ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি


ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি

ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের দিকে মুখ করে থাকা চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে পঞ্চম প্রজন্মের ‘মাইটি ড্রাগন’ বা জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে বেইজিং। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত জুন মাসের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের কাছাকাছি দুটি চীনা বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লাদাখ থেকে শুরু করে অরুণাচল সীমান্ত পর্যন্ত ভারতবিরোধী কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স বা পিএলএএএফ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ৯ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্রে জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটির টারমাকে সারিবদ্ধভাবে সাতটি জে-২০ স্টেলথ ফাইটার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যৌথভাবে বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত এই বিমানঘাঁটিটি উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং লেহ শহর থেকে ৩৮৯ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজে এখন পর্যন্ত একটি চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। একই সাথে প্রকাশিত অন্য একটি চিত্রে তিব্বতের লহাসা প্রিফেকচারের অংশ দামক্সুং বিমানঘাঁটির রানওয়েতে ক্যানোপি বা সুরক্ষামূলক কভারে ঢাকা আরও চারটি জে-২০ বিমান মোতায়েন অবস্থায় দেখা গেছে। দামক্সুং ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ফাইটার পাইলট সমীর জোশী এই সামরিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হোটানে সাতটি এবং দামক্সুংয়ে চারটি জে-২০ বিমানের উপস্থিতি প্রমাণ করে ভারতের মুখোমুখি উচ্চভূমির ঘাঁটিগুলো থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের সামরিক পরিচালনা বা অপারেশন এখন চীনা বিমানবাহিনীর জন্য কোনো সাময়িক প্রদর্শন নয়, বরং রুটিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এখন উত্তর সীমান্তে যেকোনো কম দৃশ্যমান হুমকির বিষয়টি একটি মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের কাউন্টার-স্টেলথ সেন্সর, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার স্ট্রাইক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করার জরুরি প্রয়োজনকে ফুটিয়ে তুলছে।

আরও পড়ুন: ‘জমি দখল-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ : ইশরাক হোসেন

জে-২০ যুদ্ধবিমানের এই মোতায়েন ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর উন্নত স্টেলথ ডিজাইন বা রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা শত্রুর আকাশসীমা সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সাহায্য করে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র রাডার সিগনেচারের কারণে এই যুদ্ধবিমানটি ভারতের বিমানবাহিনীতে থাকা বর্তমান প্রজন্মের ফ্রন্টলাইন ফাইটার জেটগুলোর চেয়ে বহুগুণে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের হাতে থাকা ফরাসি প্রযুক্তির দাসো রাফাল অত্যন্ত আধুনিক হলেও তা কোনো স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম নয়। বর্তমানে ভারতের নিজস্ব কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। ভারত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম স্টেলথ ফাইটার ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ বা এএমসিএ তৈরির উদ্যোগ নিলেও এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে, যা এর বিস্তृत ফ্লাইট-টেস্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রধান প্রযুক্তিগুলোর সফল মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের জে-২০ বিমান তৈরির ক্ষমতা অবিশ্বাস্য গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে চীনের কাছে মাত্র ৫০টি জে-২০ বিমান ছিল, ২০২২ সালের শেষের দিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০০টিতে। পরবর্তীতে এর উৎপাদন দ্বিগুণ গতি পায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ১২০টি বিমানে, যার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির এক ডজনেরও বেশি সামরিক ইউনিটে এই বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০টিতে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন প্রায় ১,০০০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে সক্ষম হবে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন বিমানবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি চীনের এই উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে বলেন, প্রতি বছর ১২৫টি যুদ্ধবিমান তৈরি করার ক্ষমতা তাদের উন্নত উৎপাদনব্যবস্থার বিশালতার প্রমাণ দেয়। তারা প্রায় বাণিজ্যিক বিমানের মতো গণহারে এগুলো তৈরি করছে, যা কেবল তখনই সম্ভব যখন সরবরাহব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ সমন্বিত থাকে, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় এবং দক্ষ মানবসম্পদ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। তিনি আরও জানান, চীন একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করে একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত দলকে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তারা বিমান শক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং একটি মিশন মোড হিসেবে কাজ শুরু করে।

বিগত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০ বিমানের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। ২০১৬ সালে তিব্বতের ডাওচেং ইয়াডিং উচ্চতম বিমানবন্দরে প্রথম জে-২০ ফাইটারের ছবি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্ত থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত শিগেতসে বিমানঘাঁটিতে এই ড্রাগন জেটের অবতরণের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: আখতার হোসেন: ইশরাক কাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা স্পষ্ট

বিপরীতপক্ষে, ভারতের বিমানবাহিনী বর্তমানে তাদের আম্বালা ও হাশিমারা ঘাঁটিতে দুটি স্কোয়াড্রনে বিভক্ত হয়ে মাত্র ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ২৬টি রাফাল কেনার অর্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল জেটের জন্য দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৬০টিরও বেশি রুশ প্রযুক্তির সুখোই-৩০ এমকেআই পরিচালনা করছে, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকীকরণ এখনো বাকি, এর পাশাপাশি রয়েছে পুরোনো মিরাজ ২০০০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়া এই নতুন সামরিক পরিস্থিতি এবং সুরক্ষার বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


রংপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

রংপুরের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য স্থানীয় জনগণকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, "শুধু সরকারের উদ্যোগে নয়, উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা, বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।" ক্ষুদ্র রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সবাইকে রংপুরের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) সুফলভোগীদের মধ্যে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, "উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী, কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান-সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, রংপুরের ব্যবসায়ীদের শুধুমাত্র ঠিকাদারি ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্প ও উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, "নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে রংপুরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।"

কৃষি খাতের উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "কৃষকের আয় না বাড়লে প্রকৃত পল্লী উন্নয়ন সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "শুধু রাস্তা, সেতু কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগই উন্নয়নের একমাত্র সূচক নয়, কৃষককে লাভবান করাই হতে হবে উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।"

বেকার শিক্ষিত তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, "শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অর্জন করলেই হবে না, কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।" তিনি বলেন, "কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।" মন্ত্রী বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের মানুষদের কর্মসংস্থান বেশি হলেও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। এ অবস্থার পরিবর্তনে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।"

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, "প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। সম্প্রতি পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে এর কার্যক্রম গতিশীল করার initiative নেওয়া হয়েছে।" পর্যায়ক্রমে জনবল নিয়োগ, কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো ও পল্লী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা: আসামী সুরুজ আলী কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা: আসামী সুরুজ আলী কারাগারে

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে বেআইনি প্রবেশ, চাঁদা দাবি এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে (৩৭) কুপিয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলীকে (৩০) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ ২৭ জুলাই (সোমবার) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ (এমএম-৫) আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে, বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমান আসামী সুরুজ আলীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামীদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

উল্লেখ্য, বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা (মামলা নং-০৬, তারিখ: ০৮/০৩/২০২৬) দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।

পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি ও নৃশংস হামলার ঘটনা নিয়ে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল কাঁচাবাজারস্থ বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১ নম্বর আসামী নূরে ইসলাম মিলন (৪৫) তার মাথায় পিস্তল ঠেকায়।

একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির সময় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলী ধারালো চাকু দিয়ে সভাপতি রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা চালান। আঘাত প্রতিহত করতে গেলে রেজাউল করিমের কোমরের নিচে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার শরীরে ১৩টি সেলাই পড়ে। উক্ত ঘটনায় বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারান্তরীণ আসামী সুরুজ আলী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি মূলতঃ একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক কোনো শিক্ষা সনদ না থাকা সত্ত্বেও রাতারাতি নিজেকে 'সাংবাদিক' হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তিনি যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদে রয়েছেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলের পর আজ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমানের আদালতে আসামিরা হাজির হলে প্রধান হামলাকারী সুরুজ আলীর জামিন নামঞ্জুর করে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবির নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


জাবির নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে, তাকে চার বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩’-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর।

তবে চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগে অবসর গ্রহণের বয়স পূর্ণ হলে, সেদিনই তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও সম্মানী পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া, তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্বও তিনি পালন করবেন।

প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি খেলার মাঠে রূপান্তরের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি খেলার মাঠে রূপান্তরের নির্দেশ

 দেশের গ্রামীণ জনপদসহ মহানগরে খেলার মাঠের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি খেলার মাঠে রূপান্তর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি আদেশে এ বিষয়ে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরের অধীন টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রধানদের জন্য এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

নির্দেশনায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত জমি যদি থাকে, তবে তা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্দিষ্ট ডিজাইন অনুসরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে খেলার মাঠে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এছাড়া, খেলার মাঠ তৈরির উপযোগী জমির পরিমাণ, তফসিল এবং মৌজা ম্যাপে অবস্থান চিহ্নিত করে তা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্লভগুলো বর্তমানে ব্যবহৃত মাঠগুলোর সুবিধা বৃদ্ধি করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর মাধ্যমে সংস্কার করে ক্রীড়ার অনুপযোগী মাঠগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্যও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আদেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন ই-মেইলে ([email protected]) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%