বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১০ এম
খুলনার রূপসায় স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা মামলায় আরও দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে খুলনা জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টায় ওসি ডিবি অনুপ কুমার চৌধরী'র নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কাজদিয়া কলেজ মাঠ থেকে তাদের আটক করা হয়। তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, আসামিদেরকে জেলা গোয়েন্দা হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ সুত্রে জানা যায়, জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের এসআই ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মোল্লা লুৎফর রহমান কর্তৃক গ্রেফতারকৃত মনির গাজীর ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর সুত্র অনুযায়ী কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের মো. হোসেন সরদারের ছেলে আশরাফুল সরদার (২৬) ও টিএসবি ইউনিয়নের তালতলা এলাকার হাসান খানের ছেলে রিফাত খান (১৯)কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯ টায় ডিবি পুলিশের ওসি তত্বাবধানে ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আহমেদ হোসেনের নেতৃত্বে অত্র মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মোল্লা লুৎফর রহমান, সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স নিয়ে উক্ত কাজদিয়া কলেজ মাঠ এলাকা হতে গ্রেফতার করেন।
এছাড়া এর আগে সন্ত্রাসী মনির গাজী তালতলার তার বসত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্তকারী অফিসার এসআই মোল্লা লুৎফর রহমান বলেন, দুই আসামি সন্ত্রাসী আশরাফুল ও রিফাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে এই দুইজনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন সন্ধ্যায় আনুমানিক রাত সাড়ে ১০ টায় বিনয় মেম্বরের বাড়ির সন্নিকটে একটি চায়ের দোকানের সামনে হত্যার উদ্দেশ্য রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমানকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানাধীন বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ পরিদর্শন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি, প্রতিমা নির্মাণের অগ্রগতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। একই সঙ্গে আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), লোহাউনি-হলিছড়া চা বাগানের ম্যানেজার, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধি, বিট অফিসার, গ্রাম পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কুলাউড়া থানা এলাকায় এবারও শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টঙ্গীতে পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে ছিনতাই হওয়া মাদক মামলার আসামি রাহুলকে ১০ দিন পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই মামলায় মোট আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে, যার মধ্যে আরো একজন রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) টঙ্গীর কেরানীর টেক এলাকা থেকে রাহুলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া রাহুল (২৭) টঙ্গীর কেরানীর টেক এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। অপর গ্রেপ্তার আসামি আবদুল্লাহ (২২) একই এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কেরানীরটেক মাদক বস্তি থেকে কুখ্যাত মাদক সম্রাজী রানী বেগমের ছেলে পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে থানায় নিয়ে আসার সময় মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা রেললাইনের পাথর কুঁড়িয়ে পুলিশের ওপর নিক্ষেপ করলে কনস্টেবল মাসুদ আহত হন এবং এই সুযোগে আসামি ছিনতাই হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং সারারাত ছিনতাই হওয়া আসামি উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালায়, যার ফলে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আসামি ছিনতাইয়ের ১০ দিন পর রাহুলকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলো। এই মামলায় এখন পর্যন্ত আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম কালের কণ্ঠকে জানান, পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তারের পর নিয়ে আসার সময় সন্ত্রাসীরা রেললাইনের পাথর কুঁড়িয়ে ছুঁড়ে আসামি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় পাথরের আঘাতে কনস্টেবল মাসুদ আহত হন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আজ ছিনতাই হওয়া আসামি রাহুলসহ দুজন গ্রেপ্তার হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৌরসভা ও ইউনিয়ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে একজন চোর/ছিনতাইকারী, তিনজন মাদক ব্যবসায়ী, তিনজন মাদক সেবনকারী, দুইজন ধর্তব্য অপরাধের আসামি এবং একজন হত্যা মামলার আসামি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চোর/ছিনতাইকারী হিসেবে পেশকার পাড়া এলাকার সাদ্দাম হোসেন (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন উত্তর নুনিয়ারছড়া শিল্প এলাকার মোঃ আলমগীর (৫২), রুমা আক্তার (১৯) এবং জমিলা খাতুন (২৬)। এছাড়া, মাদক সেবনের অভিযোগে দক্ষিণ তারাবনিয়ারছড়ার মোঃ বাহাদুর (৪৭), পেটি স্কুল চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার আবদুর রহিম (২৬) এবং ঘোনাপাড়ার মোঃ ইউসুফ (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধর্তব্য অপরাধের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের শিবলী হাওলাদার (৪১) ও ঈদগাঁওয়ের ছোটন ধর (২৬)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পূর্ব টেকপাড়া এলাকার সাদমান সিহাব (৩০)কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং চোর-ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ উপমহাদেশের বিশিষ্ট আলেম, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সমাজসেবক মাওলানা শামছুল হুদা পাঁচবাগীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ৯১ বছর বয়সে ময়মনসিংহ শহরের ব্রাহ্মপল্লীতে অবস্থিত নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। এই উপলক্ষে গফরগাঁওয়ের পাঁচবাগ, ময়মনসিংহ এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাওলানা শামছুল হুদা পাঁচবাগী শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যাচারী জমিদার ও সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১ হাজার ২১টি মামলা পরিচালনা করেন এবং এসব মামলায় তিনি সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, বিচারপতি আবদুস সাত্তার, অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তিনি আমৃত্যু ঐতিহাসিক শাহজাদি বেগম ওয়াকফ এস্টেটের মুতাওয়াল্লী ছিলেন। তাঁর সংগ্রামে অনুপ্রাণীত হয়ে টিপু সুলতানের বংশধর মোঘলকন্যা শাহজাদি বেগম মাওলানা শামছুল হুদা পাঁচবাগীর অজান্তেই তাঁকে বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহের তিনটি তৌজিভুক্ত বিশাল ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত করেন। এই সম্পত্তি রক্ষার জন্য আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ৪৫০টি মোকদ্দমা লড়তে হয় এবং তিনি সবগুলোতেই জয়লাভ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, মাওলানা পাঁচবাগী ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তাঁর ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আঙিনায় মুক্তিযোদ্ধা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষকে আশ্রয়, খাদ্য ও সহায়তা প্রদান করেন।
তিনি বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষায় বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন। সাংবাদিক হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলা, আরবি ও উর্দু ভাষায় যথাক্রমে ‘দ্বীন-দুনিয়া’, ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ ও ‘তর্জুমানে দ্বীন’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন পৃথক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ