প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে এক গৃহবধূকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে রাতভর হাত-পা বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতনের খবর সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তারের মাথার চুল কেটে নেওয়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দেহ জখম করা হয়েছে। নিষ্ঠুর এই নির্যাতনের সময় ওই গৃহবধূর দুই শিশু সন্তানও ঘরে অবরুদ্ধ ছিল।
জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাশ বিডি’ তে এই নির্মমতার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে। পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে মারাত্মক আহত ওই গৃহবধূ ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে। একই সাথে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত স্বামী নাজমুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে এই শিউরে ওঠার মতো ঘটনা সংগঠিত হয়। অভিযুক্ত স্বামীর নাম নাজমুল শেখ (২৮), পিতা নওয়াব আলী শেখ, গ্রামের নাম গয়লাকান্দি, মুকসুদপুর। ভুক্তভোগী স্ত্রী সোনিয়া আক্তার, পিতা লোকমান সরকার, গ্রামের নাম চরমুসুরিয়া, মুন্সীগঞ্জ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই সোনিয়াকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। সোমবার রাতে সামান্য কথা-কাটাকাটির কারণে নাজমুল ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দেন এবং এরপর সোনিয়ার হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে ফেলা হয়।
এখানেই শেষ নয়, দুই অবুঝ সন্তানের সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোনিয়ার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। রাতভর চলতে থাকে এই অমানুষিক নির্যাতন। মঙ্গলবার সকালে ঘরের ভেতর থেকে সোনিয়ার গোঙানি ও চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তারা দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে তালা ভেঙে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে এবং সোনিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পাঠায়।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে সোনিয়া আক্তার আর্তনাদ করে বলেন, '(নাজমুল) প্রতিদিন নেশা করে এসে আমাকে মারে। সোমবার রাতে সামান্য বিষয়ে রাগ করে বাচ্চাদের সামনেই আমার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে দিল। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে কোপাতে থাকল। আমি এই পশুর কঠিন বিচার চাই।'
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নাজমুল শেখ স্বীকার করেন যে তার অপরাধ করেছেন, তবে তিনি একটি অদ্ভুত অজুহাত দিয়েছেন। তার দাবি, স্ত্রী যেন তাকে ছেড়ে বাপের বাড়ি পালিয়ে যেতে না পারেন—এ কারণে মূলত তিনি স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে এবং মাথার চুল কেটে ঘরে আটকেছিলেন।
স্থানীয় গোহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর জানান, নাজমুল একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত এবং প্রায়শই স্ত্রীর ওপর চড়াও হতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, নাজমুল কোনো কাজে নিযুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি বখাটে স্বভাবের ছিলেন। সংসারের খরচ মেটাতে সোনিয়াকে চাপ দিয়ে তার বাপের বাড়ি থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা আনাতেন। তাদের বর্তমান আবাসস্থলও সোনিয়ার বাবার অর্থায়নে নির্মিত।
মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে গৃহবধূ ও তার সন্তানদের উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলা রজু হওয়া মাত্রই আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন