মোঃ মাহবুব আলম শাওন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
০৮:১২ পি.এম
নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ-এর সৌজন্যে মানব পাচার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন অতিরিক্ত আইজিপি (অব.) এবং অ্যাডভাইজার,জাস্টিস এন্ড কেয়ার বাংলাদেশ।
এ সময় মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং এ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা মানব পাচার রোধে পুলিশ, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বেসরকারি সংগঠনসমূহের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাধারণভাবে বিশ্বকাপের একটি উপকাহিনী হিসেবে বিবেচিত হলেও এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড় এখন অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। তারকা ফরোয়ার্ডরা শুরু থেকেই দুর্দান্ত গতিতে গোল করে চলেছেন।
এই বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ইতোমধ্যেই ভেঙে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচে পাঁচ গোল যুক্ত করে তিনি বর্তমানে ছয়টি বিশ্বকাপে মোট ১৮ গোলের মালিক হয়ে গেছেন।
তবে তাকে নাগাল দিতে ছুটছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। যাদের দুজনের গোলসংখ্যা ইতোমধ্যেই চার। এছাড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও হ্যারি কেনও রয়েছেন এই প্রতিযোগিতায়।
১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এক আসরে ১৩ গোল করে যে দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড গড়েছিলেন, সেটিও এবার হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার ছিলেন সর্বশেষ খেলোয়াড় যিনি এক বিশ্বকাপে দুই অঙ্কের গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন ১০ গোল। এরপর থেকে মাত্র তিনটি আসর বাদে প্রতিটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছয় বা তার কম গোল করেছেন।
আর্জেন্টিনার অধিানয়ক মেসিই এখন পর্যন্ত কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে স্মরণীয় হ্যাটট্রিক করার পর তিনি অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের জয়ের সময় আরও দুটি গোল করেছেন। ফলে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এ পর্যন্ত করা পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে তার পা থেকে।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি উদ্বোধনী ম্যাচের পর বলেন, অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের প্রতিভা ব্যাখ্যা করা কঠিন।
তিনি বলেন, “আমরা এখনও তাকে দেখে বিস্মিত হই, যদিও প্রতিদিনই তাকে দেখি। গত ২০ বছর ধরে সে-ই সেরা। প্রতিটি ম্যাচেই সে আবারও তা প্রমাণ করে।”
টুর্নামেন্টে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনার বিচারে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন এমবাপ্পে। চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। বর্তমানে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠা ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে, মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা থেকে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে আছেন।
ইরাকের বিরুদ্ধে দলের ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বলেন, মেসিকে তাড়া করা তার মূল চিন্তা নয়।
তিনি বলেন, “লিও সবসময় গোল করে এবং করতেই থাকবে। তাই সে কী করছে সেদিকে আমি তাকাচ্ছি না, আমি শুধু আমার দলকে সাহায্য করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
এমবাপ্পের সমান চার গোল নিয়ে আছেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের হয়ে টানা ১২টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। ২৫ বছর বয়সী এই শক্তিশালী স্ট্রাইকার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোলের অসাধারণ মাইলফলকে পৌঁছেও নিজের প্রতিভাকে খুব সাধারণভাবেই দেখেছেন।
তিনি বলেন, “অনেক কিছুর মতো এটাও বলতে হয় আমি গোল করতে পারি এবং কিছুটা ভাগ্যবানও। আমি আসলে জানি না আমি কী করছি। ব্যাপারটা এমনই।”
জার্মানির ডেনিজ উনডাভ ও কানাডার জোনাথ ডেভিড তিনটি করে গোল করেছেন। আর দুই গোল নিয়ে রয়েছেন খেলোয়াড়দের মধ্যে কেন ও রোনালদো।
মঙ্গলবার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির কাছ থেকে কিছু সময়ের জন্য আলো কেড়ে নেন রোনাল্দো। তিনি বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন। ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডো উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫-০ ব্যবধানের জয়ের সময় দুটি গোল করার পর চিৎকার করে বলেন, “আমি ফিরে এসেছি, আমি ফিরে এসেছি।” এর আগে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল বেশ নিষ্প্রভ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনাল্ডোর গোলসংখ্যা এখন দাঁড়িয়ে ১৪৫।
তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই এসে পৌঁছাই, দেরিতে হলেও। কিন্তু আমি থাকি।”
অন্যদিকে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেন বর্তমানে দুই গোলেই আটকে আছেন। মঙ্গলবার ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে তিনি একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বুধবার ওমান সফর করেছেন।
এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিচালনা এবং নৌ-চলাচল সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর জন্য ইরান, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরাকের মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া।
দুবাই থেকে এএফপি জানিয়েছে, আলোচনা-সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিকের বরাতে তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর পরিচালনা নিয়ে ইরান, উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরাকের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতির জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রী মাসকাটে গেছেন।’
এই আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন যে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান আলোচনার বাইরে আলাদা ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সৌদি আরবে একটি শীর্ষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোও অংশ নিতে পারে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয়।
তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান অবরোধ প্রত্যাহার করেছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয় এবং যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর করা হয়।
১৪ দফা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর দুই তীরে অবস্থিত দেশ ইরান ও ওমানকে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রণালীটির ‘ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা’ নির্ধারণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ওই কূটনীতিক আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচল এবং যাতায়াতের ওপর কোনো ধরনের ফি আরোপ না করার পক্ষে অবস্থান নেবে। অন্যদিকে, ইরান পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সেবা বাবদ একটি ফি আরোপের প্রস্তাব দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কাতারের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানও হরমুজ-সংক্রান্ত আঞ্চলিক আলোচনায় অংশ নিতে পারে।
লন্ডনভিত্তিক রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এইচ এ হেলিয়ার বলেন, সম্ভাব্য মীমাংসা আলোচনা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ইরান-সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভবিষ্যতে কী ধরনের ভূমিকা প্রত্যাশা করা যায়, সে বিষয়ে তাদের পুনর্মূল্যায়নের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের অনির্ভরযোগ্যতা এবং ইসরাইলের আঞ্চলিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে ‘পরিচালনাযোগ্য সহাবস্থানের’ পথ খুঁজছে।
মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক ও সামুদ্রিক সেবা বাবদ আদায় করা অর্থের পরিমাণ নিয়ে তারা যৌথভাবে পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে তারা প্রণালির নিজ নিজ আঞ্চলিক জলসীমার ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ওমানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরান-সংক্রান্ত আলোচনা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা ক্যাডারের ৩৫৫ জন কর্মকর্তা শিক্ষকতা পেশা ত্যাগ করে প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন। এর পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের পর এই আবেদনগুলো জমা পড়তে শুরু করে।
আবেদনকারীদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের আলোকে শিক্ষা ক্যাডারের নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য প্রশাসন ক্যাডারে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বেশ কিছু কর্মকর্তার মধ্যে আগ্রহ জাগিয়েছে।
মোট ৩৫৫ জন কর্মকর্তা উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের তালিকায় একদিকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের নাম রয়েছে, অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ডসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারাও আছেন।
এছাড়া শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি অংশও এই পদোন্নতির দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক দায়িত্বে কাজ করছেন, যদিও তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। নতুন এই সুযোগকে অনেকে ক্যারিয়ার অগ্রগতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছেন। একইসঙ্গে শিক্ষা ক্যাডার থেকে অনেক কর্মকর্তার প্রশাসন ক্যাডারে যাওয়ার আগ্রহ দেখানোর কারণে শিক্ষা প্রশাসন ও উচ্চশিক্ষা খাতের জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ফলাফল দৃশ্যমান হবে।
জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আজ বুধবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সফরটি অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার ফলে শ্রমবাজার ও জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তখন চলমান বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে পাবেন।
ওসমানী বিমানবন্দরের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে বিমানবন্দরে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ এবং বিশেষ সহায়তাপ্রার্থী যাত্রীদের জন্য লাগেজ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ চলছে।
একই সঙ্গে প্রবাসীরা যাতে বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হয়রানি বা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, রাতের ফ্লাইটে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণ এবং বিমানবন্দরে শিশুদের জন্য ‘কিডস জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
মাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সুযোগ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
কাতারে নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দেবজিৎ সিংহ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালক হাফিজ আহমদসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ