০৭:৪০ এম
সরকারি বেসরকারিসহ প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে ১২৩টি পরিত্যক্ত বাড়ি। দখলদাররা নানান কারণে মামলা করে এগুলো আটকে রাখে।
রাজধানী ঢাকায় সরকারের ১২৩টি মূল্যবান পরিত্যক্ত বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলে রয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সরকার এসব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল, কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাবশালী, ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের সহযোগিতায় এগুলো বেদখল হয়ে গেছে।
হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা
জানা গেছে, স্বাধীনতা-উত্তরকালে যেসব সম্পত্তি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অনুযায়ী ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেগুলোর একটি বড় অংশ এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, রমনা ও মতিঝিলের মতো অভিজাত এলাকায় অবস্থিত এসব বাড়ির বাণিজ্যিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। বেদখল হওয়া ১২৩টি বাড়ির পেছনে একটি শক্তিশালী দখলদার সিন্ডিকেট কাজ করছে।
এই দখলদার সিন্ডিকেট বিভিন্ন কারণে আদালতে মামলা এবং রিট করে এগুলো আটকে রেখে প্রশাসনের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। যদিও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের চেষ্টা রয়েছে সেগুলো উদ্ধারের, কিন্তু মামলাগুলোর কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।
গুলশান, বনানী এবং ধানমন্ডির মতো এলাকা থেকে ব্যাপক অস্বাভাবিকভাবে আবাসিক বাড়িগুলোকে রাতারাতি অবৈধভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে দখলদাররা প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলশান-১ এর ১৩৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি ১৭ কাঠা জমির ওপর নির্মিত।
যদিও এই ১৭ কাঠা জমির ওপর দুটি বাড়ি রয়েছে। একটি বাড়িতে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ এবং অন্যটিতে মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল বারেক। দুটি বাড়ি সাধারণ বীমা করপোরেশনের অবৈধ দখলে রয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার মূল দর্শন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো: রাষ্ট্রপতি
এছাড়া গুলশানের ১০৩, ১০৪ নম্বর রোডের ২৭/বি এর দেড় বিঘা জমিতে ২৯ নম্বর বাড়িটি দখলে রেখেছেন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী। বর্তমানে সালাম মুর্শেদীর পরিবার সেখানে বসবাস করছে। গুলশান-২ এর ১২৬/১২৭ নম্বর রোডের ১৬ কাঠা জমির ওপর ১৫ নম্বর বাড়িটি দখলে রেখেছে আনসার ক্যাম্প। আনসার ক্যাম্পটি ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি হলেও এই জায়গাটির মালিকানা দাবি করছেন মিজান নামক ব্যবসায়ী।
তিনি জানান, তিন তলাবিশিষ্ট বিশাল এ বাড়িটিতে ১০ জন আনসার রয়েছেন। এছাড়াও পুরানা পল্টনের ২১.৬২ কাঠা জমিতে ১৮-তলা ভবন; আর কে মিশন রোডের ২৫-তলা ভবনের ৩ নম্বর বাড়ি; ১৮৯, তেজকুনীপাড়ার প্রায় ৩০ কাঠা জমির ৮ তলা ভবনে ২৮টি ফ্ল্যাট; ৭, ময়মনসিংহ রোডের ২২ কাঠা জমিতে ছয় তলা দুটি ভবনের ৪৫টি ফ্ল্যাট এবং ৩৩, দিলু রোডের আট কাঠায় আট তলা ভবনের ২১টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
মোহাম্মদপুর বি-ব্লকের হুমায়ুন রোডের সাড়ে সাত কাঠা জমিতে ৫/১৮ নম্বর বাড়িতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ১৩৩ নম্বরে ২০ কাঠা জমিতে একটি দোতলা বাড়ির নিচ তলায় ‘ইন্ডিয়ান স্পাইসি চিকেন’ এবং ‘অহনা ডিনার’ নামে দুটি রেস্টুরেন্ট চলমান। অদূরে রয়েছে একটি বড় মোটর গ্যারেজ ও দুটি দোকান। দোতলাজুড়ে বিশাল খাবারের দোকান ‘ওজ ক্যাফে রেস্টুরেন্ট’ গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় আরও অনেক দখলদারির কার্যক্রম চলছে।
জানতে চাইলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের (এপিএমবি) সভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সরকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়ে সব সময় আন্তরিক। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে। বহু সম্পত্তি নিয়ে মামলা থাকায় দ্রুত সময়ে উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকার এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
আরও পড়ুন: ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে গেজেটভুক্ত পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ির সংখ্যা ৬ হাজার ৫৩৮টি। পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর মধ্য থেকে সরকার অবমুক্ত করেছে ১ হাজার ১৮টি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া ও লিজ দেওয়া হয়েছে অন্তত দেড় হাজার বাড়ি। পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টে ৪ হাজার ৩৫৮টি মামলা রয়েছে। কোর্ট অব সেটেলমেন্টে ২৫০টি এবং ভাড়া আদায় সংক্রান্ত ৪১২টি মামলা চলমান আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন