ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাতক্ষীরায় ৩২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি


সাতক্ষীরায় ৩২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য বিজিবি ধ্বংস করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি।

বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। একই সময়ে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক মো. রায়হান নিহত

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪০৬ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ১৮ হাজার ৬৫৪টি ইয়াবা, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, এক হাজার ৪৭০ পাতা সুখি বড়ি, ১৫ হাজার ৭৪৬টি মাদকজাতীয় ট্যাবলেট, ১ কেজি হেরোইন, ৮ বোতল (১০০ মিলি) ও ৬ বোতল (৫০ মিলি) এলএসডি এবং ২ দশমিক ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ, পিএসসি স্বাগত বক্তব্য দেন।

তিনি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নারীসহ আটক ১২

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেনস্কিতে মুগ্ধ ট্রাম্প, পুতিনকে দেখছেন ভিন্ন চোখে: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


জেলেনস্কিতে মুগ্ধ ট্রাম্প, পুতিনকে দেখছেন ভিন্ন চোখে: রিপোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি ক্রমে বাড়ানো অনুকূল মনোভাব প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে কিয়েভের প্রতিরোধ সক্ষমতার প্রতি নতুন আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প।

সোমবার মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের পূর্বের ধারণা ছিল যে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী অবশেষে ইউক্রেনকে পরাজিত করবে। তবে যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধ অব্যাহত থাকার কারণে এই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি পুতিনকে আগের তুলনায় ‘কম অনুকূল দৃষ্টিতে’ দেখছেন।

ট্রাম্প পুতিনকে জানিয়েছেন যে, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চান। এছাড়া, তিনি উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক হতাহতের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিতে দেশটির অগ্রগতিতে মুগ্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের ড্রোন হুমকির মুখোমুখি হয়েছিল, ইউক্রেনীয় বাহিনীও একই ধরনের ইরানি শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প সাধারণত বিজয়ীদের পছন্দ করেন। তার দৃষ্টিতে জেলেনস্কি এখন ক্রমেই সেই ‘বিজয়ী’দের একজন হয়ে উঠছেন।

জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্পের বক্তব্যে এ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ট্রাম্প ওই সময় বলেন, ‘আমরা আসলে একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। এটা বিশ্বাস করা কঠিন, তাই না?’

ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্কের এই পরিবর্তন বেশ নাটকীয়। গত বছর ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তার নেতৃত্বের সমালোচনা করার পাশাপাশি ওভাল অফিসে জেলেনস্কির সঙ্গে প্রকাশ্য বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন তিনি। এমনকি একপর্যায়ে ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

অক্টোবরে ওয়াশিংটনে তাদের সর্বশেষ বৈঠকের পর মঙ্গলবার আবারও হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে জেলেনস্কির। বর্তমানে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

তবে ট্রাম্পের এই পরিবর্তিত মনোভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের অবস্থান দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। অতীতে পুতিনও ট্রাম্প ও তার কয়েকজন উপদেষ্টার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তারা মনে করেন।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা জানান। পাশাপাশি, ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদনে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।

আজকের দিনে, সামরিক ড্রোন উৎপাদনে ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটি বছরে প্রায় ৫ হাজার ড্রোন উৎপাদন করলেও ২০২৬ সালে সেই সক্ষমতা বেড়ে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাবে।

বিশেষ করে, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ট্রাম্পকে মুগ্ধ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যে ধরনের ড্রোন হুমকি তৈরি হয়েছে, ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা সেই একই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইউক্রেন যুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থানে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জেলেনস্কির সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা এবং পুতিনের প্রতি তুলনামূলকভাবে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-মস্কো ও ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেলানিয়া ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার ভিডিও প্রকাশ্যে ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


মেলানিয়া ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার ভিডিও প্রকাশ্যে ফাঁস

মেলানিয়া ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশের দাবি যুক্তরাষ্ট্রে উঠেছে। এই ভিডিওটি ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে, এই বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটির নাম "হাউ টু কিল মেলানিয়া ট্রাম্প" এবং এটি প্রায় দুই মিনিটের। এই ভিডিওতে ফার্সি ভাষায় মেলানিয়া ট্রাম্পকে কীভাবে লক্ষ্যবস্তু করা যেতে পারে, সেই সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে দাবী করা হয়েছে, মেলানিয়ার ফ্যাশনপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে, তার স্টাইল টিমের একটি সদস্যকে অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করে তিনি কোন ফ্যাশন হাউসে পোশাক কিনতে যাবেন, তার তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সম্ভাব্য পোশাকে প্রাণঘাতী নার্ভ এজেন্ট ভিএক্স ব্যবহারের কথাও ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতে আরো দাবি করা হয়, ভিএক্স হল একটি গন্ধহীন তৈলাক্ত রাসায়নিক, যার সংস্পর্শে এলে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।

এছাড়া ভিডিওতে মেলানিয়া ট্রাম্পের স্টাইল টিমের সদস্যদের নাম, তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থার কথিত কোডনেম এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা কৌশল সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ভিডিওর শেষে, ট্রাম্প দম্পতির ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি হুমকিসূচক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

মেলানিয়া ট্রাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল বা হুমকির সত্যতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

ভিডিওতে উত্থাপিত দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

সূত্র : ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পরমাণু বোমা’ নিয়েই মঞ্চে আসছে সৌদি আরব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


‘পরমাণু বোমা’ নিয়েই মঞ্চে আসছে সৌদি আরব?

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন এবং রিয়াদের এই সমঝোতা আপাতদৃষ্টিতে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হলেও এটি রিয়াদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শেষ পর্যন্ত সামরিক মোড় দেবে কি না, এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিপূর্বে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রিয়াদ নিজের থেকে পারমাণবিক বোমা বানাতে চায় না, তবে যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও দ্রুত সেই পথেই হাঁটবে। বর্তমানের চরম উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পারমাণবিক চুক্তির অনুমোদন যুবরাজের ওই পুরনো বক্তব্যকে বাস্তবায়নের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল শিবিরের মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, যা সৌদি আরবকে সরাসরি সংঘাতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফেলেছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ওয়াশিংটন এবং রিয়াদের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো। চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারছে এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষমতা পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সুযোগটাই ভবিষ্যতে রিয়াদকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এক ধাপ এগিয়ে দেবে।

এই চুক্তিটি ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' চুক্তির থেকে অনেকটাই ভিন্ন। আমিরাত স্বেচ্ছায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুবিধা ত্যাগ করে কেবল আমদানিকৃত ইউরেনিয়াম ব্যবহার করার শর্ত মেনে নিয়েছিল। অন্যদিকে, সৌদি আরব এমন কোনো কঠোর বিধিনিষেধ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের ভূখণ্ডেই সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেসামরিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার জোরদার করেছে।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে রিয়াদের অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর পরিদর্শন প্রটোকল বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তবুও এতে রিয়াদকে থামানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার ইতিহাস বিশ্বে বিরল নয়; ১৯৭১ সালে ভারতের স্মাইলিং বুদ্ধ পরীক্ষার কথা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়।

ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক গণনায় চীনের প্রভাব ঠেকানো একটি বড় অগ্রাধিকার। যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক প্রযুক্তির বিনিময়ে আব্রাহাম অ্যাকর্ড মেনে নেওয়ার মতো শর্ত জুড়ে দেয়, তবুও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো পক্ষই এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করবে না। কারণ ওয়াশিংটন জানে, তারা পিছিয়ে গেলে রিয়াদ পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য চীন বা রাশিয়ার দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবে।

রিয়াদের পারমাণবিক সোপানে পা রাখার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যকে একটি মারাত্মক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একদিকে ইরানের নতুন শীর্ষ নেতৃত্ব এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের শক্ত অবস্থান, অন্যদিকে তুরস্ক ও মিসরের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজস্ব পারমাণবিক দূরদর্শিতা; সব মিলিয়ে পরমাণু অপ্রসার চুক্তি (এনপিটি) এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষ কর্মী নিতে জাপানের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


দক্ষ কর্মী নিতে জাপানের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি প্রতিনিধিদলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে এদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগী হন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো উঠে আসে।

এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা সাক্ষাৎ করেন, যেখানে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার জন্য এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাপানি প্রতিনিধিদলের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর কথাও প্রধানমন্ত্রী জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক স্থাপনে যদি জাপান আগ্রহী হয়, তবে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

পাশাপাশি তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।

বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং চলমান ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়েও বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%