০৭:৩৫ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে দু’পক্ষ। ওয়াশিংটন তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে। এমনকি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত অনুমতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাপ এবং কৌশল প্রয়োগ করে চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের রিপাবলিকান শিবিরে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
ইরান যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তার নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেই।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে: সাদিক কায়েম
দলটির কিছু প্রভাবশালী নেতা ও সিনেটর অভিযোগ করেছেন যে, এই চুক্তি ইরানকে কৌশলগত সুবিধা প্রদান করছে। তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যতটা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে, ততটা সফল হয়নি। বিশেষত, হরমুজ প্রণালিকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বেড়ে গেছে। এমনকি, কিছু সদস্য এটিকে দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতির ভুল বলেও মন্তব্য করেছেন।
একজন রিপাবলিকান সিনেটর বলেছেন, এটি ‘গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ভুল’। অপর একজন সিনেটর মন্তব্য করেছেন, চুক্তির কিছু প্রকাশিত ধারা ‘অবিবেচক এবং অযৌক্তিক’ বলে তাদের মনে হচ্ছে। ট্রাম্পপন্থি বিশ্লেষকও এ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বরং, তারা বুঝে ফেলেছে যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি কার্যকর, এবং ভবিষ্যতেও তারা এই হাতিয়ারটি চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করবে।
অন্যদিকে, মিসিসিপির রিপাবলিকান সিনেটর এবং পাওয়ারফুল সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেছেন, তার আশঙ্কা, এই সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যগুলোকে আলোচনার টেবিলে বিসর্জন দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: খাদ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া এই সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী বিরোধ নিষ্পত্তি, পারমাণবিক ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে, ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের আরব উপসাগর এবং ওমান সাগর উপকূলের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর আর কোনো বাধা নেই। তবুও, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো এখনও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করবে।
ইরানও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে নিজেদের প্রভাবকে সন্দর্শন করেছে। জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত অনুমতির ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ৬০ দিনের জন্য কোনো ট্রানজিট ফি নেয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে, তবে তার জন্য, জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষের কাছে চলাচলের আবেদন জানাতে হবে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নানা চাপ ও কৌশল ব্যবহার করে এই চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছেন। তবে চুক্তি নিয়ে তার ভিন্ন মত থাকলেও ইরানের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি এতে অনুমোদন দিয়েছেন। একইসঙ্গে, তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা মানেই ওয়াশিংটনের অবস্থান মেনে নেওয়া নয়।
আরও পড়ুন: কঙ্গো থেকে ফেরা নাগরিকদের জন্য ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক: উগান্ডা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন