে।

গুনারীতলা ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে এবং জোড়খালী ইউনিয়নের কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কিল্লা দুটি নির্মিত হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে কিল্লা দুটির এমন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের সময় আশ্রয়ের জন্য নির্মাণ করা হলেও কিল্লা দুটি একবারও ব্যবহৃত হয়নি। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর কিল্লা দুটি মাদকসেবীদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠের কিল্লাটি ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিল্লাটির উদ্বোধন করেন।

অন্যদিকে, কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মিত কিল্লাটি ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটিও উদ্বোধন করা হয়। কিল্লাটি নির্মাণে সরকার ১ কোটি ৮০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০২ টাকা বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র আহ্বান করে। পরে মেসার্স স্বপ্না কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।

গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, মমিনুর রহমান ও হৃদয় হাসান জানান, কিল্লাটি নির্মাণের পর থেকে তারা কোনো কাজে ব্যবহার হতে দেখেননি। নির্মাণের পর থেকেই এটি ফাঁকা পড়ে আছে। তাদের অভিযোগ, নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং স্থাপনাটি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে এসব কিল্লা নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে হরিলুট করা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এসব মুজিব কিল্লা তার উদাহরণ। কয়েক বছর আগে নির্মিত কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের স্থাপনা এভাবে পড়ে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত সংস্কার করে এগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন জানান, দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, মূল্যবান সামগ্রী ও গৃহপালিত প্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম, কমিউনিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আশ্রয়কেন্দ্র দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় কিল্লা দুটি যাতে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে শীতকালীন সময় শুরু, ঘড়ির কাঁটা বদলে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


ইউরোপে শীতকালীন সময় শুরু, ঘড়ির কাঁটা বদলে যাচ্ছে

ইউরোপে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বন্ধ করার উদ্যোগ ২০১৯ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই প্রস্তাবটি বিপুল ভোটে পাশ হয়। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের জনগণ আবারও ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে প্রস্তুত হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে স্থানীয় সময় রাত ৩টার সময় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে ২টা করা হবে। এতে মানুষ এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সকালে আগে আলো ফুটবে এবং সন্ধ্যা নামবে আগে।

বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের এই প্রথা ইউরোপজুড়ে দীর্ঘকাল ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক জনমত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ এই ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন।

এরপর ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বাতিলের প্রস্তাব ৪১০-১৯২ ভোটে পাশ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় প্রস্তাবটি আটকে যায়।

মূল বিরোধের জায়গা হলো, স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময় রাখা হবে, নাকি শীতকালীন সময় চালু থাকবে। বিভিন্ন দেশে ভিন্ন সময়ব্যবস্থা কার্যকর হলে পরিবহন, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের কারণে বিষয়টি ইউরোপের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে।

ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা চালুর পেছনে জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৬ সালে তেলসংকটের পর ফ্রান্সে গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করা হয়। পরে ১৯৮০ সালে পশ্চিম জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশও সময়ের সমন্বয় করতে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে বর্তমানে এই ব্যবস্থার জ্বালানি সাশ্রয়ী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশে গ্রীষ্মকালীন সময় শেষ হলেও যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও একই দিনে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দিবালোক সাশ্রয়ী সময় শেষ হবে ১ নভেম্বর।

মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে মৌসুমি সময় পরিবর্তনের এই ব্যবস্থা নেই।

সদস্যদেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী সময়ব্যবস্থা নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় ইউরোপে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা কবে বন্ধ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ফলে আপাতত আগের নিয়মেই বছরে দুবার সময় পরিবর্তন করতে হবে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের জনগণকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%