১২:৪৭ এম
দিল্লি ভারত ও ইতালির সম্পর্ককে ‘গভীর ও শক্তিশালী’ আখ্যা দিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার গুরুত্ব উল্লেখ করেছে। এটি বলা হয়েছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কটাক্ষের পর।
এ সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমাদের ইতালির সঙ্গে গভীর ও শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার কাঠামোর মধ্যে বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্ব রাখে।’
দিল্লিতে কংগ্রেসের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করেন। তিনি এটা ব্যাঙ্গ করেন যে, মোদি বিদেশি নেতাদের সঙ্গে আলিঙ্গনকে কূটনীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন।
আরও পড়ুন: অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
এ সময় কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতের সঙ্গে রাহুল গান্ধী আলিঙ্গনের ভঙ্গিতে রসিকতা করেন। দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ তোলেন এবং রাহুলও এর সঙ্গে রসিকতার অংশ হন।
বিজেপি এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন?’ তিনি অভিযোগ করেন, যে ভারত পরিচালনার জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, ‘অপরিণত নাটক’ নয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে রাহুলের মন্তব্য অশোভন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
যোশি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী একজন নির্বাচিত নেতা এবং তাকে অপমান করা মানে ভারতের জনগণকেও অপমান করা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাহুলের আচরণ শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার কাছ থেকে যে ধরনের মর্যাদাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত, তা রাহুলের মন্তব্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিজেপির আরেক নেতা শাহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক এবং তা প্রকাশ করা রাজনৈতিকভাবে বৈধ। তবে একজন নারী বিদেশি নেতাকে রাজনৈতিক কৌতুকের মধ্যে টেনে আনা রাষ্ট্রনায়কসুলভ আচরণ নয়।
আরও পড়ুন: জামায়াত নিজেদের কর্মীদের ছাড়া একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না: মীর শাহে আলম
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রতীকী অঙ্গভঙ্গিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া মূলত অভিযোগ তোলা। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির প্রসঙ্গ আসার পর বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন