০১:২৮ এম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওর কারণে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ঢাকার মগবাজারের একটি বাসায় ধারণ করা ভিডিওগুলো প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
সামাজিক ও গণমাধ্যমগুলোতে বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ভাইরাল হওয়া প্রথম ভিডিওকে দলীয় সমর্থকদের অনেকেই এআই দিয়ে তৈরি দাবি করলেও পরে এমপি নিজেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি মরিয়ম খাতুন নামের তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আজ
যাহোক, জামায়াত এমপির বিয়ে ও ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, ১৭ জুন বিয়ে করেছেন। কিন্তু কোথায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, তা কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজী জানেন না। কাজী জানিয়েছেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে গত পরশু (সোমবার) দিবাগত রাতে। এরপর ঢাকা থেকে ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি কাবিননামা প্রস্তুত করেছেন।
কাবিননামার তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ১২নং গাবুরা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা বি এ এম বাকী বিল্লাহের সঙ্গে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে (০১৯১১৩৩২৬…) স্বীকার করেন যে তিনি বিয়ে কবে এবং কোথায় হয়েছে, সে সম্পর্কে জানেন না। তাকে সোমবার রাতে জানানো হয়েছিল, ঢাকায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধন করতে হবে।
ভাইরাল ও আলোচনার ঝড় উঠলে আলাদা দুটি ভিডিওতে এমপির প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং তার বাবা মাসুম বিল্লাহ একই ধরনের বক্তব্য দেন। সেখানে তারা জানান, পারিবারিকভাবে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
এখন এ প্রসঙ্গে অপপ্রচার চলছে। তবে জামায়াতের প্রবীণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এই এমপির ভিডিও ভাইরাল বিষয়টি নিয়ে দলের মাঝে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আরো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ।
আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
এদিকে, গাজী নজরুলের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল এবং তা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগের এক পর্যায়ে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা আরেকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একটি রুমে গাজী নজরুল ইসলাম এমপিকে তরুণীসহ অবরুদ্ধ করে কয়েকজন ব্যক্তি। ওই ভিডিওতে এমপিকে উদ্দেশ্য করে লোকজন বলছে- জামায়াতে হয়ে এই কাজ কীভাবে করলেন? কদিন এনেছেন? অন্যায় করেছেন কিনা- ইত্যাদি। এসময় গাজী নজরুল মাথা নেড়ে অন্যায় স্বীকার করে বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, আজই প্রথম’।
এসময় মেয়েটির নাম জিজ্ঞাসা করলে অনেকক্ষণ চুপ থেকে সে জানায় তার নাম মাহি। সে আরো বলে, ‘আপনারা ভিডিও ডিলিট করে দেন, সবকিছু বলছি। বলেও যা, না বলেও তা। আপনারা এটা নিয়েই তো ঝামেলা করবেন।’
এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ের একটি কাবিননামাও ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, মেয়েটির জন্ম ২০০৮ সালের ২২ মে। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট মরিয়মের একটি বায়োডাটা সংগ্রহ করেছে, যাতে গাজী নজরুল ইসলাম এমপির গত ২২ জুন স্বাক্ষর করা সুপারিশ রয়েছে। বায়োডাটাটিতে এমপির স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে, ‘জোর সুপারিশ করছি।’ বায়োডাটাটিতে মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।
যদি ১৭ জুন বিয়ে করে থাকেন, তাহলে ২২ জুন এমপি স্বাক্ষরিত মরিয়মের বায়োডাটাতে ‘অবিবাহিত’ লেখা হয়েছে কেন, এ বিষয়ে জানতে দ্য ডিসেন্ট একাধিকবার গাজী নজরুলকে কল দিয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে
কাজী বাকীবিল্লাহ এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমাকে সোমবার রাতে ফোনে সংসদ সদস্য ও মেয়েটির বিয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। তাদের দ্বারা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিয়ের নিবন্ধন ১৭ তারিখ দেখানো হয়েছে। তার ভাষ্য, কনের বাবা সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সম্মতি দিয়েছেন এবং কনে ও অভিভাবক মঙ্গলবার সকালে এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। তিনি বলেন, বিয়ের তারিখ ১৭ তারিখ নির্ধারণ করে দিতে তাকে ফোনে জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টরা স্বাক্ষর করেন।
কাবিননামায় কনের নাম ও জন্ম তারিখের অসঙ্গতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য তাকে ফোনে জানানো হয়েছিল। জন্ম তারিখও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লিখেছেন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, কনের বয়স ১৮ বছর ৩ মাস ছিল।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ১৭ তারিখকে বিয়ের তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করতে তাকে ঢাকা থেকে ফোনে বলা হয়েছিল, আর স্বাক্ষর পরে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের তফসিলের সম্ভাবনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন