০৯:০৪ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও তা করা হচ্ছে না। নাটক কম করেন প্রিয়।’
মো. নাহিদ ইসলাম বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে শনিবার দলের এগারো দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসব কথা বলেন, যেখানে তিনি জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবি তোলেন। তিনি এসময় বলেছেন, ‘আমরা সারাদেশে কর্মসূচি করছি। সবশেষ ঢাকায় সমাবেশ হবে। এর মধ্যে যদি সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আমরা গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। এই মুহূর্তে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে চাই না, কিন্তু সরকার ক্রমশই পরিস্থিতি সেদিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পরে সত্তর শতাংশ মানুষ এর রায় দেওয়ার পরও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অন্যদিকে মুখে বলছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। জুলাইয়ে একটি স্লোগান ছিল, নাটক কম করো প্রিয়, তারেক রহমানকে বলছি, নাটক কম করেন প্রিয়।’
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি
তিনি বিএনপিকে গণতন্ত্রবিরোধী দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বিএনপি কখনোই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না। তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। এখন আর পরিবর্তনের কথা বলে না। একত্রিশ দফার কথা বলে না। তারা নাকি কখনো সংবিধান সংস্কারের কথা বলেনি। অথচ একত্রিশ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা। সংবিধান সংশোধনের নামে যে প্রহসন সরকার করছে, এটা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। সংবিধান সংশোধনের প্রহসন করে শেখ হাসিনা দিল্লিতে আছে।’
বাংলাদেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, ‘বরিশালে কর্মসংস্থান নেই। বরিশালের মানুষ ঢাকায় গিয়ে কষ্ট করছে। পাঁচ মাসে কোনো কর্মসংস্থান হয়নি। হয়েছে চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান। আমরা কর্মসংস্থানের জন্য, বিদ্যুতের জন্য, সীমান্তের সুরক্ষার জন্য, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি নির্মূলের জন্য সংগ্রাম করছি। আমরা যারা চব্বিশে গণঅভ্যুত্থান করেছি, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আঠারো জুলাই শত শত শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থান থেকে বিপ্লবে রূপান্তরিত করেছিল। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই-বোনদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমরা ওয়াদা করছি, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা বিনির্মাণ করব।’
সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, এনপিপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনসহ এগারো দলীয় জোটের কেন্দ্র ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন