০৬:২৭ পি.এম
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ এবং মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষার প্রসার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলছে। শিক্ষক সংকটের সমাধানে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৯ এর সরকারি দলের সদস্য আন্না মিনজের ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ এবং বিলুপ্তপ্রায় ৩০টি ভাষা সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত
তিনি জানান, বর্তমানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাঁওতালী—এই পাঁচটি ভাষার জন্য প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং বিতরণ করা হচ্ছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) এসব মাতৃভাষার পাঠদানকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক শ্রেণি রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে পাঁচটি পিটিআইয়ের অধীনে মোট ১৫টি ব্যাচে ৪৫০ জন শিক্ষককে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় পাঠদানের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
পরে সম্পূরক প্রশ্নে আন্না মিনজ সংশ্লিষ্ট ভাষার শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার মান তদারকির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে, মন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এ বছরও পাঁচটি মাতৃভাষায় নতুন করে ৩৭টি বই প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাঁওতালী ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় أيضاً বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় 'হাত ধোয়ার নায়ক হোন' শ্লোগানে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
মন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণ বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতেই সরকার মাতৃভাষায় শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করছে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিক্ষক স্বল্পতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন