প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শক্তিশালী ডলারের পাশাপাশি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতিগত সংকেতের চাপের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমে গেছে। এর ফলে এই মূল্যবান ধাতুটি টানা তৃতীয় সপ্তাহের জন্য দরপতনের দিকেই এগিয়ে গেল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুক্রবার (১৯ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্স ৪,১৮৯ দশমিক ২৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও প্রতি আউন্স ৪,২০৭ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে এসেছে।
মার্কিন ডলার এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করায়, অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো আবার চলাচল শুরু করেছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসানের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যকর হওয়ায় তারা ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধগুলো প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টি মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির চাপ এতটাই বেড়েছে যে, বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তা উপেক্ষা করতে পারছে না। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নেতৃত্বে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ঋণের খরচ বাড়িয়েছে অথবা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকে, ফেডের সুদের হার ৩.৫০ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বুধবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে নয়জন মনে করেন যে, চলতি বছর সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স ডিসেম্বরের মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪,৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও এটি তাদের আগের ৫,৪০০ ডলারের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। কারণ প্রতিষ্ঠানটি এখন চলতি বছরে ফেডের সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।
অন্যদিকে, দুবাইয়ের পণ্য বিনিময় কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আমিরাতের বুলিয়ন বাজারে তারল্য বাড়াতে এবং নিরাপদ আশ্রয়সম্পদের চাহিদাকে কাজে লাগাতে তারা সোমবার একই দিনে নিষ্পত্তিযোগ্য একটি নতুন স্বর্ণ ফিউচার চুক্তি চালু করবে।
বিশ্বব্যापী স্বর্ণের দাম কমার ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে যে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এই ফলে দেশের বাজারের ওপরও চাপ পড়ে। তাই যে কোনো সময় দেশেও দাম কমানো হতে পারে।
গেল ১৮ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির ২,৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণালঙ্কারের ভ্যাটসহ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী সেখানে মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাট বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২,৩২,৯৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,২২,৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১,৯১,৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১,৫৬,৬৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১,৬৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১,২৭২ ডলারে নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন