ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের মামলার শুনানির দিন ধার্য ৩০ সেপ্টেম্বর


শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের মামলার শুনানির দিন ধার্য ৩০ সেপ্টেম্বর

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অবশিষ্ট চার্জ গঠন শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জয় বাংলা ব্রিগেড-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

আসামি পক্ষের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কারাগারে থাকা কয়েকজন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা চার্জ গঠন পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

অন্য আবেদনগুলিও মঞ্জুর করা হয়, ফলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় কারাগারে আটক ২৪ আসামিকে হাজির করা হয়, এর মধ্যে ২০ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা ছিলেন।

শুনানির সময় তাদের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। তাদের উপস্থিতিতে চার্জ গঠন সংক্রান্ত শুনানি শুরু হয়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এদিকে, জামিরুল ইসলাম বাবু নামের এক আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক আদালতে মামলাটি করেন।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৪ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ২৬১ জনকে আদালতে হাজির হওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পর্যায়ে ছিল।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচার দ্রুত ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকা তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানো হয়। ওই আদেশে বলা হয়, দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ এ বদলি করা হলো।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এই সময় শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় ১,৩৩৬ জনকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ: প্রযুক্তিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় ১,৩৩৬ জনকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ: প্রযুক্তিমন্ত্রী

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৩৩৬ জন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

এটি রাশিয়ান ঠিকাদারের মাধ্যমে রাশিয়ান ফেডারেশন এবং রূপপুর এনপিপির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হয়েছে, বলেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রকল্পটিতে প্রায় ৫ হাজার বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। আজ জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোডাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল কন্ট্রাক্টের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ফুল-স্কেল সিমুলেটরসহ সব ধরনের সহায়ক কারিগরি যন্ত্রপাতি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ফকির মাহবুব আনাম জানান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা রাশিয়ায় সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা বর্তমানে রূপপুর এনপিপির কমন প্ল্যান্টের জনবলকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যারা প্ল্যান্ট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এছাড়া, তিনি আরও জানান যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেকনিক্যাল সাপোর্টিং অর্গানাইজেশন (টিএসও) হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ৩০ জনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


থাইল্যান্ডের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ৩০ জনে

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের একটি মিউজিক বারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার, কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

ব্যাঙ্কক মেট্রোপলিটন প্রশাসনের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ঘটনার ফলে ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

‘রং বিয়ার না লাডপ্রাও’ নামের বারে রবিবার গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এই ব্যাঙ্কক উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগেছিল।

কর্মকর্তাদের মতে, এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে ব্যাঙ্ককের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাদচার্ট সিট্টিপুন্ট জানান, নিহতদের বেশিরভাগই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে সোমবার ভোরে বারটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। কয়েক ডজন ফরেনসিক কর্মকর্তা আগুন লাগার কারণ বের করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। আগুনে বারের সামনের জানালাগুলো ভেঙে যায় এবং বাইরে ফুটপাতে পোড়া টেলিভিশন, স্পিকার, ইলেকট্রিক গিটারসহ বহু ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। ভেতরে পোড়া টেবিলের ওপর এখনো খালি বিয়ারের বোতল দেখা যাচ্ছে।

বার কর্তৃপক্ষের দাবির ভিত্তিতে জানা গেছে, সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০০ জন গ্রাহক বসতে পারতেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় সঠিকভাবে কতজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। ব্যাঙ্ককের ইরাওয়ান জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ঘটনায় ৭৩ জন আহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে সামান্য পার্থক্য দেখা গিয়েছে, তবে প্রাণহানির সংখ্যা ৩০ জনের কাছাকাছি রয়েছে।

জাতীয় পুলিশ প্রধান কিথারাথ পুনপেচ জানান, অধিকাংশ মরদেহ জানালাবিহীন একটি বাথরুমের কাছে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন কিন্তু বেরিয়ে যেতে না পেরে আটকা পড়েন। তিনি বলেন, ওই নির্গমন পথটি নিয়মিত ব্যবহার করা হতো না। সেখানে রাখা টেবিল বা অন্যান্য সামগ্রী ওই পথকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। এ ছাড়া ধোঁয়া ও অন্ধকারের কারণে অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, রান্নাঘরের পাশে আরেকটি জরুরি নির্গমন পথও তাক ও লকারের কারণে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এ ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কয়েকটি জরুরি নির্গমন দরজা সম্ভবত তালাবদ্ধ ছিল। তদন্তকারীরা আগুনের উৎস খুঁজতে মঞ্চের ওপরের ছাদের অংশে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন। সেখানে কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যা সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করছে, ভবনের ভেতরে দাহ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং বৈদ্যুতিক তারগুলো কিভাবে স্থাপন করা হয়েছিল।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, বারে পারফর্ম করা এক সংগীতশিল্পী তাকে বলেছেন যে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগে তিনি মঞ্চের কাছে একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে দেখতে পান। এরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একতলা ভবনটি থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে এবং কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে সোমবার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা ধোঁয়া এবং বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাব থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে ফেস মাস্ক বিতরণ করেন। নিখোঁজ বা আহত স্বজনদের খোঁজে আসা পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে একটি নিবন্ধন কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।

গায়িকা সুকন্যা ওংওংওয়াই জানান, তিনি কাছাকাছি একটি অনুষ্ঠানে গান গাইছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান, কারণ তার ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্য ওই বারে পারফর্ম করছিলেন। তিনি বলেন, তার ব্যান্ডের একজন সদস্য মারা গেছেন, তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ ছিল। পরে ফেসবুকে জানানো হয়, তিনি হাসপাতালের ভর্তি অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সুকন্যা বলেন, ‘ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে হঠাৎ সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। বিদ্যুৎ চলে যায় এবং চারদিকে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কেউ কাউকে দেখতে বা খুঁজে পেতে পারছিলেন না।’ অন্যদিকে ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বার কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায় এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা তারা করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বারের মালিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য স্বজনরা ব্যাঙ্ককের ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটে হাজির হয়। সেখানে ২৪ বছর বয়সী কেও উদোন পাউংপানি তার ছোট ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করতে আসেন। লাওস থেকে আগত এই দুই অভিবাসী শ্রমিক আগুন লাগার সময় ওই বারে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২৪ বছর বয়সী কেও উদোন পাউংপানি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি বারের বাইরে একটি শৌচাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, বারের দিকে ফিরে আসার সময় দেখেন, আতঙ্কিত মানুষজন আগুন থেকে বাঁচতে দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন। একই সময় তিনি বিস্ফোরণের মতো জোরালো শব্দও শুনতে পান।

পাউংপানি উল্লেখ করেন, বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি তার ছোট ভাইকে ডাকতে থাকেন, কিন্তু আগুনের তীব্র তাপের কারণে আর ভেতরে ঢুকতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘তাপ এতোটাই বেশি ছিল যে আমি ভেতরে ফিরতে পারিনি।’

শোকাহত যুবক বলেন, ‘এখন আমি শুধু আমার ছোট ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই। আমি তাকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। তারা অপেক্ষা করছিলেন, দুই ছেলে আবার একসঙ্গে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু এখন একজন আর নেই।’

থাইল্যান্ডে এর আগে অনেক বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ২০২২ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি মিউজিক বারে আগুন লেগে ১৪ জন নিহত হয়। এর আগে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ব্যাংককের সান্তিকা নাইটক্লাবে নববর্ষ উদযাপনার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। তদন্তে ধারণা করা হয়, ক্লাবের ভিতরে আতশবাজি প্রদর্শনের সময় ওই আগুনের সূত্রপাত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে সরকারি গাছ বিক্রি ও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকনের দুর্নীতির পাহাড়, ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর কিশোরগঞ্জ

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


কুলিয়ারচরে সরকারি গাছ বিক্রি ও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকনের দুর্নীতির পাহাড়, ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা

কুলিয়ারচরে সরকারি গাছ বিক্রি ও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ: গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকনের দুর্নীতির পাহাড়, ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি জায়গার গাছ বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, কাল্পনিক শ্রেণী পরিবর্তন করে অতিরিক্ত কর আদায় এবং লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হয়রানি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর ৪টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সীলমোহর যুক্ত রিসিভ কপি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি অফিসের মাত্র ১০০ গজ সামনে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার ১নং খতিয়ানভুক্ত আর.এস ১০৬৬৭ দাগের (শ্রেণি-হালট) ০.৮৩ একর সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন ও কতিপয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রজাতির ২০ থেকে ২৫ টি সরকারি গাছ বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওই ভূমি কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার। পরবর্তীতে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এক অভিনব নাটকের আশ্রয় নেন তিনি। উর্ধতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গত ১৫ জানুয়ারি কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির একটি দায়সারা অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। যে অভিযোগটি এখন পর্যন্ত থানায় এফআইআর কিংবা সাধারণ ডায়েরি হওয়াতো দূরের কথা অভিযোগটির কোথাও এন্ট্রি কিংবা তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। থানা থেকে স্বাক্ষর ও সীলমোহরযুক্ত অভিযোগের একটি রিসিভ কপি এনে তা দেখিয়ে জনসাধারণের মুখ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় দিনদুপুরে ২০ থেকে ২৫ টি গাছ কেটে নেওয়ার সময় তিনি কেন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি? এখানেই শেষ নয়, গত মাসেও তিনি আরও তিনটি সরকারি গাছ বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপর দিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জমির শ্রেণী পরিবর্তন, কর হয়রানি, ঘুষ দাবী ও গ্রহণ নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর চক্রান্ত ও হয়রানির চিত্র উঠে এসেছে ওই কমকর্তার বিরুদ্ধে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান জানান, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার বিআরএস ৩৫৮ খতিয়ানের সম্পূর্ণ পতিত জমির মালিক তিনি। ২০২৩ সালে তার বার্ষিক হাল দাবি ছিল মাত্র ১০ টাকা, যা তিনি পরিশোধ করেন। কিন্তু চলতি বছরের ৬ জুলাই কোনো প্রকার সরেজমিনে তদন্ত না করেই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জমির ব্যবহারিক শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০১২ টাকা খাজনা আদায় করেন নাছিমা আক্তার। এই অন্যায় ও অতিরিক্ত অর্থ ফেরত এবং বিচারের দাবিতে তিনি ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের নিকট একটি আবেদন করেছেন।

অপর ভূক্তভোগী ভাটিজগৎচর গ্রামের মো. ছয়াইব হোসেন জানান, ‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমির পরিমাণ ২৫ বিঘা (৮২৫ শতাংশ) পর্যন্ত হলে খাজনা সম্পূর্ণ মওকুফ এবং শুধুমাত্র ১০ টাকা দাখিলা ফি প্রযোজ্য। তার পিতার সর্বমোট জমির পরিমাণ মাত্র ৪২০ শতাংশ (১২ বিঘা)। আইন অনুযায়ী খাজনা মওকুফ পাওয়ার কথা থাকলেও নাছিমা আক্তার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নিকট ১১ হাজার ৮৮৩ টাকা খাজনা দাবি করেন এবং তা না দিলে দাখিলা দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে নামজারির প্রস্তাব পাঠানোর নাম করে তার কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান। তিনিও এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট ১৪ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামের মো. কামাল হোসেন জানান, তার নিজ নামের নতুন খতিয়ান নং-১৩১১৩ এর খাজনা পরিশোধ করতে গেলে নাছিমা আক্তার তার কাছে ২৬ হাজার ৫২৬ টাকা দাবি করেন এবং ১৯৭৬-১৯৭৭ সন থেকে বকেয়া দেখান। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের খাজনা পরিশোধ ছাড়া নামজারি বা দলিল সম্ভব নয়। তিনি দাবী করেন, ২০২৩ সালে জমি দলিল করার সময় এবং ২০২৪ সালে নামজারি সম্পন্ন করার সময় পূর্বের সকল খাজনা সঠিকভাবে পরিশোধ করা হয়েছিল। খাজনা পরিশোধ ব্যতিরেকে কি দলিল ও নামজারি হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১৯৭৬-১৯৭৭ সন থেকে বকেয়া দেখিয়ে এই বিশাল অঙ্কের অতিরিক্ত খাজনা দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তার অন্যায় দাবির মুখে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে স্থানীয় দলিল লেখক মো. নাছির উদ্দিনের মাধ্যমে নাছিমা আক্তারকে ৩,০০০ টাকা ঘুষ দেন কামাল হোসেন। কিন্তু ঘুষ নেওয়ার পরও তিনি জমির শ্রেণী অবৈধভাবে পরিবর্তন করে দেন এবং পূর্বের দাবিতে অনড় থাকেন, এমনকি ঘুষের টাকাও ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। তাই তিনি এর প্রতিকার চেয়ে ও ওই কর্মকর্তার বিচার দাবীতে ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেছেন।

একই গ্রামের মো. আরিফুল ইসলাম জানান, তার খতিয়ানের মূল রেকর্ড অনুযায়ী জমির শ্রেণী ‘বাড়ী’ ও ‘বাঁশঝাড়’ হলেও ওই কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার খতিয়ান সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে সেগুলোকে ‘আবাসিক’ এবং ‘চা বাগান’ হিসেবে দেখিয়ে কাল্পনিক শ্রেণী পরিবর্তন করেছেন। যেখানে কিশোরগঞ্জ জেলার কোথাও চা বাগান আছে এমন নজির নেই। এর মাধ্যমে তার ওপর ১২ হাজার ৪৩৫ টাকার বিশাল ও অযৌক্তিক খাজনা ধার্য করা হয়েছে। তিনি মূল শ্রেণী অনুযায়ী খাজনা দিতে চাইলে তা নাকচ করে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। নিরুপায় হয়ে তিনিও ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাছিমা আক্তার ও রুকন উদ্দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির জাল সুদূরপ্রসারী। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একজনের জমি অন্যের নামে নামজারি করে দেওয়া এবং খোদ সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালীদের নামে নামজারি করে দেওয়ার মতো অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ দুজন টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না এমন দাবী সেবা গ্রহীতাদের। নিম্নে ১ হাজার ৫ শত টাকা ছাড়া নাম জারির কোন প্রস্তাব পাঠান না তিনি। আর যদি কাগজপত্রে সামান্য কোন ত্রুটি খুঁজে পান তাহলেতো আর কোন কথাই নেই, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে ম্যানেজ করার কথা বলে ২ থেকে ২০/২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে। তাদের এই লাগামহীন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারে সাধারণ মানুষ চরম অতিষ্ঠ।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ ও অর্থলোভী ভূমি কর্মকর্তা ও অফিস সহায়কের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে ম্যাডামের সাথে কথা বলুন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভূমি অফিসের সামনে সরকারি জায়গা থেকে কে বা কাহারা গাছগুলো কেটে নিয়েছে আমি জানিনা। এ বিষয়ে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। থানায় অভিযোগ করায় একাধিক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। কে বা কাহারা হুমকি দিচ্ছে এবং কোন নাম্বার থেকে হুমকি দিচ্ছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব তথ্য দিলে আমার সমস্যা আছে। এতেই বুঝা যায় নিজের দোষ ঢাকতে অজানা ও কাল্পনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাঁড় করিয়েছেন তিনি। অপর দিকে এ প্রতিনিধিকে বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া প্রস্তাবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে সংবাদটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওই কর্মকর্তা।

কুলিয়ারচর থানার সীল মোহরযুক্ত নাছিমা আক্তারের স্বাক্ষরিত অভিযোগের রিসিভ কপি উপস্থাপন করে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনার নিকট থেকে জেনে বুঝতে পারলাম আমি কুলিয়ারচর থানায় যোগদানের বহু আগেই গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। থানায় এধরণের কোন অভিযোগের কাগজপত্র কিংবা তথ্য নেই। তার পরও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেসব আবেদন জেলা প্রশাসক স্যারের নিকট করা হয়েছে স্যারই বিষয়গুলো দেখবেন। বাকী অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতে চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, তার মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ার কারণে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পেছানোর দাবী জানালেও তা করা হয়নি। তিনি জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কেন সমস্যা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, সারা দেশজুড়ে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার আহ্বান করার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের chairman, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট সবাই জানিয়েছিল যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় দু’টি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্রের ৬ এবং ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ওই দু’টি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুত হয়েছে। এরপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন—জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%