প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। আজ এই বৈঠকটি আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকের সময়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, এবং বিদ্যমান নন-ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়াও, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানো এবং বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এফটিএ চুক্তি সম্পর্কেও আলোচনা চলে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করার জন্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এ সম্পর্কে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরও গভীর হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইইউ’র সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানের কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম, এ বার্তা পৌঁছে দিতেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, তার প্রত্যাশা, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হবে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, জ্বালানি সংকট সমাধান হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলোর দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা হবে।
এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উইরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনার জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ সম্পর্কে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (এনটিবি) দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করা ও এলডিসি-পরবর্তী সময় বাণিজ্যিক সুবিধা মসৃণভাবে অব্যাহত রাখতে দ্রুত ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে, বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন