বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৮ পি.এম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী এলাকায় এক মেয়ে শিশু দুই হাত ও দুই পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। শিশুটির ঠোঁট কাটা রয়েছে, তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, এটি চিন্তার কোনো বিষয় নয় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও লিজা বেগমের প্রথম সন্তান হিসেবে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।
শিশুটির বর্তমান অবস্থান তার বাবা-মায়ের বাড়িতে। জন্মের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে দেখতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা এর আগে এ ধরনের শিশুর জন্ম দেখেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন মন্তব্য করেছেন, ‘সাধারণত একটি শিশুর হাতে-পায়ে মোট ২০টি আঙুল থাকে। কিন্তু এই শিশুটির মোট ২৮টি আঙুল। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে তার ঠোঁটে সামান্য কাটা রয়েছে। এটি আল্লাহ তাআলার নিদর্শন ও সৃষ্টি। এ সৃষ্টিতে কারো হাত নেই। শিশুটির পরিবারও এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে।’
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ‘আরিফুল ইসলামের প্রথম সন্তান হিসেবে মেয়ে শিশুটির জন্ম হয়েছে। আমাদের এলাকায় এ ধরনের শিশুর জন্ম এর আগে দেখিনি। জীবনে এটাই প্রথম দেখলাম।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘শিশুটির দুই হাত ও দুই পায়ে মোট ২৮টি আঙুল রয়েছে। এমন শিশু জীবনে কখনো দেখিনি। এই প্রথম দেখলাম।’
শিশুটির মা লিজা বেগম জানিয়েছেন, আল্লাহ যেভাবে দিয়েছেন তাতেই তিনি খুশি, সন্তান সুস্থ আছে এটাই তার কাছে বড় পাওয়া।
শিশুটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার একটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। সাধারণত বাচ্চাদের ২০টি আঙুল থাকে, কিন্তু আমার মেয়ের ২৮টি আঙুল হয়েছে। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন খারাপ নেই।’
ফুলবাড়ী উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, তারা শিশুটির সম্পর্কে অবগত, মা ও শিশু সুস্থ আছে। ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়া চিন্তার কোনো বিষয় নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা এখনো আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের কাছে এলে আমরা সঠিক পরামর্শ দেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গুম হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মো. আলামিনের মা জেসমিন বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। জেসমিন বেগমের অসুস্থতার খবর জানার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন জেসমিন বেগমের খোঁজ নিতে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আলামিনের বাসায় গিয়ে উপস্থিত হয়। প্রতিনিধিদলটি জেসমিন বেগমের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেয়, তার চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করে এবং প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
এ সময় সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমেদ এবং ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। এই সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তবে বাইরে কিছু স্বাস্থ্যকর্মীকে গল্প করতে দেখা যায় এই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার উপস্থিতির খবর শুনে ছুটে আসেন ওই ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন। তিনি উপস্থিত থাকলেও তার কাছে চাবি ছিল না। পরে এমপি কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক বা মেডিক্যাল অফিসারকে পাওয়া যায়নি। মরিচাধরা গেট দেখে তার মনে হয়েছে, তালা অনেক বছর আগে লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি অনেক সময় অপেক্ষা করে এক পাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিক্যাল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারীকে ভেতরে বসে গল্প ও আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এলাকাটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া জরুরি। উপজেলা ও জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেওয়াও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন বলেন, “তাড়াহুড়া করে আসায় ভুলে চাবি নিয়ে আসতে পারেননি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ জানান, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও কর্মরত নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ এমপি সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, এবং অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও রয়েছে।
এছাড়া, লাশ গুম করার অভিযোগে প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামিদের পূর্বের হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর), ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদা বেগম পলাতক ছিলেন। বাকি তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকায় রায় শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন হাসান শেখ। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরি করতেন। রাতের বেলা আর বাড়ি না ফেরায় তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ মে নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান। মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু জানান, পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর আয়সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার লক্ষ্যে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে চলেছে। বুধবার এই বিলটির চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শিরোনামের বিলটি মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ অতিক্রম করে। দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেওয়ায় বিলটি এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়েছিল।
প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে সহায়তাকারী ‘ছায়া বহর’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নথিতে জমা দেওয়া একটি সংশোধনীতে ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস বিলটির বিরোধিতা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এতে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, যা পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অর্থ জোগাতে সহায়তা করছে।
এদিকে, ওয়াশিংটনে ইউক্রেনপন্থি সংগঠনগুলো আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে। ইউক্রেন অ্যাকশন সামিটে কিয়েভকে অব্যাহত সমর্থনের পক্ষে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদের আগাম অবকাশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ