০৯:১৮ পি.এম
সীতাকুণ্ডে, চট্টগ্রামে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দেশবিরোধী চক্রান্ত এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে এক অভূতপূর্ব ও বিশাল বিক্ষোভ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মশাল মিছিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডকে কেঁপে তুলেছে। অন্ধকার রাতের মধ্যে হাজার হাজার প্রজ্জ্বলিত মশাল, এবং স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানের তীব্র গর্জনে রাজপথ একটি উত্তাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মজলুম জননেতা আসলাম চৌধুরীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় সোমবার রাতের এই মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিল থেকে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা হুঙ্কার দিয়ে জানান, মজলুম জননেতা আসলাম ভাইয়ের স্পষ্ট ঘোষণা হলো, সীতাকুণ্ডের পবিত্র মাটিতে কোনো বিশৃঙ্খলাকারী ও সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবে না।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বার-আউলিয়া এলাকা থেকে শুরু হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাটি আপামর জনতা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। মিছিলের সময় হাজার হাজার মশাল হাতে জাগ্রত জনতা পুরো এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এই পরিস্থিতিতে পুরো সীতাকুণ্ডের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে মিছিলকারীরা পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসক ও তাদের দোসরদের উদ্দেশ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান তোলেন, ‘গোপালগঞ্জের গোলাপী, আর কতকাল জ্বালাবি’। বিগত ফ্যাসিবাদের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দ্বারা সৃষ্ট এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ পুরো মিছিলটিকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করে তুলে।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ৫ নং ঘাট পরিদর্শন
মশাল মিছিল শেষে বার-আউলিয়া বাজারে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ এবং তাদের নিষিদ্ধ অঙ্গ সংগঠনগুলো চোরাগোপ্তা হামলা ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তবে জননেতা আসলাম চৌধুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তারা আবারও যদি সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তবে তৃণমূলের জাগ্রত জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
স্বৈরাচারের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর, ভাটিয়ারী, কুমিরা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড এবং বারৈয়াঢালা ইউনিয়নসহ প্রতিটি ইউনিয়নে এবং পৌর সদরেও বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা পুরো উপজেলায় দলের সাংগঠনিক শক্তিমত্তা ও ব্যাপক জনসমর্থনের প্রকাশ ঘটায়।
পরিশেষে, বক্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অর্জিত গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো অপশক্তিকে রুখে দিতে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনসাধারণকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ ও রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই বিশাল প্রতিবাদী কর্মসূচি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জের নলতা কালীবাড়ি শারদীয় দূর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মিছ কাওছার আজিজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন