০৮:২৫ পি.এম
হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী আরব উপসাগরে হামলার শিকার হয়েছে কাতারের গ্যাসবাহী ট্যাংকার ‘আল মায়েদা’। পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে গ্যাস নিয়ে যাত্রা করা এই জাহাজটি ইরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য অনুমতি পেয়েছিল। তবুও হামলার শিকার হওয়ায় এই ঘটনার ফলে নতুন প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে পাকিস্তানের দিকে যাত্রা করছিল ট্যাংকারটি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য পাকিস্তান আগে থেকেই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি সংগ্রহ করেছিল।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানানো হয়, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্যাংকারটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছিল তেহরান। তবে অনুমতি পাওয়ার পরও জাহাজটি হামলার মুখোমুখি হয়। পরে জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে বিপরীত দিকে ফিরে যায়।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে IIUM-এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শুরু
শনিবার কাতারের রাষ্ট্রীয় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, আরব উপসাগরে তাদের একটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। যদিও জাহাজটি কাতারের মালিকানাধীন, এটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ছিল। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ট্যাংকারটি কাতার থেকে গ্যাস নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
ভারতের জাহাজ চলাচলমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, হামলার সময় ট্যাংকারটিতে ছয় ভারতীয়সহ মোট ২৫ জন ক্রু ছিলেন। তিনি জানান, তাঁদের সবাই নিরাপদে রয়েছেন। তবে হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আগে থেকেই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেছিল। তবুও কেন ট্যাংকারটি হামলার শিকার হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসেও পাকিস্তান কাতার থেকে আসা একাধিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পার করে ওমান উপসাগর পর্যন্ত নিয়ে এসেছিল। ফলে এবার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ট্যাংকারে হামলার ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: দেরাদুনে শেষ হলো ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি উৎসব-২০২৬
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশ দুটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনায় নীরব রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন