১০:৫৪ পি.এম
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতি হঠাৎ করেই উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং চার ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষমতাসীন টিভিকের সঙ্গে বিরোধী দল ডিএমকে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছে।
গ্রেপ্তারের পর ডিএমকে সমর্থকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে। একই সাথে ক্ষমতাসীন টিভিকও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। উদয়নিধি স্ট্যালিন, যিনি তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের ছেলে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে একটি মন্তব্যের জেরে দায়ের করা মামলায়।
আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চেন্নাইয়ের বাসভবন থেকে উদয়নিধিকে গ্রেপ্তার করে। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে চার ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়। তবে স্ট্যালিনের মন্তব্য, তার গ্রেপ্তার ও মুক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অস্থিরতা বইছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্কে নানা গুঞ্জন চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এ বিষয়ে অনেকেই নানা কথা বলছেন। কাবেরী নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ডিএমকে গতকাল সোমবার তাঞ্জাভুরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।
সমাবেশে উদয়নিধি স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছিলেন। তখন ডিএমকে সমর্থকরা বিজয়কে ইঙ্গিত করে ‘তৃষা, তৃষা’ স্লোগান দিতে থাকে। উদয়নিধি তখন বক্তব্য থামিয়ে মুচকি হেসে বলেন, ‘অন্য কোথাও পানি পৌঁছাক আর না পৌঁছাক, ওইখানে যেন পানি ঠিকমতো পৌঁছায়।’
তৃষার নাম উল্লেখ না করলেও তার এই দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্যে মঞ্চে থাকা ডিএমকের অন্যান্য নেতারাও হাসাহাসি করতে থাকে। পরে বুঝতে পেরে উদয়নিধি মুচকি হেসে বলেন, ‘আমি কিন্তু কাবেরী নদীর পানির কথা বুঝিয়েছি।’
কিন্তু ততক্ষণে পানি অনেকদূর গড়িয়ে গেছে। টিভিকের পক্ষ থেকে উদয়নিধির ইঙ্গিতপূর্ণ অশালীন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তার বক্তব্যকে নারীদের জন্য অবমাননাকর হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক দুলাল কান্তি বাসায় ফিরেছেন, পরিবার অভিযোগ করেছে অপহরণের
এ ঘটনার পর তাঞ্জাভুর থানায় উদয়নিধির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগ তামিলনাড়ু মহিলাদের হয়রানি প্রতিরোধ আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন-এর আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষমতাসীন টিভিকও জাতীয় নারী কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছে।
আজ সকালে তাঞ্জাভুর পুলিশ উদয়নিধিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরেই ডিএমকে কর্মী-সমর্থকেরা তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। গ্রেপ্তারের আগেই উদয়নিধি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি কি মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কারো নাম উল্লেখ করেছিলাম? তাহলে আপনাদের কেন মনে হচ্ছে যে এমনটা ঘটছে? আদালতই এর ফয়সালা করুক।’
তবে উদয়নিধি যতই বলুন, তিনি কারো নাম বলেননি; কিন্তু সবাই বুঝতে পেরেছে, তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। এর ফলে তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা চলছে। টিভিক এই ঘটনায় নারীর শালীনতাহানির অভিযোগে উদয়নিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, স্ট্যালিনকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা করতে হবে।
টিভিকে বিধায়ক রেভন্থ চরণ বলেছেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত জঘন্য এবং এটি রাজনীতির ক্রমাবনতিশীল মানসিকতারই প্রতিফলন।’ বিজেপিও এই ঘটনায় উদয়নিধির বিচার দাবি করেছে। তামিলনাড়ু বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি বলেছেন, ‘উদয়নিধির মন্তব্য অশ্লীল, কুরুচিকর এবং লজ্জাজনক।’ এমডিএমকে নেতা দুরাই ভাইকো বলেছেন, ‘মূল বিষয় ছিল কাবেরী নদী এবং তামিলনাড়ুর কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে। উদয়নিধি স্ট্যালিন যে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন, তা নিন্দনীয়। এটি নারীদের অবমাননা করে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এটি ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশ চুকানোর মঞ্চ ছিল না। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ গায়িকা ও ডাবিং শিল্পী চিন্ময়ী শ্রীপদা এবং অভিনেত্রী ও তামিলনাড়ু বিজেপির সহ-সভাপতি খুশবু সুন্দরও উদয়নিধি স্ট্যালিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫১৯ জন আটক
ডিএমকে এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। দলের বক্তব্য হলো, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতেই সরকার পুলিশকে ব্যবহার করছে। ডিএমকে প্রধান ও উদয়নিধির পিতা এমকে স্ট্যালিন এ ঘটনায় টিভিকের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘অহংকার ধ্বংস ডেকে আনে; আর অনড় অহংকার সেই ধ্বংসকে কেবল ত্বরান্বিত করে।’
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক মুখমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বলেছেন, ‘সরকার কাবেরী ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতে উদয়নিধিকে গ্রেপ্তারের পথ বেছে নিয়েছে। রাজ্যের বাজেট অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন, বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধানসভার বাইরে রাখারই একটি অপচেষ্টা এটি।’
এমকে স্ট্যালিন বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টার বদলে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে এখন অবশ্যই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাকে, তার মন্ত্রীদের বা তার সরকারকে যারা সমালোচনা করছে; তাদের গ্রেফতার করা ছাড়া আর কিছুই করেননি। যে কোনো টুইট বা ভিডিও বার্তার পরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের জমি কেড়ে নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: বারাক ওবামা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন