১১:০০ এম
কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি জাতীয় পার্কসংলগ্ন এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে ১৫টি হাতির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে টমেটো ক্ষেতে ব্যবহৃত সায়ানাইড সমৃদ্ধ কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়ার পরও, বিষয়টি নিয়ে সংরক্ষণবাদী, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের (কেডব্লিউজ) তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে অ্যাম্বাসেলি জাতীয় উদ্যানের বাইরের জায়গা থেকে হাতিগুলোর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যু ঘটনার মধ্যে কয়েকটি হাতির শরীরে আংশিক পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা যায়। তাদের পাকস্থলীর নমুনা পরীক্ষায় সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। কেডব্লিউজের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ড. আইজ্যাক লেকোলুল জানিয়ে দেন, হাতিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মারা গেছে কিনা, নাকি দুর্ঘটনাবশত বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। তবে, পার্শ্ববর্তী টমেটো ক্ষেতে ছিটানো কীটনাশকের মাধ্যমে বিষক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা লক্ষ্য করা হচ্ছে। অ্যাম্বাসেলি ও সাভো জাতীয় উদ্যানের মাঝে অবস্থিত কিমানা এলাকা হাতিদের প্রধান চলাচলের পথ। এই অঞ্চলটির উর্বর জমিতে ব্যাপকভাবে টমেটো চাষ হয়ে থাকে, যা কেনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু, বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। প্রায় তিন দশক ধরে হাতির গবেষণায় নিযুক্ত সংরক্ষণবাদী পাউলা কাহুম্বু বলেন, প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে শুধু কীটনাশককে দায়ী করা সম্ভব নয়। তার মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রাণঘাতী বিষক্রিয়ার শিকার হতে বিপুল পরিমাণ দূষিত খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, কিছু বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞের মত অনুযায়ী, সাধারণত পুরুষ হাতিরা বেশি ঝুঁকিতে কৃষিজমিতে প্রবেশ করে। কিন্তু, মৃত ১৫টি হাতির মধ্যে মাত্র একটি ছিল পূর্ণবয়স্ক পুরুষ, যা কীটনাশক তত্ত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় ভূমিমালিকদের প্রতিনিধি ড্যানিয়েল নিনা উল্লেখ করেন, অতীতে বিষক্রিয়ার কারণে জেব্রা ও অ্যান্টিলোপের মতো প্রাণী আক্রান্ত হয়েছিল, তবে এবার শুধুমাত্র হাতির মৃত্যু ঘটে। একই এলাকায় ঘাস খাচ্ছে অন্যান্য প্রাণীরা কীভাবে অক্ষত রইল, সেটিও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত। এদিকে, ২০২৪ সালে কিমানা এলাকায় সায়ানাইড-ভিত্তিক রাসায়নিক যুক্ত একটি নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তানজানিয়া সীমান্তের মাধ্যমে এসব অবৈধ কৃষি রাসায়নিক পাচারের মাধ্যমে কেনিয়ায় প্রবেশ করছে। সংরক্ষণ সংস্থা সেভ দ্য এলিফ্যান্টস-এর প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক পোপ জানান, বর্তমানে হাতিদের সবচেয়ে বড় হুমকি দাঁতের শিকার নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তিত ভূমি ব্যবহার। কৃষিজমি ও পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের ফলস্বরূপ মানুষের ও হাতির মধ্যে সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। হাতিগুলোর মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক কারণ দ্রুত নির্ধারণ না হলে ভবিষ্যতে হাতি এবং স্থানীয় মানুষের জন্য একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন