ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাতারে গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত ৫৪ নিখোঁজ ১৮ জন


কাতারে গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত ৫৪  নিখোঁজ ১৮ জন

কাতারের শিল্পশহর রাস লাফফানে বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেড নামের একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই বিস্ফোরণটি রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যার দিকে ঘটে। এতে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এখনও নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ১৮ জন।

সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এবং এএফপির পৃথক প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।

কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি, কাতার এনার্জি এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়েই রোববার রাতে পৃথক বিবৃতিতে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন: তাঁবুতে আগুন দিল ইসরাইল, খোলা আকাশের নিচে ৮০০ ফিলিস্তিনি গৃহহীন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আরও জানানো হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা (সিভিল ডিফেন্স) বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং নিখোঁজদের সন্ধান করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

কাতার হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তরল জ্বালানি গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানিকারী দেশ। রাজধানী দোহা থেকে ৮০ কিমি উত্তরে অবস্থিত রাস লাফফান কৌশলগতভাবে কাতারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ শহর; কারণ এখানে দেশের অধিকাংশ এলএনজি প্রস্তুতকারী কারখানা অবস্থিত। বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেডও সংশ্লিষ্ট একটি এলএনজি প্রস্তুতকারী কারখানা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কারখানা ভবন থেকে বড় এবং ভারী কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি উঠছে। রাস লাফফানের বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুনের লেলিহান শিখা ২০ কিমি দূর থেকেও খালি চোখে দেখা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণের শব্দ এত প্রকট ছিল যে, রাজধানী দোহায়ও সেটির আওয়া শোনা যাচ্ছিল।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেডের কারখানার ভিতরে একটি নতুন প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। রোববার সেই প্ল্যান্টের কাজ শুরু হওয়ার পরপরই এটি ঘটে।

আরও পড়ুন: ইরানে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গম জুরাছড়িতে সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


দুর্গম জুরাছড়িতে সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি

পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ জুন), জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ বীর, রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুরাছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসি। এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুরাছড়ি জোনের উপ-অধিনায়কসহ বিভিন্ন সামরিক কর্মকর্তা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, স্থানীয় হেডম্যান করুণাময় চাকমা, কারবারি তুষার কারবারি, বনযোগীছড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এতে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন ছিল।

কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মাঝে মোট ১ হাজার ২৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি, গাছের সঠিক পরিচর্যা ও ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে রাসায়নিক ও জৈব সার এবং কীটনাশক দেওয়া হয়। বিতরণকৃত এই চারাগুলো স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা, পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিক্ষয় রোধ, জলাধার সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পরিকল্পিত এই বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, জনগণের কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উপস্থিত সবাইকে বিতরণকৃত চারাগুলো রোপণের পাশাপাশি যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণ, জনকল্যাণ এবং টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় পেল মিশর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় পেল মিশর

৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয়ের মুখ দেখেছে মিশর। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল মিশর। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ফিন সারম্যান। প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সমতায় ফিরতে পারেনি মিশর।

বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৮তম মিনিটে মোস্তাফা জিকোর শক্তিশালী হেডে সমতা ফেরায় মিশর। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসকে গোলে পরিণত করে দলকে নতুন উদ্দীপনা এনে দেন তিনি।

সমতায় ফেরার মাত্র নয় মিনিট পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক সালাহ। ৬৭তম মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। তার গোলে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় মিশর।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ৮২তম মিনিটে সালাহর নেওয়া কর্নার থেকে বদলি খেলোয়াড় ত্রেজেগে হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মিশর।

এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, ভেঙেছে প্রায় এক শতাব্দীর অপেক্ষাও। ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রথম আট ম্যাচে কোনো জয় পায়নি মিশর। অবশেষে বিশ্বকাপে নিজেদের নবম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল দেশটি।

চলতি আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিশর। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ইরানের বিপক্ষে ২-২ গোলে সমতা করেছিল। ফলে এই জয়ে গ্রুপ ‘জি’-তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল সালাহর দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে হত্যা মামলার আসামি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


বাগেরহাটে হত্যা মামলার আসামি আটক

চিতলমারীর বহুল আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী আমির হামজা হত্যা মামলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আত্মগোপনে থাকা এজাহারভুক্ত আসামি মো. সোহেল প্রধান ওরফে ‘বডি সোহেল’ (২৬) অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে। মামলার তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্রের খবর, রোববার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে র‌্যাব-৬ খুলনার সহযোগিতায় এবং চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে তাকে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সোহেল খুলনা সদর থানাধীন চানমারী বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিনি চিতলমারী থানার হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

মামলার নথি অনুসারে, ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ বিকেলে চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে নির্মম হত্যাকা-েণ্ডের শিকার হন আমির হামজা (২৩)। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে জীবিকার তাগিদে খুলনায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করতেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন হেলমেটধারী ব্যক্তি আমির হামজার বাড়িতে আসে। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে ডেকে বের করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে খালের পাড় ও চিত্রা নদী সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে তার মাথায় গুলি করা হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এই হত্যাকা-েণ্ডের পর এলাকার জনগণের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবার জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। ঘটনার পর থেকেই চিতলমারী থানা পুলিশ আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে একই মামলার আরেক এজাহারভুক্ত আসামি ‘ব্ল্যাক বাপ্পি’কে ঢাকার একটি এলাকা থেকে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ বডি সোহেলের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, চিতলমারী থানার ওসি রোকেয়া খানম দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন জটিল ও আলোচিত মামলার তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। আমির হামজা হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টা অভিযানে গতি এনেছে, এভাবে মনে করছেন অনেকেই।

পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মামলার অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কারওয়ান বাজার

‘কডা লাগবে, নিয়ে যান ঠকবেন না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১২ এম


‘কডা লাগবে, নিয়ে যান ঠকবেন না’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের লেভেলক্রসিং মোড়। হাতিরঝিল, তেজগাঁও এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মিলনস্থল মোড়টি। রাত ১১টার দিকে রেললাইন ধরে পার হচ্ছিলেন কামরুল ইসলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন যুবক কামরুলের উদ্দেশে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কডা?’ কামরুল দেখলেন, ওই যুবকের হাতে ইয়াবা। কামরুল কিছু বললেন না। যুবক আবার জানতে চাইলেন, ‘কডা লাগবে?’ এবার কামরুল দাম জানতে চাইলেন।

জানালেন, প্রতি পিস ৩০০ টাকা। কামরুল বললেন, তিনি কখনো সেবন করেননি, এমনকি কিনতে আগ্রহীও হলেন না। কিন্তু ওই যুবক বলতে থাকলেন, ‘নিয়ে যান। ভালো মাল। খাইলে কাল আবার আসবেন। গাঁজাও আছে।’ এভাবে সেখান থেকে কামরুল এগোতে থাকলেন তেজগাঁও লেভেলক্রসিংয়ের দিকে। দৃশ্যটি গত মঙ্গলবারের।

হেঁটে ৩০ কদম এগোতেই আবার একই ডাক, ‘কডা লাগবে?’ হাতে ইয়াবা এবং গাঁজাসহ তিন যুবক দাঁড়িয়ে ছিলেন। কামরুল তাদের সামনে দিয়ে নির্বিকারভাবে এগোচ্ছিলেন। একজন যুবক তাঁর পিছু নেন এবং কামরুলের পাশে গিয়ে বলেন, ‘লয়ে যান। ঠকবেন না। দুই পিস ৫৫০ টাকা দিয়েন।’ সেই যুবকের হাতে একটি ধারালো ছুরিও ছিল। আরেকটু সামনে গেলে দেখা যায়, কয়েকজন নারী ও পুরুষ বসে আছেন। তাঁরা গাঁজা সেবন করছিলেন। কামরুলকে দেখে এক নারী বলে ওঠেন, ‘কয় পোঁটলা লাগবে?’ ওই নারী গাঁজা বিক্রি করছিলেন।

কারওয়ান বাজারের শুঁটকি ও চাল পট্টির পাশ দিয়ে রেললাইনে ওঠার সরু পথ চলছে। লাইনে বয়স্ক একজন ব্যক্তি গাঁজা বিক্রি করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একজন ক্রেতা গাঁজা কেনেন। কেনার সময় তিনি গাঁজার পুঁটলি খুলে দেখে নেন। বয়স্ক ব্যক্তিটি জানালেন, তিনি ইয়াবাও বিক্রি করছিলেন। মাদক সেবকের ছদ্মবেশে এই প্রতিবেদক তাঁোর পক্ষে জানতে চাইলেন, এখানে ইয়াবা সেবনের ব্যবস্থা করা যাবে কি না। তিনি হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘রেললাইনের ওই ঘরে গেলে খাওয়া যাবে। আমাকে চা খাওয়াও। ফুয়েল আমি দিমুনে।’ নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে মামুন বলে পরিচয় দেন।

মঙ্গলবার রাতের পর বুধ ও বৃহস্পতিবার সকালে আবারও কারওয়ান বাজারের রেললাইনে সরেজমিনে যাওয়া হয়। বুধবার দুপুর ২টার দিকে তেজগাঁও লেভেল ক্রসিং থেকে কারওয়ান বাজার লেভেল ক্রসিং পর্যন্ত হেঁটে দেখা যায়, রেলের দুই ধারে অন্তত ৩০ জন নারী-পুরুষ গাঁজার পুঁটলি বিক্রি করছিলেন। তাঁদের সবার হাতে কালো প্যাকেট। তাতে মাদকদ্রব্য ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে গিয়েও একই দৃশ্য দেখা গেছে। এই তিন দিনে একবারের জন্যও সেখানে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়নি। রেললাইন দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে বিক্রেতারা প্রথমে আস্তে আস্তে ‘কডা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। প্রয়োজন পড়লে আরও একটু জোরে ‘কডা লাগবে’ বলে ডাক দেন। হেঁটে যাওয়া ব্যক্তি যদি মাদকসেবী হন কিংবা কিনতে যান, তখন তিনি বোঝেন। তখন লেনদেন সম্পন্ন করেন তাঁরা। এই দৃশ্য কেবল ওই তিন দিনের নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ২৪ ঘণ্টা সেখানে মাদক বিক্রি হয়। এ ছাড়া কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন স্পটে সব সময় মাদকের বিকিকিনি চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারওয়ান বাজার এলাকায় অনেক মাদক কারবারি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে টঙ্গীর রতন, উত্তরার ইকবাল, নাখালপাড়ার প্রান্তি, মালিবাগের জাহাঙ্গীর ও মন্টু মিয়া বড় মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশও তাঁদের সম্পর্কে অবগত। তাঁরা মাদক বিক্রির জন্য অনেক লোক রাখেন। একজনকে আটক করা হলে সঙ্গে সঙ্গে একই জায়গায় তাঁদের অন্য লোকজন হাজির হয়ে যায়। এক পিস ইয়াবা বিক্রি করে দিলে ১০ টাকা কমিশন পায় বিক্রেতা। ক্ষেত্রবিশেষে আরেকটু বেশিও পাওয়া যায়। গাঁজা বিক্রি করে দিলেও কমিশন রয়েছে। মোল্লাবাড়ি বস্তির সেলিনা আক্তারসহ তাঁর বোনরাও মাদক বিক্রি করেন। এর বাইরেও ছোট-বড় আরো অসংখ্য ব্যক্তি পুলিশের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্য করছে। পুলিশ-প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে কারওয়ান বাজারে মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে।

রেললাইনের কাঁচাবাজারের পাশের পশ্চিম অংশ তেজগাঁও থানা ও পূর্ব পাশের এলাকা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আওতাধীন। তেজগাঁও থানার আওতাধীন ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। যদিও রেললাইনের ধারের শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অনেক ছোট ছোট ঘর রয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই সব ঘর মাদক কারবারি ও তাঁদের সহযোগীদের। কিন্তু কারবারিরা সেখানে থাকেন না। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তাঁদের আলাদা বাড়ি রয়েছে। মাদক বিক্রির জন্যই ঘরগুলো তৈরি হয়েছে।

রেললাইনের পাশে রয়েছে মোল্লাবাড়ি বস্তি। মোল্লাবাড়ি বস্তির এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে দাবি করেন, ‘বস্তির অনেক লোক মাদকের সঙ্গে জড়িত। রেললাইনে যাঁরা বিক্রি করেন, তাঁদের প্রায় সবাই বস্তিতে থাকেন। বস্তি আর রেলের পাশের ঘরগুলোতে মাদক রাখেন। কেউ কিছু বললে তাকে বস্তিতে থাকতে দেন না। পুলিশ টাকা খায়। চাপে পড়ে বস্তিতে আসামি ধরতে গেল মারও খায়।’

কারওয়ান বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, রেললাইন থেকে মাদক কারবারিদের না ধরলেও ধরা হয় ক্রেতাদের। কারণ, বিক্রেতারা টাকা দেন। এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে অনেক মিডিয়া, তেজগাঁওয়ের দুই থানা, এই এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরা সবাই জানে। কিন্তু কেন চুপ বুঝে নেন।’

মাদক কারবারিদের কাছ থেকে পুলিশ টাকা নেয়, এই অভিযোগ অস্বীকার করেন তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ঢাকাসহ সারা দেশের রেললাইনেই মাদক বাণিজ্য হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন মাদক কারবারিদের ধরি। একজনকে যে জায়গা থেকে ধরব, ১৫ মিনিট পরই ওই জায়গায় নতুন কারবারি চলে আসে। আর যদি রেললাইনে বা বস্তিতে অভিযানে যাই, তখন ১০ জনের কম নিয়ে অভিযানে যাই না। কারণ, ওরা সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ করে।’

তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দেব বলেন, ‘এক দিন ইয়াবাসহ রেললাইনে একজনকে ধরেছি। সে সময় আশপাশে থাকা করবারিরা চলে যায়। কিন্তু দুজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। আমরা দুজন পুলিশ ছিলাম। এ দৃশ্য দেখে আমরা আলতোভাবে সরে যাই। নতুবা ওরা অস্ত্র চালাবে। ওই সুযোগে কারবারিরা চলে যায়, ওরাও চলে যায়। কারওয়ান বাজার ভয়ংকর জায়গা। এক নারী কারবারিকে ধরলাম। তিনি জানালেন, প্রতি মাসে গাঁজা আর ইয়াবা বিক্রি করে তিনি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা লাভ করছেন। জামিনের টাকা তুলতে সময় লাগে না। সে জন্য, বছরের পর বছর একই কাজ করছেন।’

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ‘এখানে মাদক কারবার আগে ছিল, এখনো চলছে। রেললাইনের পাশে যে বস্তি রয়েছে, ওখানে পরিবারসহ বসবাস করছে বেশ কিছু লোক। ওরাই মাদক বিক্রি করে। সিটি করপোরেশন যতদিন বস্তি তুলে না দেবে, ততদিন মাদক বন্ধ হবে না। আজ ধরি, দুই দিন পর আবার জামিনে চলে আসে। আসামি ধরতে গেলেও তারা আক্রমণ করে।’

সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%