ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাসপাতালে ইউল্যাব শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ স্বজনদের


হাসপাতালে ইউল্যাব শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ স্বজনদের

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সিটি কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থী আদ দ্বীন (২৩) মৃত্যুবরণ করেন।

স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে যে, ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাতে শ্যামলীর সিটি কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আদ দ্বীন মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার পর, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর স্বজনরা হামলার চেষ্টা করেন। পরে র‍্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

পুলিশ জানায়, আদ দ্বীন ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শ্যামলীর সিটি কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, আদ দ্বীনকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ হাত-পা ফুলে যাচ্ছে কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ এম


হঠাৎ হাত-পা ফুলে যাচ্ছে কেন?

আপনার শরীরের হাত ও পা হঠাৎ করে ফুলে যাওয়া কোনও ভালো লক্ষণ নয়। এটি অবহেলার কোনো বিষয় নয়। সাধারণত মাঝে মাঝে হাত-পা এবং মুখ ফুলে যাওয়ার সমস্যা আপনার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তোলে। এমনটি আগে কখনো দেখা যায়নি, কিন্তু এখন এটা মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। অনেকেই একে সাধারণ ক্লান্তির ফল অথবা দীর্ঘসময় বসে থাকার পরিণতি বলে মনে করে অবহেলা করেন। আর শরীরে অতিরিক্ত তরল বা পানি জমে গেলে এমনটি ঘটা বলতে শোনা যায়।

কিন্তু এটি ঠিক নয়; এটি একটি জটিল রোগের লক্ষণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়— 'এডিমা'। কারণ এসময় আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষ বা টিস্যুর মধ্যে অতিরিক্ত তরল বা পানি জমে যায়, তখন সেই অংশটি ফুলে ওঠে। যদি এই ফোলা ভাব প্রায়ই দেখা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তবে তা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো বড় রোগের লক্ষণ হতে পারে।

আর যদি শরীরে ঘনঘন ফোলাভাব দেখা দেয়, তবে লবণ খাওয়া সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া উচিত। তবে এটিকে হালকা ভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি একদমই উচিত নয়। তবে নিজেকে পণ্ডিত ভেবে নিজে নিজে কোনো ওষুধ নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এরকম সমস্যা নিয়মিত হলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষা, কিডনি ও লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাম করানো অত্যন্ত জরুরি।

এটি মূলত আপনার শরীরের তিনটি প্রধান অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি কিংবা বিকল হওয়ার পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সেই তিনটি লক্ষণ কী—

১. কিডনি

কিডনি যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে শরীর থেকে বাড়তি সোডিয়াম এবং পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে পারে না। ফলে হাত-পা এবং চোখের চারপাশ ফুলে যায়। আর কিডনি হলো আমাদের শরীরের ছাঁকনি। এটি রক্ত থেকে অতিরিক্ত পানি, লবণ এবং ক্ষতিকারক বর্জ্যপদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। কিডনি যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি জমতে থাকে। এই বাড়তি তরল হাত এবং পায়ে জমে যেতে পারে। কিডনির সমস্যার কারণে শরীর থেকে জরুরি প্রোটিন বেরিয়ে গেলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের চারপাশ এবং মুখ মারাত্মকভাবে ফুলে উঠতে পারে। অন্যান্য লক্ষণ হতে পারে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা ফেনা হওয়া, খিদে কমে যাওয়া এবং বমি বমি ভাব।

২. হৃৎপিণ্ড বা হার্ট

হার্ট যদি শরীর জুড়ে সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারে, তবে রক্তনালিতে চাপ বেড়ে তরল পদার্থ জমা হতে থাকে, বিশেষ করে পা এবং গোড়ালি ফুলে যায়। আমাদের হার্ট বা হৃদযন্ত্রের মূল কাজ হলো— সারা শরীরে রক্ত পাম্প করা। কিন্তু হার্ট দুর্বল হয়ে পড়লে এবং সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে না পারলে, তখন রক্ত চলাচলের গতি ধীর হয়ে যায়।

ফোলা ভাব হওয়ার কারণ হল, রক্ত ঠিকমতো ফিরে আসতে না পারায় শিরাগুলোর ওপর চাপ বেড়ে যায়। ফলস্বরূপ, রক্ত থেকে তরল অংশ বের হয়ে মূলত পায়ের পাতা, গোড়ালি এবং নিচের অংশে জমা হতে শুরু করে। এই ক্ষেত্রে একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠা, শুয়ে থাকার সময় শ্বাসকষ্ট সহ শারীরিক অসুস্থতার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

৩. লিভার

লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে (সিরোসিস) শরীরে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিনের উৎপাদন কমে যায়। এর ফলে রক্তনালি থেকে তরল উপাদান লিক হয়ে পেট এবং হাত-পায়ে পানি জমতে শুরু করে। অতিরিক্ত মদপান, হেপাটাইটিস সংক্রমণ বা ফ্যাটি লিভারের কারণে দীর্ঘসময় ধরে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে একসময় তা শক্ত হয়ে যায়, যাকে 'লিভার সিরোসিস' বলা হয়।

ফোলা ভাব হওয়ার কারণ হলো, সুস্থ লিভার 'অ্যালবুমিন' নামক বিশেষ একটি প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিনটি রক্তনালির মধ্যে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে তা বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে। লিভার নষ্ট হলে অ্যালবুমিনের উৎপাদন কমে যায়। ফলে তরল রক্তনালি থেকে চুঁইয়ে চারপাশের টিস্যুতে চলে আসে। এর ফলে পায়ে ফোলাভাব সৃষ্টি হয় এবং পেটের মধ্যে প্রচুর পানি জমে পেট ঢাকের মতো ফুলে ওঠে। জন্ডিস, চরম ক্লান্তি ও লিভারের অংশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

৪. পায়ের শিরার দুর্বলতা

এছাড়া আমাদের পায়ের শিরাগুলোর ভিতরে ছোট ছোট একমুখী 'ভালভ' বা দরজা থাকে। এই ভালভগুলো মূলত কাজ করে— মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পায়ের রক্তকে ওপরের দিকে (হার্ট) ঠেলে পাঠানোর।

ফোলা ভাব হওয়ার কারণ হল, বয়স বাড়া অথবা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে এসব ভালভগুলো দুর্বল বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন রক্ত ওপরের দিকে উঠতে না পেরে পায়েই জমতে শুরু করে। জমে থাকা রক্তের চাপে তরল পদার্থ শিরার দেওয়াল ভেদ করে পায়ের মাংসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পা ফুলিয়ে দেয়। পায়ে ভারি ভাব, পায়ের শিরাগুলো নীলচে এবং আঁকাবাঁকা হয়ে ফুলে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোদ-বৃষ্টিতে যেভাবে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখবেন, জেনে নিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ এম


রোদ-বৃষ্টিতে যেভাবে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখবেন, জেনে নিন

চলছে আষাঢ় মাস। রোদ কখনো আবার বৃষ্টি— এভাবেই দিনগুলো চলে যাচ্ছে। জীবনের গতি থেমে নেই। কিন্তু ত্বকের যত্নে ভাটা পড়ছে। এই আবহাওয়ার মধ্যেই সারা দিন ছোটাছুটি করতে হয়। ফলে ত্বক অনেকাংশেই নাজুক হয়ে পড়ে, এবং নির্জীব দেখায়। বাড়ি কিংবা বাইরে, ত্বকের একটু যত্নের প্রয়োজন।

বর্ষাকাল আমাদের কাছে দারুণ প্রিয়। কিন্তু প্রিয় এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেরও বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। তাই বর্ষাকালের এমন সময় ত্বকের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। তবে ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে জানতে হবে, আপনার ত্বকের ধরন কী? বর্ষায় সব ধরনের ত্বকই ম্যাড়মেড়ে ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। এর মূল কারণ হল বাতাসে আর্দ্রতার বেশী পরিমাণ। চলুন বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় কিছু ঘরোয়া টিপস জেনে নিই!

১. টোনিং

বৃষ্টিতে ভিজে গেলে অনেক সময় শুধুমাত্র মুখ আর হাত-পা মোছা হয়। কিন্তু পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। এই সময় যতটা সম্ভব ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত টোনিং করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আপনি টোনার ফ্রিজ বা ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে টোনার ব্যবহারের সময় ভালো ফল পাওয়া যাবে। অন্য ত্বকের জন্য সাধারণ তাপমাত্রায় টোনার সংরক্ষণ করা যেতে পারে। কারণ বর্ষায় ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য টোনার ও প্রধান উপাদান।

২. ডিপ ক্লিনিং

গরমের সময়ে ডিপ ক্লিনিংয়ের জন্য শসা খুব ভালো কাজ করে। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা শসা কুচি করে ত্বকের উপর কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারেন। এর ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। তৈলাক্ত ত্বকে এই ঋতুতে কিছুটা কালচে ভাব চলে আসতে পারে। মুলতানি মাটি আর গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এতে উপকার পাবেন।

৩. ব্রণের দাগ

ব্রণ কিংবা দাগের জন্য আপনি শসা, গোলাপজল ও কাঁচাহলুদের পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় মিশ্র ত্বকের জন্য ডিমের সাদা অংশ, মধু, লেবুর রস, দুধের সর মিশেলে উপকার হবে। ত্বক পরিষ্কার করে এই পেস্ট লাগিয়ে রাখতে পারেন এবং উজ্জ্বলতা ফিরবে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ২০০ মিলিমিটার গ্লিসারিন ও ২০০ মিলিগ্রাম গোলাপজল এক বোতলে রাখুন। তারপর সারা শরীরে ভালোভাবে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজের পর গ্লিসারিন যুক্ত সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। এতে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হবে।

৪. বলিরেখা

বয়স্কদের জন্য বলিরেখার জন্য একটা ডিমের সাদা অংশ ভালভাবে বিটার দিয়ে বিট করতে হবে। এবার একটা লেবুর রস দিয়ে আবার ভালোভাবে বিট করে পুরো মুখ ও নাকে লাগাতে হবে ১০ মিনিটের জন্য। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই টিপসটি ফলো করলে ত্বকের টানটান ভাব ফিরে আসবে।

৫. চুলের যত্ন

বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় চুলের কথা করতেই হবে। কেননা রোদ আর বৃষ্টির মাঝে পড়ে চুলের ক্ষতি হয়। বৃষ্টির পানিতে চুল ভিজে গেলে বাড়ি ফিরে সম্ভব হলে শ্যাম্পু করে ফেলবেন। এতে চুল ঝরঝরে হয়ে যাবে। না হলে ময়লা আটকে থাকবে চুলের গোড়ায়। টকদই, পাকা পেঁপে ও কলা একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগাতে রাখা যেতে পারে। এই সহজ টিপস মেনে চললে চুল সুন্দর থাকবে।

৬. পায়ের ত্বকের যত্ন

বৃষ্টির পানিতে হাত-পা ভিজার ফলে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় তাই প্রতিদিন বাইরে থেকে আসার পর অবশ্যই হালকাভাবে পেডিকিউর ও মেনিকিউর করতে হবে। এরপর গরম পানিতে চা দিয়ে পা দুটিকে ১০-১৫ মিনিট ভিজাতে হবে। দুই চামচ চিনি ও এক চামচ মধু মিশিয়ে একটি স্ক্রাব তৈরি করে পা ম্যাসাজ করুন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন লাগাতে হবে।

৭. আলু ও পাতি লেবুর রস

আলু ও পাতি লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক পরিষ্কার হবে। বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় পাতিলেবুর রস ও গরুর কাঁচা দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

৮. শসা ও টমেটোর রস

শসা ও টমেটোর রস মিশিয়ে ছেঁকে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা অবস্থায় মুখে তুলা দিয়ে লাগান।

এ ছাড়া বর্ষায় আরও কিছু উপকারী প্যাক রয়েছে।

১. বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় হালকা কুসুম গরম পানিতে অল্প কর্পুর ও চিনি মিশিয়ে তুলা দিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে।

২. বর্ষায় ত্বকের যত্নে আপেল বাটা, কয়েক ফোঁটা মধু ও দুধের সর একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক হবে ঝকঝকে উজ্জ্বল।

৩. কাঁচাহলুদ বাটা, দুধ, গোলাপ ফুলের পাঁপড়ি বাটা, চন্দন বাটা ও কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় এই প্যাকটি আমার ভীষণ প্রিয়।

৪. মসুর ডাল বাটা, মুলতানি মাটি, গোলাপজল, পাতিলেবুর খোসা বাটা, কয়েক ফোঁটা মধু ও নিমপাতা বাটা একসঙ্গে পেস্ট তৈরি করে মুখ ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫. বর্ষায় সৌন্দর্যচর্চায় মুলতানি মাটি, টক দই, গোলাপ জল ও টমেটোর রস একসঙ্গে পেষ্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

প্রত্যেকটি উপকরণ বা মিশ্রণ গোসলের সময় সাবানের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন। এতে শরীরের লোমকূপের ভেতর থেকে ময়লা বেরিয়ে এসে ত্বক কোমল ও মসৃণ হয়ে উঠছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চেরির স্বাস্থ্যগুণ: পুষ্টি উপাদান, উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ এম


চেরির স্বাস্থ্যগুণ: পুষ্টি উপাদান, উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

চেরি ফল ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর, যা শরীরের দৈনন্দিন পুষ্টির প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতি ১০০ গ্রাম চেরিতে দৈনিক চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ ভিটামিন সি এবং প্রায় ১০ শতাংশ পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন সি শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, পটাশিয়াম পেশির সংকোচন ও প্রসারণ সচল রাখতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে রেখে চলতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে চেরিতে। ‘অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে, চেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি) উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি, ‘ফুডস’ জার্নালের আরও একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, চেরি ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ একটি ফল, যা শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস (কোষের ক্ষয়) এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে।

এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। চেরির নির্যাস বা এক্সট্রাক্টেও একই ধরনের উপকারী গুণাগুণ রয়েছে। এছাড়া এর পলিফেনল উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।

চেরির অন্য একটি বড় গুণ হলো এটি শরীরের প্রদাহ ও পেশির ব্যথা উপশম করতে সক্ষম। এই কাজে টক চেরি বিশেষভাবে কার্যকরী।

চেরি শরীরের পেশির দ্রুত ক্লান্তি দূর করা, ক্ষত নিরাময় করা এবং পেশির শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ‘মলিকিউলস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেরি শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

চেরিতে থাকা পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক কাপ চেরি থেকে শরীরের দৈনিক চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সক্ষম হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রা উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো সমস্যা তৈরি করে। ‘এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, চেরি খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে এবং গেঁটে বাতের লক্ষণ, আচমকা তীব্র ব্যথা ও জয়েন্ট ফুলে যাওয়া হ্রাস পায়।

ছয়টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মিত চেরি বা চেরির রস পানের ফলে গেঁটে বাতের প্রকোপ কমেছে এবং রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও হ্রাস পেয়েছে।

চেরিতে মেলাটোনিন নামক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ঘুম এবং জাগরণের প্রাকৃতিক চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২০ জন ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের একদলকে প্লাসিবো (নকল ওষুধ) এবং অন্য দলকে সাত দিন ধরে টক চেরির রস দেওয়া হয়। চেরির রস পানকারী দলটির শরীরে মেলাটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ঘুমের সময় ও মান উভয়ই উন্নত হয়।

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় চেরি যুক্ত করা খুব সহজ। এটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। তাজা ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া যায় অথবা বিভিন্ন ডেজার্ট বা মিষ্টি খাবারে যোগ করা যেতে পারে। শুকনো চেরি, চকলেট চিপস এবং নারকেলের ফ্লেক্স একসঙ্গে মিশিয়ে স্ন্যাক্স হিসেবে তৈরি করা যেতে পারে। ফলের সালাদে চেরি মেশানো যায় এবং স্মুদিতে এটি পুষ্টির মান বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। ভিন্ন স্বাদের জন্য চেরি পনিরের সঙ্গে খাওয়া যায় কিংবা হালকা রোস্ট করে গ্রহণ করা যেতে পারে।

তবে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে চেরি খেলে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত চেরি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত; অন্যথায় ডায়রিয়া, গ্যাস এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে চেরি থেকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। এছাড়া, ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় চেরি যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে ১৫ থেকে ২৫টি চেরি খেতে পারেন। শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি চেরি খাওয়া নিরাপদ। অতিরিক্ত চেরি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে, তাই সবসময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করাই উচিত।

সূত্র: সামা টিভি 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষায় ছাদবাগানের যত্নে মানুন কিছু সহজ নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ এম


বর্ষায় ছাদবাগানের যত্নে মানুন কিছু সহজ নিয়ম

বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ছাদ বা বারান্দার গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং তারা আরও সতেজ দেখায়। কিন্তু অনেকেই এই ধারণা পোষণ করে থাকেন যে, বৃষ্টির পানি পেলেই গাছের আর আলাদা যত্নের প্রয়োজন নেই।

এ বিষয়ে উদ্যান বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং বর্ষাকালেই গাছের গোড়ায় পানি জমা, শিকড় পচা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এজন্য এই সময় ছাদবাগানের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঠিক রাখা। যদি অতিরিক্ত পানি জমে থাকে, তাহলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। তাই টবের নিচের ছিদ্র খোলা আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। টব বা ড্রামের চারপাশে জমে থাকা পানিও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

বর্ষার বৃষ্টির পানিতে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। এ কারণে, এই সময় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। তবে গাছের পুষ্টির জন্য চা-পাতা, ডিমের খোসা, সবজির উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো গাছের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।

এ সময় গাছের প্রতি পোকামাকড়ের আক্রমণও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নতুন পাতায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা বাসা বাঁধতে শুরু করে। তাই বর্ষার শুরু থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে নিম তেল, রসুন, শুকনো মরিচের গুঁড়া, গোলমরিচ, হলুদ বা কাঠের ছাই ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃষিবিদের পরামর্শ নিয়ে রাসায়নিক কীটনাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়াও, গাছের শুকনো বা পচা ডাল নিয়মিত ছেঁটে ফেলতে হবে এবং টবের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্ষার ফাঁকে যখন রোদ উঠবে, তখন গাছগুলোকে কিছু সময়ের জন্য রোদে রাখলে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং গাছ আরও সবল হয়।

উদ্যান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে সামান্য যত্ন ও নিয়মিত পরিচর্যাই ছাদবাগানকে সবুজ, সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%