০৯:১১ এম
হাইকোর্ট রায় প্রদান করেছেন যে, সরকারি কর্মচারীরা যদি চাকরিতে সময়সীমা ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করেন, তাহলে তারা কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই), বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে। বেঞ্চের সদস্যদের মধ্যে অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
২৮ পৃষ্ঠার ওই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, “আইনপ্রণেতারা যুক্তিসংগত কারণে নির্ধারিত ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগকারী কোনো সরকারি কর্মচারীর জন্য পেনশন সুবিধার বিধান রাখেননি।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া এক রায়ের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়ের করা আপিলের পর আপিল বিভাগ পুনরায় নতুন রায় দেন। ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুব মোরশেদকে পেনশন ও চাকরিজীবনের অন্যান্য বকেয়া সুবিধা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
আরো পড়ুন: চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত অন্তত ৭৫ জন।
১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সহকারী জজ হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করার পর, মাহবুব অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ১৯ বছরের চাকরি শেষে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক যোগ্যতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগকারী কোনো সরকারি কর্মচারীকে পেনশন দেওয়ার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ
এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশ আইনগতভাবে কার্যকরযোগ্য নয়। রায়ে আরও বলা হয়, উপরের আলোচনার ভিত্তিতে আপিলকারীর (আইন মন্ত্রণালয়) বিরুদ্ধে রিটকারীকে (মাহবুব) তার চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে পেনশন দেওয়ার যে নির্দেশ হাইকোর্ট বিভাগ দিয়েছিল, সেটি টেকসই নয়।
কারণ, এটি কার্যকরযোগ্য কোনো আদেশ নয়, কেননা আইন এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার অনুমতি দেয় না।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগের বিচারকরা আরও বলেন, সাধারণ বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য যে, নির্ধারিত ২৫ বছরের যোগ্যতা সম্পন্ন চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি অবাধে পেনশন ও অবসর-সুবিধা পাওয়া যায়, তাহলে তা সরকারি চাকরিতে প্রত্যাশিত শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারকে দুর্বল করে দিতে পারে।
সরকারি চাকরি কেবল স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি ধারাবাহিকতা, জবাবদিহি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে একটি কাঠামোবদ্ধ পেশা।
আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি
আরো পড়ুন: রাজধানীর যে এলাকায় আজ মার্কেট-শপিংমল বন্ধ।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগের বিচারকরা আরও বলেন, কর্মকর্তারা যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগ করে পূর্ণ পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারেন, তাহলে কিছু কর্মকর্তা সরকারি চাকরিকে কেবল অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, মর্যাদা বা আর্থিক নিরাপত্তা অর্জনের একটি অস্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে পরে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য চাকরি ছেড়ে যেতে পারেন।
এতে অকাল পদত্যাগ উৎসাহিত হতে পারে, জনবল পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং সরকারি চাকরির সঙ্গে ঐতিহ্যগত অঙ্গীকার ও গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে।
অতএব, সরকারি চাকরিতে অঙ্গীকার, শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতি বজায় রাখতে যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ একটি যৌক্তিক নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।
আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন