বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:০২ পি.এম
ওপেনার বেন কারানের অসাধারণ সেঞ্চুরির মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। প্রথমে ব্যাটিং করে কারানের অপরাজিত ১১১ রানের উপর ভর করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করেছে জিম্বাবুয়ে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বল হাতে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে তিনি জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে বোল্ড করেন। ফলে, বেনেট খালি হাতে সাজঘরে ফিরে যান।
নিজের দ্বিতীয় ওভারেও উইকেটের দেখা পেয়েছেন তাসকিন। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া ইনোসেন্ট কাইয়াকে ৪ রানে থামান তিনি।
৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার কারান ও ক্রেইগ আরভিন। কিন্তু তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান নাহিদ রানা, যিনি আগের ম্যাচে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন। কারানের সাথে ৩৫ বলে ২৪ রানের জুটি গড়ে রানার বলে বোল্ড হন আরভিন। তিনি ৯ রান করেন।
আরভিনের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে চতুর্থ উইকেটে কারানের সাথে ৪৫ বলে ৩৪ রান যোগ করেন ওয়েসলি মাধভেরে। উইকেটে সেট হয়ে তিনি ২টি চারে ৩০ বলে ১৫ রান করে বাংলাদেশের অধিনায়ক ও স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের বলে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দেন।
দলীয় ৬৬ রানে মাধভেরে ফিরে যাওয়ার পর জিম্বাবুয়ের রান ১শ পার করেন কারান ও সিকান্দার রাজা। ৬৮ রানের জুটির মধ্যে ৩৩ রান অবদান রেখে মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হন রাজা। তিনি ৪টি চারে ৩৩ রান করেন। এই জুটিতে ৫৯ বলে ওয়ানডেতে তৃতীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন কারান।
সাত নম্বরে নেমে ক্লাইভ মাদান্দে সুবিধা করতে পারেননি। তিনি ব্যক্তিগত ৪ রানে স্পিনার রিশাদ হোসেনের বলে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানের হাতে বন্দি হন।
১৪৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের ফলে জিম্বাবুয়ে ২শর নীচে গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়ে। কিন্তু সেটি হতে দেননি কারান ও আট নম্বরে নামা ব্রাড ইভান্স। তারা সপ্তম উইকেটে ৮০ বলে ৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের রান আড়াইশর কাছে নিয়ে যান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে সপ্তম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি জিম্বাবুয়ের। ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করে জিম্বাবুয়ে।
তাসকিনের করা শেষ ওভারে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২২ রান তুলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ইভান্স। তিনি ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন।
অন্যপ্রান্তে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছেন কারান। ইনিংসের ৪৬তম ওভারে এসে ১২২ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম ম্যাচে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। তিনি ৯ চারে ১৩৫ বলে অনবদ্য ১১১ রান করেন।
বাংলাদেশের তাসকিন ৫৭ রানে ও মিরাজ ৩২ রানে ২টি করে উইকেট নেবার কৃতিত্ব দেখান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য মনিরুজ্জামান মনির মাতুব্বর।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এলাকার যুবলীগ নেতা তথা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির মাতুব্বর (৪০) জামিন শুনানির দিনেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি কারাগারে ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের কাছে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিহত মনিরুজ্জামানের ছেলে। মনিরুজ্জামান যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ঢাকা মোহাম্মদপুর থানায় এবং তিনি মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। একইসাথে, তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর শহীদ সিটি পার্ক মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মনির গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। কারাগারে যাওয়ার ৪-৫ মাস পর তিনি জামিন মুক্ত হন। কিন্তু কারাফটক থেকে বের হওয়ার পরপরই (দশ কদম আসার পরেই) ডিবি পুলিশ তাঁকে দ্বিতীয় দফায় গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আরও ৪-৫ মাস পর, আবারো নতুন মামলার আভাস দেখিয়ে তাঁর জামিনের পরও তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহতের ছোট চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসার মাতুব্বর জানান, মনিরুজ্জামান মনির দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ (হার্ট) ও অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের জটিলতায় ভুগছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার আদালতে মনিরের জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। অথচ জামিন শুনানির ঠিক আগের রাতেই কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের কাছে মুঠোফোনে মৃত্যুর খবর জানায়।
হঠাৎ এই যুবলীগ নেতার মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবার ও এলাকার মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মনিরের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি যে তাঁর লাশ কোথায় দাফন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। আজ এই বৈঠকটি আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকের সময়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, এবং বিদ্যমান নন-ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়াও, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানো এবং বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এফটিএ চুক্তি সম্পর্কেও আলোচনা চলে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করার জন্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এ সম্পর্কে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরও গভীর হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইইউ’র সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানের কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম, এ বার্তা পৌঁছে দিতেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, তার প্রত্যাশা, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হবে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, জ্বালানি সংকট সমাধান হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলোর দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা হবে।
এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উইরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনার জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ সম্পর্কে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (এনটিবি) দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করা ও এলডিসি-পরবর্তী সময় বাণিজ্যিক সুবিধা মসৃণভাবে অব্যাহত রাখতে দ্রুত ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে, বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) প্রচেষ্টা বিজিবির হাতে প্রতিহত করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, সদস্যদের দ্রুত অবস্থানের কারণেই ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের পুশইনের প্রচেষ্টা সফল করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন থেকে জানানো হয়েছে, নারী-পুরুষসহ সাতজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছালে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক বলেন, ‘কালাইরাগ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২০ থেকে ২৫ গজ বাংলাদেশের ভেতরে সাতজনকে এনে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবির সদস্যরা তা প্রতিহত করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’
এদিকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা অবস্থায় ওই সাতজন সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছেন বিজিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ : মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে যে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে লেবাননে ইসরাইলের হামলায় সম্পূর্ণ একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই সংস্থাটি এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ তারিখে ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।
এর জবাবে, ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এতে ২৫০ জনের বেশি শিশুসহ চার হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বৈরুত থেকে এএফপি জানায় যে, অ্যামনেস্টি ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে বেসামরিক মানুষের তিনটি বাড়িতে চালানো তিনটি হামলার বিশ্লেষণ করেছে। এসব হামলায় ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, তাদের মধ্যে ১২ জন শিশুও রয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, এসব হামলায় ইসরাইল ‘সম্পূর্ণ পরিবার নিশ্চিহ্ন’ করেছে এবং এগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সংস্থাটি জানায়, তারা এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু হামলা ‘হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ চালানো হয়েছিল এবং অন্য কিছু হামলা ‘পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে’।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অ্যামনেস্টিকে আরও জানায় যে, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে অ্যামনেস্টি জানায় যে, পরবর্তী যোগাযোগ সত্ত্বেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী ওই তিনটি হামলা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি, এমনকি লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তাও জানায়নি।
প্রতিবেদনটি ১৫ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন, প্যারামেডিক, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সাংবাদিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা ছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তিসংগতভাবে মনে করে যে, প্রতিটি বিমান হামলায় ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পার্থক্য করার ব্যর্থতা, বেসামরিক ব্যক্তি বা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে বলেন, ‘মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে এক ডজন শিশুসহ পুরো পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে, যা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রগুলোর উচিত অবিলম্বে ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সার্বজনীন ও বহির্দেশীয় বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।’
গত মাসে লেবানন ও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছায়, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসানের পথ সুগম করা।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
তবে এরপরও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে মাঝে-মধ্যেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার কয়েকটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ