০৪:৩৯ পি.এম
দেশে দক্ষ নার্সের সংকট দূর করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন জন্য মাদারীপুরে আধুনিক নার্সিং কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পের ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে কাজ শেষ না করেই ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরপর তারা অসমাপ্ত অবস্থায় নির্মাণকাজ ফেলে রেখে সরে গেছে। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে কলেজটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। যে ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতের নার্সদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন নির্মাণাধীন এই ভবনটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাসে ঘাস আর লতাপাতায় ছেয়ে গেছে। ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই চোখে পড়ে মাদক গ্রহণের বিভিন্ন সরঞ্জাম। চারদিকে ছড়িয়ে আছে মাদকের দুর্গন্ধ। নিরাপত্তাকর্মী বা কোনো কর্মকর্তা না থাকায় ভবনটি মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘসময় অরক্ষিত থাকার কারণে বিভিন্ন কক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান নির্মাণ সামগ্রী চুরি হয়েছে। নিরাপত্তাহীন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ভবনটিতে তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় ২০২১ সালের ১০ মার্চ ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব নেয় রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া ভিত্তিক মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই নামক দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ অসমাপ্ত রেখেই পালিয়ে যায়।
এরই মধ্যে কাজের অগ্রগতি ৮৮ ভাগ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বাতিল করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হাসান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভবনটির নির্মাণ কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কেউ কাজ করতে আসে না এবং বাকি কাজও শেষ হয়নি। অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি বর্তমানে এলাকার বখাটেদের মাদক সেবনের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।’
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
আরেক বাসিন্দা জানান, এখানে দিনে নির্জন, রাতের বেলা ভয়ংকর। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ এই এলাকায় আসতে সাহস পায় না। নিরাপত্তাহীনতা থাকায় এই ভবনটি অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, দ্রুত বাকি নির্মাণকাজ শেষ করে নার্সিং কলেজটি চালু করার।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল খায়ের খান বলেন, ‘দেশে দক্ষ নার্সের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে নার্সিং কলেজটি চালু করা গেলে দক্ষ নার্স তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি সুফল পাবে।’
মাদারীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানিয়েছেন, ‘বাকি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আগের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।’
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন