ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রামমন্দির তহবিলে লুটপাটের পর দানে নারাজ ভক্তরা


রামমন্দির তহবিলে লুটপাটের পর দানে নারাজ ভক্তরা

আমি ভগবান রামের ভক্ত, কিন্তু আমি আর মন্দিরে দান করব না। আমার বাবা, ঠাকুরদার স্বপ্ন ছিল রামের মন্দির হোক, সেটা পূরণ হয়েছে। তবে রামলালার জন্য ভক্তি আমি আলাদাভাবে প্রকাশ করব।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এভাবে বলছিলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ও রাম ভক্ত প্রাচী খারে।

রামগোপাল গোয়েল নামে আরেক ভক্ত রাম মন্দির দর্শনে এসে বলেন, ভগবানের উদ্দেশ্যে দেওয়া দান এই বেইমানরা পকেটে ভরে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আবেগের কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই।

রাম মন্দিরে আর্থিক তছরুপ ও কেলেঙ্কারির বিভিন্ন রিপোর্ট সামনে আসার পরে প্রাচীর মতো অসন্তুষ্ট হয়েছেন বহু রাম ভক্ত। প্রাচী খারে ও রামগোপাল গোয়েলদের মতই বহু ভক্ত যারা চেয়েছিলেন অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হোক, তারা এখন নিজের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে ট্যাংকারে রকেটচালিত গ্রেনেড হামলা, নাবিকরা নিরাপদ

সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দান করা অর্থ, বহুমুল্য গয়না, সোনা, রূপার সামগ্রী তছরুপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তিন সদস্যের বিশেষ টিম রিপোর্ট পেশ করেছে; যার উপর ভিত্তি করে অযোধ্যা পুলিশ আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

যদিও শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট সবরকম অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে ওই আটজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে বিবিসি হিন্দিকে জানিয়েছেন সিনিয়র পুলিশ অফিসার গৌরব গ্রোভার।

এই নিয়ে ইতোমধ্যে কড়া অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেছেন, অযোধ্যা সম্পর্কে যা খবর পাওয়া গেছে সেখানে আমরা এসআইটি গঠন করেছি। এসআইটি রিপোর্ট আসার সাথে সাথে আমাদের পূর্ণ তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে। আমি আশ্বস্ত করতে আপনাকে বলতে পারি, এর শেষ দেখে ছাড়া হবে।

তিনি বলেন, জনগণের ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে খেলা অগ্রহণযোগ্য। যদি কেউ এই বিশ্বাসের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলে, তাকে এর ফল ভোগ করতে হবে। কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি - মো. তমিজ উদ্দিন এমপি

অভিযোগটি ঠিক কী?

তীর্থযাত্রী সুবিধা কেন্দ্রে দানপাত্রগুলো নিয়ে যাওয়ার পর সেই ৪০টি দানপাত্র খুলে গণনা করার কাজ দেওয়া হয়েছিল একটি টিমকে। এফআইআরে যাদের নাম আছে, তারা সকলেই এই টিমেরই অংশ। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মন্দিরের আমানত আত্মসাতের অভিযোগে তাদের ভূমিকা তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে।

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে রাম জন্মভূমি থানায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। এই মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অন্তর্গত কর্মচারী কর্তৃক চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সম্পর্কিত ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিরা হলেন ট vinnu যাদব, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, মনীশ যাদব, সুভাষ শ্রীবাস্তব, করুণেশ পান্ডে এবং রামশঙ্কর মিশ্র।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসা ও মানবিক বিভাগে পড়েও জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন ইবি শিক্ষার্থী জাহিদ

টিন্নু যাদব তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন, আর বাকিরা নগদ টাকা গণনার কাজে জড়িত ছিলেন। দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ভক্তদের অনুদান আত্মসাৎ এবং ট্রাস্টের তহবিল অপব্যবহারের ষড়যন্ত্র করেছিল।

গত ১৩ জুন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাস্টের অনুরোধে এসআইটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিজয় বিশ্বাস পন্থ। প্যানেলে রয়েছেন অর্থ বিভাগের বিশেষ সচিব নীলরত্ন কুমারও।

এই ঘটনায় পদ্ধতিগত ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং এর পেছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করার দায়িত্ব কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।

অযোধ্যার মন্দিরে বিপুল দানের খতিয়ান

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কামরুলের ১০ বছরের কারাদণ্ড

অযোধ্যার রাম মন্দিরে মূল মন্দির ছাড়াও মোট ছয়টি ছোট মন্দির রয়েছে। সব মিলিয়ে এই কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ আসেন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাম মন্দিরে দানের পরিমাণ ছিল, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি। যা এই মন্দিরকে অর্থের নিরিখে ধনীতম মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে।

অযোধ্যার এক সাবেক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাত কোটি টাকার সম্পত্তি নয়ছয় হয়েছে।

যদিও মন্দির কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন: ‘১৬ বছর রাজপথে ছিলেন না, এখন ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন’: খালিদুজ্জামানকে রাশেদ

ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সদ্য ইস্তফা দেওয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা চম্পত রাই বলেন, অনুদান গণনার প্রক্রিয়া ও গণনা কক্ষসহ ট্রাস্টের যাবতীয় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে ট্রাস্টি ও কর্মীদের পাশাপাশি স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কয়েকজন কর্মী নিরীক্ষণ করে থাকেন।

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েক দিন ধরে চলে এবং বর্তমানে এভাবেই কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো গরমিল বা অসঙ্গতি নজরে আসেনি।

যদিও সর্বশেষ খবর যা পাওয়া গেছে, তাতে এই তছরুপের জেরে চম্পত রাইকে ৩ দিনের মধ্যে অযোধ্যা ত্যাগ করার হুমকি দিয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়াও অযোধ্যার বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী লড়াই করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আটজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

যেভাবে সূচনা হলো কেলেঙ্কারির

আরও পড়ুন: বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক ঢাকতেই নিজেদের দ্বন্দ্ব: রিজভী

ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত একটি মন্দিরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মন্দিরটি এমন এক স্থানে অবস্থিত যা কয়েক দশক ধরে ভারতের অন্যতম প্রধান ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অনেক হিন্দু বিশ্বাস করেন, অযোধ্যা দেবতা রামের জন্মস্থান। এই ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির নেতৃত্বে দেশজুড়ে চালানো জোরালো প্রচারণার জেরে ১৯৯২ সালে বহু হিন্দু কর্মী সমর্থকরা বাবরি মসজিদটি ভেঙে ফেলেছিল।

ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও প্রণামী ব্যবস্থাপনায় কথিত অনিয়মের বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন মহিপাল সিং, তিনি আগে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের তদারকি করতেন। তাকেই হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

সিং প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, উপহার হিসেবে পাওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতু ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিবিসি হিন্দি তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, আমি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছি। আমি প্রচণ্ড চাপ ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে আছি। এখন কোনো কিছু বলার মতো অবস্থায় আমি নেই। এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আমি যা কিছু বলেছি, দয়া করে সেটুকুকেই আমার বক্তব্য হিসেবে গণ্য করবেন।

সিংহের উত্থাপিত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে গত ৭ জুন বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সেদিন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।

সামাজিক মাধ্যমের একাধিক পোস্ট দিয়ে তিনি অনুদান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

তার দলের সহকর্মী ও অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ দাবি করেন, বিষয়টি আদালতের তত্ত্বাবধানে গঠিত কোনো দলের মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। এছাড়া তদন্ত চলাকালীন ট্রাস্টের সদস্যদের তাদের পদ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

বহু হিন্দু মনে করেন, যে জায়গায় রাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন ওই মন্দিরটি ভেঙে ওই জায়গায় বাবরি মসজিদ স্থাপন করেছিলেন প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর। এই নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে ভারতে বহু জলঘোলা হয়েছে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই স্থানে হিন্দু পক্ষের দাবিকে মান্যতা দেয়। ২০২৪ সালে ওই স্থানে একটি রাম মন্দির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই মন্দির নির্মাণ বিজেপি সরকারের প্রস্তাবিত কর্মসূচির একটি ছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ রাতের আকাশে দেখা মিলবে গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার ‘স্ট্রবেরি মুন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ এম


আজ রাতের আকাশে দেখা মিলবে গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার ‘স্ট্রবেরি মুন’

গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদ এখন আকাশে দেখা যাচ্ছে। চমৎকার এবং অপরূপ এই চাঁদের নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’ রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাতেও এই সুন্দর চাঁদ টিকে আকাশে আলোকিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন সময় (ET) অনুযায়ী, সোমবার রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে চাঁদটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সেই সময়টির অবস্থা ছিল আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিট। তখন এটি তার সর্বোচ্চ আলো ছড়িয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার রাতে রাতের আকাশে এই চাঁদের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

উত্তর গোলার্ধে, এই চাঁদটি এ বছরের সবচেয়ে নিচু পথ ধরে আকাশে উঠবে। দক্ষিণ গোলার্ধে এটি সবচেয়ে উঁচু পথ ধরে চলবে। এবারের ‘স্ট্রবেরি মুন’ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করছে, এজন্য বিজ্ঞানীরা একে ‘মাইক্রোমুন’ বলছেন। এটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম চাঁদ হিসেবে পরিচিত। তবে চাঁদটি কিছুটা ছোট হলেও খালি চোখে এই পার্থক্য খুব একটা ধরা পড়ে না।

চাঁদটি ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি পরিষ্কার এবং অন্ধকার জায়গা বেছে নিতে বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, বড় দালান বা গাছপালার বাধা নেই—এমন জায়গা থেকে চাঁদটি সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

চাঁদের এই ‘স্ট্রবেরি’ নামটি আমেরিকার আদিবাসী আলগনকুইন উপজাতির দেওয়া। কারণ, বছরের এই সময় তারা স্ট্রবেরি বা বেরি জাতীয় ফল ঘরে তুলত। তাই চাঁদের এমন নামকরণ করা হয়েছে।

অনেকেই ভাবতে পারেন চাঁদের রঙ হয়তো পরিবর্তিত হয়। আসলে, চাঁদটির আসল রঙ কখনো বদলায় না। সূর্যের আলো চাঁদে পড়ে পৃথিবীতে আসার সময় আমাদের বায়ুমণ্ডল পার হয়ে যায়। বায়ুমণ্ডলের অবস্থা ও বায়ু দূষণের কারণে আমাদের চোখে চাঁদের রঙে পরিবর্তন নজরে আসে।

সামনেই নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে আবার মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাই চাঁদ দেখা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এ বছরে আরও ছয়টি পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যাবে। বাকি পূর্ণিমাগুলো হলো: ২৯ জুলাই: বাক মুন, ২৮ আগস্ট: স্টারজন মুন, ২৬ সেপ্টেম্বর: হারভেস্ট মুন, ২৬ অক্টোবর: হান্টারস মুন, ২৪ নভেম্বর: বিভার মুন এবং ২৩ ডিসেম্বর: কোল্ড মুন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নূরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘কাছের লোক’ দাবি করা ব্যক্তিদের পাত্তা না দিতে সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


নূরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘কাছের লোক’ দাবি করা ব্যক্তিদের পাত্তা না দিতে সতর্কবার্তা

প্রখলিত বিষয় হিসেবে, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর অত্যন্ত জরুরি এক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'রাস্তা-ঘাট, বিভিন্ন অফিস কিংবা প্রতিষ্ঠানে সৌজন্যবশত তোলা ছবি দেখিয়ে যেসব ব্যক্তি নিজেকে তার “কাছের লোক” হিসেব দাবি করেন, তাদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে।' এর মধ্য দিয়ে তিনি ছবির মাধ্যমে পরিচয় ও সুবিধা লাভের জন্য কিছু লোকের অপব্যবহার সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টার পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটাসটি দেন। তিনি এই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, 'অফিস, রাস্তা-ঘাট কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা হলে অনেকেই ছবি তোলার অনুরোধ করেন। সৌজন্যতা ও মানবিকতার জায়গা থেকে আমরা তাদের সঙ্গে ছবি তুলি। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, অনেকেই সেই ছবি দেখিয়ে নিজেদের আমার কাছের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।' এর পাশাপাশি নূর আরো বলেন, 'এ ধরনের দাবি বা পরিচয়ে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন এবং এসব বিষয়ে পাত্তা না দেন—সবাইকে সেই অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় বালু উত্তোলন ঠেকাতে লাঠিসোঁটা হাতে গ্রামবাসীর পাহারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০০ এম


পদ্মায় বালু উত্তোলন ঠেকাতে লাঠিসোঁটা হাতে গ্রামবাসীর পাহারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের রানিনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ইজারাদারপক্ষের। সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ নদীপাড়ে অবস্থান নিয়ে বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে লাঠি ও শনকি নিয়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রানিনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য আসেন। স্থানীয় কয়েকজন তাদের এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা নদীপাড়ে জড়ো হন। খবর পেয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারা নদীরক্ষা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় আবাস গড়ে তুলেছেন। এর আগেও একাধিকবার উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে বাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন হলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও নদীরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।

রানিনগর এলাকার বাসিন্দা বাবুল আক্তার ও চরচাকলা গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, তারা একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। এখন বাঁধের পাশেই বসবাস করছেন। তাই বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন কোনোভাবে তারা মেনে নেবেন না।

স্থানীয় কলেজছাত্র মুশা হক বলেন, সকালে কিছু ট্রলার, নৌকা ও একটি ড্রেজার নিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে বাধা দিলে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দিনভর কয়েক হাজার মানুষ নদীপাড়ে অবস্থান করে।

কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসাইন বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, ইজারাদারপক্ষ বালু উত্তোলন করতে এলে গ্রামবাসী বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেকর্ডের সামনে নাগেলসমান, ধুঁকছে প্যারাগুয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


রেকর্ডের সামনে নাগেলসমান, ধুঁকছে প্যারাগুয়ে

দীর্ঘ এক যুগ পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেরার আনন্দ আর নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি নিয়ে মাঠে নামছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত আড়াইটায় বস্টনে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।

টানা দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের হতাশাকে পেছনে ফেলে জার্মানি এবার নকআউট ধাপে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জার্মানি ১-০ গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল। এরপর ২০১৩ সালে এক প্রীতি ম্যাচে দুই দল ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল।

দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ফের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার আগে জার্মানি শিবিরে বইছে আত্মবিশ্বাসের হাওয়া। চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জার্মানরা ১০টি গোল করেছে, যেখানে গোল পেয়েছেন সাতজন আলাদা খেলোয়াড়। দলের সম্মিলিত এই পারফরম্যান্স নকআউট ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে চায় তারা।

জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩৮ বছর ৩৪১ দিন বয়সে তিনি যখন ডাগআউটে দাঁড়াবেন, তখন গত ৪০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বকনিষ্ঠ কোচ হিসেবে রেকর্ড গড়বেন তিনি। এর আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অঁরি মিশেল তার চেয়ে কম বয়সে নকআউটের ডাগআউট সামলেছিলেন।

অন্যদিকে, পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা প্যারাগুয়ে খেলছে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে। নিজেদের ইতিহাসে নকআউট পর্বে তারা এখন পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারেনি। ২০১০ সালে জাপানের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জয়ই তাদের শেষ ১৬-এর সেরা সাফল্য।

তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে খেলা নিজেদের আগের চারটি ম্যাচেই হেরেছে তারা এবং সেই সব ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারার আক্ষেপ তাদের সঙ্গী হয়েছে।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্মের বিচারে জার্মানি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বে অঘটন ঘটাতে ওস্তাদ অনেক দলই।

তবে ১২ বছর পর নকআউটের স্বাদ পাওয়া জার্মানি সেই ২০১০ সালের সেমি-ফাইনালের হারের পর থেকে নিজেদের সবশেষ ৯টি নকআউট ম্যাচের আটটিতেই জয় তুলে নিয়েছে।

তাহলে আজকের ম্যাচেও নিজেদের দাপট অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। প্যারাগুয়ে কি পারবে নিজেদের গোলখরা কাটিয়ে নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে, নাকি জার্মানির আক্রমণের সামনে আবারও মাথানত করবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি, সেটির উত্তর মিলবে বস্টনের মাঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%