বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৪৭ এম
টানা ভারী বর্ষণের কারণে, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় কক্সবাজারে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন।
এদিকে, পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ এবং চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে।
চকরিয়ার দুর্গম বমু বিলছড়ি, বড়ইতলী, বিবিরখীল ও হারবাং, পেকুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এখনো অনেক পরিবার খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তবে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টিসহ মোট ৮৮টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। এসব টিম, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলোআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে জেলার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার ওআরএস, ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন, ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন, ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার, শিশুদের বন্যার পানিতে চলাচল থেকে বিরত রাখার, বিশুদ্ধ পানি পান করার এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মাঝে বুধবার জাতীয় সংসদে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল-২০২৬' পাস হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিলুপ্ত হয়ে একটি সমন্বিত 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ' গঠনের পথ খুলেছে।
বিলটি জরুরি ভিত্তিতে সংসদে উত্থাপন করা ও পাস করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা জোরালো আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের দেওয়া হয়নি।
নতুন এই আইন অনুযায়ী বিদ্যমান তিনটি কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত হয়ে তাদের কার্যক্রম একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ, দ্রুত ও সমন্বিতভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূলত দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি তাৎক্ষণিক বিবেচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা উল্লেখ করেন, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিলটি উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তাদের দেওয়া হয়নি। যথোপযুক্ত পর্যালোচনা ও আলোচনার সুযোগ না দিয়েই কেন সরকার বিলটি দ্রুত পাস করতে চাইছে, সেই প্রশ্নও তাঁরা তোলেন।
পাস হওয়া এই বিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০; বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬; এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ রহিত ও সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে—অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা; লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে সেবার মান ও সময়সীমা নির্ধারণ এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রদান করা।
এ ছাড়া বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়্যালটি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান (টেকনিক্যাল নো-হাউ) ফি, কারিগরি সহায়তা ফি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি পরিশোধ করতে চাইলে, ওই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ যে পরিমাণ রয়্যালটি বা ফি নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সেই পরিমাণ অর্থই পরিশোধ করতে হবে।
বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান বলেন, গত ৯ জুলাই মন্ত্রিসভা বিলটির অনুমোদন দিলেও সংসদে উত্থাপনের আগে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তিন দিনের নোটিশসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংসদ সদস্যদের দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, 'বিলটির মাধ্যমে চারটি বিদ্যমান আইন রহিত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইন ও রহিত হতে যাওয়া আইনগুলোর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে কোনো তুলনামূলক বিবরণ সংসদ সদস্যদের দেওয়া হয়নি।'
অতিরিক্ত, বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে না। তিনি বিলটি পাসের আগে পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'বিলটিতে কী ধরনের ভুল বা ঘাটতি থাকতে পারে কিংবা এত তাড়াহুড়ার কারণ কী, আমরা বুঝতে পারছি না। এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত আছে কি না, সেটিও আমরা জানি না।'
সংসদ সদস্যদের এই আপত্তির উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাদের বিরোধিতা না করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এটি পাসে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ থেকে সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বিলগুলো সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়ে আসছে। তবে বর্তমান বিলের মাধ্যমে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে না।
মন্ত্রী বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে পৃথক আইনের আওতায় গঠিত কয়েকটি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে যে ওভারল্যাপ বা কাজের পুনরাবৃত্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করে বিনিয়োগকারীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতেই এগুলোকে একীভূত করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ' একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে। তুলনামূলক বিবরণীর প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো আইনগত কাঠামো নয়; বরং বিদ্যমান কয়েকটি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার একটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ মাত্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালিতে হামলার ফলে প্রাণ হারানো নাবিকদের বেশিরভাগই ভারতীয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলায় গত ১ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ১৬ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহত নাবিকদের মধ্যে সাতজন ভারতের নাগরিক। যা মোট নিহত ব্যক্তিদের ৪৪ শতাংশ।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এমটি মারিভেক্স, এমটি সেত্তেবেলো, এমটি জালভির নামে তিনটি জাহাজে হামলা চালায়। এই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। মাত্র একদিন পর, ১ মার্চ এক ভারতীয় নাবিক হামলায় নিহত হন, যাহার জাহাজটি ওমান উপকূলে ছিল।
এছাড়া, পার্সি উপসাগর ও ওমান উপসাগরে হামলার ফলে ১৮০ ভারতীয় নাবিক মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস এবার আইসিসির ১১১তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছে। বৈশ্বিক ক্রিকেটের পরিধি এর মাধ্যমে আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও নতুন সদস্য হিসেবে যোগদান করলেও আইসিসির কড়া অবস্থান বজায় রয়েছে, বিশেষ করে বেশ কিছু পুরোনো সদস্য দেশের অভ্যন্তরীণ ঝামেলা নিয়ে।
ক্রিকেট কানাডা বর্তমানে আপাতত স্থগিত রয়েছে। কারণ, বোর্ডে শৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিকতার অভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
আইসিসি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থার পর্যবেকণ করেছে। নতুন সংবিধান প্রণয়নের অগ্রগতির প্রশংসা করলেও আইসিসি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নির্বাচনের আগে শ্রীলঙ্কার কোনো প্রতিনিধি আইসিসির বোর্ড সভায় অংশ নিতে পারবেন না।
ফ্রান্স ক্রিকেটকে আইসিসির সদস্যপদের শর্ত ও নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোকে আরও রোমাঞ্চকর ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এডিনবরায় আইসিসির বার্ষিক সভায় পুরুষদের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় ধরনের পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বৃদ্ধি করা, যাতে কোনো ম্যাচই নিষ্প্রভ বা আনুষ্ঠানিক থাকার সুযোগ না পায়।
একই সঙ্গে সহযোগী দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক মঞ্চে খেলার সুযোগকে আরও সহজ করার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। নতুনভাবে ১৪ দলের ওপর ভিত্তি করে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এতে 'সুপার সিরিজ' ও 'সুপার সেভেন' অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ১৪ দলের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বহাল থাকলেও পুরো খেলায় ফরম্যাটের পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের যেখানে ৭টি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপে খেলা হতো, সেখানে এখন যুক্ত হচ্ছে তিনটি ধাপ।
অনুমোদিত নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী প্রথম রাউন্ড সুপার সিরিজ (রাউন্ড রবিন) ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর দলের খেলা হবে। শীর্ষ দলটি দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। পুরনো ফরম্যাটে প্রথম রাউন্ডে সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলা হতো। নতুন অনুমোদিত দ্বিতীয় রাউন্ডে গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুটি গ্রুপ, ছয়টি করে দল, মোট ৩০টি ম্যাচ হবে।
প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ তিনটি এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরবর্তী সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল সুপার সেভেনে যাবে। পুরোনো ফরম্যাট অনুযায়ী দ্বিতীয় রাউন্ডে সরাসরি সুপার সিক্স হতো, যেখানে দুটি গ্রুপ, তিনটি করে দল যেত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় রাউন্ড হচ্ছে সুপার-সেভেন (রাউন্ড রবিন), যেখানে ৭টি দল একে অপরের মুখোমুখি হবে ২১টি ম্যাচে।
আগে সুপার সিক্সে ৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো। সুপার সেভেনের শীর্ষ ৪টি দল সরাসরি সেমিফাইনালে খেলবে। ১ নম্বর দল খেলবে ৪ নম্বরের বিপক্ষে এবং ২ নম্বর দল খেলবে ৩ নম্বর দলের বিপক্ষে। আগে সুপার সিক্সের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতো। আইসিসির মতে, এই নতুন নিয়মে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আকাশচুম্বী হবে। বিশেষ করে 'সুপার সেভেন' পর্বের রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে দলগুলোর শক্তির প্রকৃত পরীক্ষা হবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দলের প্রতিযোগিতায় যুক্ত হচ্ছে 'সুপার ১০' ও 'এলিমিনেটর'। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আইসিসি ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণেও বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে এখন দ্বিতীয় পর্বে আগের চেয়ে বেশি দল খেলার সুযোগ পাবে। গ্রুপ পর্বে আগে ৫টি দল নিয়ে ৪টি গ্রুপ ছিল, যেখানে মোট ৪০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো।
নতুন নিয়মে ৪টি দল নিয়ে ৫টি গ্রুপ হবে, খেলবে ৩০টি ম্যাচ। প্রতি গ্রুপ থেকে ২টি করে দল পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। দ্বিতীয় পর্বে আগে 'সুপার এইট' হতো, এখন হবে 'সুপার টেন'। ৫টি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপে ২০টি ম্যাচ খেলা হবে। সেমিফাইনালের সেমিফাইনালের সমীকরণ হিসেবে, সুপার টেনের দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে চলে যাবে। তবে চমক থাকবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর জন্য। গ্রুপের ২য় স্থানে থাকা দল অপর গ্রুপের ৩য় স্থানে থাকা দলের বিরুদ্ধে 'এলিমিনেটর' ম্যাচ খেলবে। এই দুটি এলিমিনেটরের জয়ী দল বাকি দুটি সেমিফাইনালের টিকিট পাবে।
২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের রোডম্যাপও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মনে রেখে স্কটল্যান্ড সরাসরি 'ইউরোপ রিজিওনাল ফাইনালে' খেলার সুযোগ পাবে। অন্য যে দলগুলো ২০২৬ বিশ্বকাপে খেললেও সরাসরি ২০২৮ সালের টিকিট পায়নি, তারা গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে খেলবে। এই গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে আঞ্চলিক পর্ব থেকে আরও ৮টি দল উঠে আসবে।
আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে ২টি করে; আমেরিকা এবং ইএপি অঞ্চল থেকে ১টি করে। গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের প্রতিটি অঞ্চলের শীর্ষ দল এবং সামগ্রিক তালিকার পরবর্তী সেরা ৩টি দল ২০২৮ বিশ্বকাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করবে। সহযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্সের মান বৃদ্ধি করার জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ১৬ দলের একটি নতুন বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আইসিসি বোর্ড এতে নীতিগত অনুমোদন দিলেও আগামী নভেম্বরে আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্যিক কমিটি এটি চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করে সবুজ সংকেত দেবে। আইসিসির এই নতুন পরিকল্পনা ক্রিকেটকে কতটা রোমাঞ্চকর করে তোলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ