প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হককে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) খোন্দকার আবু আশফাকের মন্তব্য এক্সপাঞ্চ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেছেন, একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদে আলোচিত হওয়া উচিত নয়, এ ধরনের বক্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে স্পিকার এই তথ্য জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাজেট আলোচনা চলাকালীন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বলেছেন, মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাচ্ছেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়েছেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটি আসলে কী ছিল? সেদিন সংসদে আলোচনা চলাকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এই বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। তার অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হওয়া উচিত নয়।
এরপর রোববার অধিবেশনে স্পিকার সংসদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক হেফাজতে ইসলামীর নেতা মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে ‘কথিত পরকীয়া’ নিয়ে দুই-একটি মন্তব্য করেছেন, যা অনভিপ্রেত। বলা হয়েছে যার সম্পর্কে, তার সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ নেই, তাই তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা উচিত নয়। এই কারণে আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করা হয়েছে।
স্পিকার আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির জীবনের অন্ধকার অধ্যয়ন সম্পর্কে তার নিজের মুখে যে কথাটি এসেছে সেটিও এক্সপাঞ্চ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাজেট বক্তব্যসহ অন্যান্য বক্তৃতায় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন তিনি। যিনি এখানে এসে নিজেকে ডিফেন্ড করা সম্ভব নয়, তার বিরুদ্ধে যেন বিরূপ মন্তব্য করা না হয়।
এদিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দীন একটি বিষয় উত্থাপন করেন। চলতি সংসদে গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করেছেন, যা অসত্য, কারণ তার বাবা এখনও জীবিত। এ অসত্য বিবৃতিটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্চ করার দাবি জানান তিনি।
জবাবে স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তার চেম্বারে এসে দেখা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি ভুলক্রমে মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে। ওই সংসদ সদস্য নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করায় এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে বিবেচনা করে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্চ করা হবে।
এরপর আরেকটি পয়েন্ট অব অর্ডারে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন অভিযোগ করেন, দুদিন আগে মুন্সিগঞ্জে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওই এলাকার মানুষকে কটাক্ষ করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ এনেছেন, যা মুন্সিগঞ্জের মানুষের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে থাকলে এর ভিত্তিতে কথা বলবেন।
তবে স্পিকার এ দাবি নাকচ করে বলেন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হতে পারে না। দেশে বাকস্বাধীনতা রয়েছে এবং রাজনীতিবিদরা বাইরে অনেক কিছু বলেন। সংসদের বাইরের বিষয়গুলোর জবাব সংসদের বাইরেই ভালো। সংসদের ভেতরে যদি কোনো আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয় বা কারও নাম উল্লেখ করা হয়, তবে বিধিমোতাবেক জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন