০৯:১৮ এম
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে শেষ আটেই। ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে সেমিফাইনালে যেতে সক্ষম হয়নি নরওয়ের দল। তবে দেশের মানুষের কাছে তারা পরাজিত নয়। দীর্ঘদিন পর বিশ্বের বড় পরিমণ্ডলে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা দলটিকে দেশে ফিরতেই বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাজধানী অসলোতে তাদের স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছিল মানুষের ব্যাপক সমাগম। শহরের প্রধান সড়কসহ রাজপ্রাসাদের সামনে সব জায়গাতেই ছিল উৎসবের আমেজ।
সোমবার দেশে ফেরার পর নরওয়ে দলের সদস্যদের বিশেষ সম্মান জানানো হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সাথে সঙ্গেই পানির ফোয়ারা ছুড়ে ঐতিহ্যবাহী অভিবাদন জানানো হয়। এরপর ফুটবলাররা ও কোচিং স্টাফরা খোলা ছাদের বাসে করে শহর প্রদক্ষিণ করেন। বাসের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ তাদের হাত নেড়ে, পতাকা উড়িয়ে এবং স্লোগান দিয়ে প্রিয় খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের মতে, এদিন অসলোর রাস্তায় এক লাখেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গ্রীষ্মের রোদকে উপেক্ষা করে সকালে থেকেই রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন মানুষজন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে মানুষের দীর্ঘ সারিরও উপস্থিতি ছিল।
আরও পড়ুন: ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ম্যাচে উত্তেজনা
নরওয়ের রাজা হারাল্ডের আমন্ত্রণে রাজপ্রাসাদে গিয়ে ফুটবলাররা রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে তারা রাজপ্রাসাদের বারান্দায় এসে সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রতি করতালি ও উল্লাসে অভিনন্দন জানান। রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরাও আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বকাপে নরওয়ের এই যাত্রা দেশের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বহু বছর পর দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে উঠার পর শেষ আটে পৌঁছে নতুন আশা সৃষ্টি করেছে তারা। যদিও তারা অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে সেই পরাজয় দেশের মানুষের গর্বকে ম্লান করতে পারেনি।
তবে উৎসবের শেষ পর্বে দলের সবচেয়ে বড় তারকা এরলিং হলান্ডকে দেখা যায়নি। সতীর্থদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের উদ্যাপনে অংশ নেওয়ার আগেই তাকে চলে যেতে হয়। এর ফলে সমর্থকদের সঙ্গে রাজপ্রাসাদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো উদ্যাপনে যোগ দিতে পারেননি হলান্ড।
দলের প্রধান কোচ স্তোলে সোলবাক্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে দলের বিমানের যাত্রা প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয়। এরফলে হলান্ড এবং সান্দের বের্গেকে নির্ধারিত আরেকটি বিমান ধরতে আগেই অনুষ্ঠানে চলে যেতে হয়। তাই তারা শেষ অংশে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
হলান্ড না থাকলেও উৎসবের আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি। শহর ঘুরে খোলা ছাদের বাসে সমর্থকদের অভিবাদন জানান দলের অন্যান্য সদস্য। রাজপরিবারের সদস্যরাও খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং দেশের জন্য তাদের অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশ্বকাপের ট্রফি জেতা হয়নি, কিন্তু দেশের মানুষের হৃদয় বিজয়ী করে নিয়েছে নরওয়ে। ফলে পরাজয়ের পরেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল বিজয়ীদের মতো সংবর্ধনা। হাজারো মানুষের ভালোবাসা, করতালি ও সম্মানে স্মরণীয় হয়ে থাকবে নরওয়ে দলের এই ফিরে আসা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন