১০:১৮ পি.এম
কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝুলন্ত তারের অগণিত জঞ্জালের কারণে সড়কপথে ক্রমাগত বাড়ছে প্রাণহানিসহ একাধিক ঝুঁকি। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সঙ্গে পর্যটন এলাকা কলাতলীর বিভিন্ন স্থানে এই ঝুলন্ত তারের কারণে ঝুঁকির শঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে।
কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক এবং অলিগলির বিভিন্ন উপ-সড়কে দাঁড়ালে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, মাথার ওপর ঝুলন্ত তার গুলো নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কগুলো বিপজ্জনক এ সকল তারে প্রায় পুরোপুরি ঢেকে গেছে। শহরের ফুটপাত ও রাস্তা ঘেঁষে বিদ্যুতের খুঁটি ও ল্যাম্পপোস্টে ঝুলছে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সংযোগের তার। এসব জঞ্জাল গোটা শহরের সৌন্দর্য ম্লান করে দিয়েছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষ করে শহরের বার্মিজ মার্কেট, বাজারঘাটা, গোলদিঘীর পাড়, বিলকিস মার্কেট, ভোলাবাবুর পেট্টোলপাম্ব এলাকা, কালুর দোকান, টার্মিনাল, হলিডে মোড়, হাসপাতাল সড়ক, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট ও লাবণী পয়েন্টের আশপাশে এই ধরনের চিত্র অতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কেউই কোন ধরনের নীতিমালা মানছে না। সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতা এবং যথাযথ আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণে তারের জঞ্জাল ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে মাঝেমধ্যে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এই তারের জঞ্জালের কারণে সড়কের মূল্যবান বৈদ্যুতিক ও সড়কবাতির খুঁটির ক্ষতি হচ্ছে। ঝুলতে ঝুলতে অনেক স্থানেই তারগুলো মাটি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বর্তমানে এসব তারের জঞ্জালে একটি দিকে নগরীর সৌন্দর্যের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুলন্ত ডিশ বা ইন্টারনেটের ক্যাবল থেকেও অগ্নিকাণ্ড ঘটতে দেখা গেছে। পুরোনো তারের ত্রুটি দেখা দিলে সেগুলো কেটে ফেলার পরিবর্তে নতুন তার সংযোজন করা হচ্ছে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা, যার কারণে তারের জঞ্জাল দিন দিন বিস্তার লাভ করছে।
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, শহরকে এই জঞ্জালের কবলা থেকে মুক্ত করতে বিদ্যুৎলাইন এবং ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের লাইন মাটির নিচে নিয়ে যেতে হবে। এর ফলে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সিস্টেম লস কমিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য উপকারিতার দিকেও এগিয়ে যাবে। ঝড়-বৃষ্টিতেও বিদ্যুৎ-সংযোগ বাধাগ্রস্ত হবে না এবং মহানগরীর সৌন্দর্যও বজায় থাকবে। ঘোনারপাড়ার অটোরিকশাচালক নজরুল বলেন, "পর্যটক শহর কক্সবাজার। আমাদের পর্যটক ও সমুদ্রের জন্য সবাই প্রশংসা করে। এতে আমরা গর্বিত। কিন্তু যখন দেখি পরিচ্ছন্ন শহরের সৌন্দর্যহানি হচ্ছে তারের জঞ্জালের কারণে, তখন এটি আমাদের খারাপ লাগে। তারের জঞ্জাল ঝুঁকিপূর্ণও বটে। তারের জঞ্জালমুক্ত শহর গড়তে এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।"
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ বলেন, "ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তারের জঞ্জাল সরাতে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা এই জঞ্জাল সরাচ্ছে না। বিভিন্ন বিদ্যুতের খুঁটি ও ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে অতিরিক্ত তার পেঁচিয়ে রাখছে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটররা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এগুলো অপসারণ করা হবে।"
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন