১০:৩০ এম
ব্রাজিলের ফুটবল অনেকটা নদীর মতো বয়ে চলে। কখনো শান্ত, কখনো উন্মত্ত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক নিজের ছন্দেই প্রবাহিত হয়। জাপানের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের খেলায় সেখানেও সেই চিরচেনা স্রোতের দেখা মিলেছে।
প্রতিপক্ষ লড়াই করেছে, প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছে। কিন্তু ব্রাজিল কিছু সহজ উত্তর দিয়ে তাদের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আঁকড়ে ধরেছে। আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং মুহূর্তের জাদু—সব মিলিয়ে যেন আবারও জেগে উঠেছিল ‘জোগো বনিতো’র সৌন্দর্য।
বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সেই সাম্বা-ছন্দের ঝংকার তুলতে আজ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আগ্রহী। তবে এবার তাদের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন দর্শনের একটি প্রতিপক্ষ—নরওয়ে।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ
অন্যদিকে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের জন্য অপেক্ষা করছে মেক্সিকো। সে প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে।
তবে সবার আগে দেখে নেওয়া উচিত, ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে পরীক্ষাটা কেন কঠিন হতে পারে। বলা হয়ে থাকে, বিশ্বকাপ যত নক আউটের গভীরে যায়, ফুটবল ততই কৌশল কিংবা পরিসংখ্যানের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্নায়ু, সাহস এবং মুহূর্তের খেলায় পরিণত হয়। জাপানের বিপক্ষে ওই পরীক্ষায় ব্রাজিল ‘লেটার মার্ক’ পেয়ে পাস করেছে।
এশিয়ার চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে এখন সামলাতে হবে ইউরোপীয় যান্ত্রিক নরওয়েকে। ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট হয়ে উঠেছেন নেইমার।
তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে শুরু থেকেই নামাবেন, নাকি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বেঞ্চ থেকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে কিক-অফের ঠিক আগে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হোতা তিন ভাই গ্রেফতার
‘ও (নেইমার) ৯০ মিনিটই খেলতে পারবে। এতে সন্দেহ নেই। তবে কতোক্ষণ খেলবে, সেটা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। যখনই মনে হবে দলের ওকে প্রয়োজন, তখনই ও মাঠে নামবে’—এ কথার মধ্য দিয়ে আনচেলত্তি নিজের পরিকল্পনার আভাস দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে দুশ্চিন্তা। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাম্বা-সুর যেন এমনই। অন্যদিকে নেইমার সুস্থ হতে হতেই লুকাস পাকেতা কেন ছিটকে পড়বেন! মাঝমাঠের এই ভরসাকে ছাড়াই নরওয়ে বাধা পেরোতে হবে ব্রাজিলকে।
তবে স্বস্তির খবরও রয়েছে। চোট কাটিয়ে বেশিসম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়েছেন রাফিনিয়া। অনুশীলনে ফিরলেও তাঁকে একাদশে দেখা যাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অবশ্য তাঁর অনুপস্থিতিতে ডান প্রান্তে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তরুণ উইঙ্গার রায়ান। গতি, দম এবং আক্রমণাত্মক প্রেসিংয়ে তিনি ইতোমধ্যে ব্রাজিলের অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
যেখানে ব্রাজিল কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, নরওয়ে সেখানে অনেক বেশি স্থিতিশীল। তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হালান্ড, আধুনিক ফুটবলে গোল করার শিল্পকে যিনি প্রায় যন্ত্রের নির্ভুলতায় নামিয়ে এনেছেন। তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও জায়গা দিলে শাস্তি প্রায় অবধারিত। গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ বত্রিশ পর্যন্ত সেটাই প্রমাণ করেছেন হালান্ড।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে হারিয়ে আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন ভারত
ইতিহাসও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলে। ব্রাজিলের বিপক্ষে চারবারের দেখায় তারা কখনো হারেনি—দুটি জয়, দুটি ড্র। তবে ইতিহাস যতই পাশে থাকুক, নক আউটের উত্তাপকে স্বাভাবিক করে তোলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে ব্রাজিলের। তবে নরওয়ে চাইবে সাম্বার ছন্দ থামিয়ে উত্তরের বরফ শীতল স্থিরতাকেই শেষ কথা বানাতে।
নরওয়ের মতো একই স্বপ্ন রয়েছে মেক্সিকোরও। আজতেকায় বিশ্বকাপে হার কী জিনিস, সেই অভিজ্ঞতা নেই তাদের। শেষ বত্রিশে ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে নতুন জোয়ার এনে দিয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার শেষ ষোলোতে ওঠা মেক্সিকো তাই এখন আরেকটি স্মরণীয় রাতের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডকে থামানো কঠিনই হবে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ড অধিনায়কের জোড়া গোলেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্স। সেই প্রত্যাবর্তনই দেখিয়ে দিয়েছে, বড় মঞ্চে সাফল্যের জন্য ইংলিশরা কতটা ক্ষুধার্ত। আজতেকার গর্জনের মাঝেও সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই মেক্সিকো পরীক্ষায় উতরে যেতে চাইবে তারা।
আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন