১১:৩৪ পি.এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছের আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় প্রথম দিন থেকেই অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আমদানিকারকদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। ফলে বাজারে মাছের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও তা এখন বেড়ে হয়ে গেছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৪৬ টাকা বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি, সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা, যা কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজেট ঘোষণার পরের দিন থেকে নতুন মূল্যে কর আদায় শুরু করেছে কাস্টমস।
আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে
মাছ আমদানিকারক ব্যবসায়ী রহমত আলী জানিয়েছেন, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে আমদানি কমে গেলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, মাছ আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এক বন্দর শ্রমিক জানিয়েছেন, দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক তিনি লোড করতে পারেননি। একইভাবে ট্রাকচালকরাও মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন।
বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে ট্রাকের চাকার সংখ্যার উপর শুল্ককর নির্ধারণের কারণে এমনিতেই মাছ আমদানি কমেছে। নতুন বাজেটে মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা আমদানি আরও কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুল্কহার পুনর্বিবেচনা না হলে আমদানি আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর প্রভাব বাজার, ব্যবসা ও সরকারের রাজস্ব আয়ে স্পষ্টভাবে পড়বে।
আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’
বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বাজেটের পর মাছ আমদানি কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন