০৪:১৯ পি.এম
ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
স্পিকার বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংলগ্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সুইডেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।
সুইডেনের পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, সুইডেনের এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোর অনেক ক্ষেত্রে চমৎকার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন করা সম্ভব হলে তা উভয় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
গণতন্ত্রের প্রতি দেশের মানুষের অঙ্গীকার তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময়ই গণতন্ত্রপ্রেমী। এদেশের মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে এদেশের মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের ছাত্রসমাজ এবং আপামর জনসাধারণ সেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
ভবিষ্যৎ সংসদীয় গণতন্ত্র প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, জনগণ যাতে নিজেদের পছন্দসই দল ও প্রার্থীর পক্ষে স্বাধীনভাবে ভোটদান করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেন।
সুইডেনের শাসনব্যবস্থা ও পার্লামেন্টের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে এবং সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তিনি বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট এবং নির্বাচিত সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকে।
বৈঠকে তারা উভয়েই দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড় করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও ককাস গঠনের ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশে সুইডিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে স্পিকার চলমান সংবিধান সংস্কার কমিটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। এছাড়া, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মজুদকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ-তেল ও গ্যাস উত্তোলনে সুইডেনের অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার ও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান স্পিকার।
সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন, সুইডিশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন