ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে ঢাকা ও কুয়ালালামপুর


মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে ঢাকা ও কুয়ালালামপুর

বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা সঙ্গে সংগতি রেখে একটি 'পারস্পরিক কল্যাণকর, ব্যাপক ও দূরদর্শী' চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ২০২৭ সালে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

সোমবার (২২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর ব্যাপারে হওয়া অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বিদেশে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য সরকারকে জানানোর প্রত্যাশা ঢাকা: হুমায়ুন

উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হলো বাংলাদেশ।

তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এটি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাঠামোগত সংলাপ ও মতবিনিময়ের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই নেতা টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো (যেমন: সড়ক, সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার), বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে অধিকতর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান ববি হাজ্জাজের

তারা বিনিয়োগ সহায়তা, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উভয় দেশের সরকারি সংস্থা, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পখাত ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে শিল্পখাতের উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে অংশগ্রহণ জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়টি স্বীকার করেন। হালাল ইকোসিস্টেম উন্নয়নে মালয়েশিয়ার দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দিয়ে তারা বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হন।

উভয় পক্ষ হালাল ইকোসিস্টেম বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত নোট বিনিময়কে স্বাগত জানান এবং মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (জাকিম) ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

এছাড়া হালাল সনদ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই দেশ।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ

শ্রম সহযোগিতা

মালয়েশিয়ার বর্তমান বৈদেশিক শ্রমিক নীতির আলোকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশই স্বীকার করেছে যে নতুন বিদেশি কর্মীদের কোটার অনুমোদন বর্তমানে নিয়োগকর্তার যাচাইকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ সীমার ওপর ভিত্তি করে কঠোরভাবে কেস-বাই-কেস (প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে) মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদিত এ ধরনের যেকোনো কোটার ক্ষেত্রে উভয় দেশই কেবল নির্ভরযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং প্রতিযোগিতামূলক নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের "অব্যাহত, নিরাপদ এবং পারস্পরিক কল্যাণকর" অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজে) বৈঠক আহ্বান করতে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন এবং উভয় দেশের বর্তমান প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ও হালনাগাদ সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের ভিত্তি স্থাপনের ওপর আলোকপাত করা হবে।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ঢাকা জেলা আ.লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার

কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দুই প্রধানমন্ত্রী জনগণের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান।

তারা উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

শিক্ষা ও পর্যটন সহযোগিতা

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, শিক্ষাগত বিনিময় ও আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের ইতিবাচক অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে ফিরে আসার পর তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার মূল্য বিবেচনায় নিয়ে দুই নেতা শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বার্তা ও মাদকবিরোধী অভিযানের গুরুত্ব

এ সহযোগিতার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়-থেকে-বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিভার্সিটি-টু-ইউনিভার্সিটি) অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা কর্মসূচি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে।

দুই নেতা শ্রমবাজারের চাহিদা এবং উভয় দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে স্নাতকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

মালয়েশিয়ার 'ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬' (ভিএম২০২৬) এবং 'মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬' (এমওয়াইএমটি২০২৬) প্রচারণাকে সামনে রেখে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে তারা উভয়েই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’ ইশরাকের বিষয়ে : আইনমন্ত্রী

মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানায় এবং দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বিষয়ে প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়ে তারা একমত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুবছর কঠিন সময় যাবে, সবার কষ্ট করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


দুবছর কঠিন সময় যাবে, সবার কষ্ট করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতি বর্তমানে নানামুখী চাপে থাকায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি না হওয়ার কারণে আগামী দুবছর সময় কঠিন যাবে।

সোমবার (২২ জুন) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেছেন, দুই বছর সময় কঠিন যাবে, আমি আগেভাগে বলছি। দুইটা বছর কষ্ট করতে হবে সবাই মিলে। এবং জনগণের জীবন যেটা (স্বাভাবিক রাখার) সেটাও আমরা নীতির ভিত্তিতে করব। সহায়তার ভিত্তিতে।

যতটুকু সীমিত আমাদের সম্পদ আছে, সেটাই দিয়েই আমরা কাজ করব। তবে আমি এটা বলছি না। কিন্তু অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে, যে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতায় যেতে, সেটার জন্য দুবছর সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি যদি বলি কালকে সকালে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এই কমিটমেন্টটা আমি দিতে চাইব না।

এটার জন্য দুবছর সময় প্রয়োজন। এই ভঙ্গুর অর্থনীতি, খারাপ অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। ঘুরে দাঁড়াবে। এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি হবে ‘প্রসপারিটি অব বাংলাদেশ’।

চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে ‘প্রসপারিটি ফর বাংলাদেশ’। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ- আমরা তা দেখব।

পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতেও দুবছর প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট, আমি আবারও বলছি দুই বছরের কুশন দরকার। আপনি দেখবেন ইনশাল্লাহ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের বিশাল একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে ক্যাপিটাল মার্কেটে, বিশাল সুযোগ। সকলের জন্য।

কীভাবে হবে, তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটে প্রথম আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আস্থাটা ফিরিয়ে আনা। এইজন্য আমরা একটি কমিশন করেছি যারা একদম স্বাধীন, অবৈশ্বিক এবং সম্পূর্ণ পেশাদার। সুতরাং, এরা সব আইনগুলো পরিবর্তন করছে যাতে আমাদের বিনিয়োগকারীরা সুরক্ষিত থাকে। যারা তালিকাভুক্ত হবে কোম্পানিগুলো, তারা যাতে আস্থা পায় যে ক্যাপিটাল মার্কেটে তাদের শেয়ারটি সঠিকভাবে লেনদেন হবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের যেন বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর আস্থা থাকে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ডিরেগুলেশন একটি বড় পদক্ষেপ। আমি জানি এটা খুব কঠিন। অনেক বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছি ইতিমধ্যে। এ ঘোষণা করার সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এক্সিকিউশন করতে গেলে আরও বাধাগ্রস্ত হব, আমি জানি কিন্তু যত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আমি নিতে প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, এই ডিরেগুলেশনের পথে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত হয়, তাদের আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেব। ওই যে দরজা আছে পেছনে, সেদিকে বেরিয়ে যান। তাদের কোনও দরকার নেই। দেশ হিসেবে আমরা অনেক ‘সাফার’ করেছি। বাংলাদেশের মানুষ এখন চায় একটি সত্যিকার মুক্ত জীবনযাপন করতে।

বাজেট বক্তৃতায় সাড়ে চার পৃষ্ঠায় এ নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী; সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে যেসব বাধার শিকার হতে হয়, সেখানকার অনেক কিছুর আমলাতান্ত্রিক কারণে সেসবের অনেক কিছু কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয় সরকারের তরফে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি সঞ্চয় না বাড়ে, সম্পদ তৈরি না হয়, তাহলে অর্থনীতির সুদিন ফিরবে না। কারণ তারা (সীমিত আয়ের মানুষ) তো ভোক্তাও বটে। তাই ওই কনটেক্সটে, আমার কাছে এইবারের যে আয়করের হারের কাঠামো সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে, তা কিছুটা ‘রিগ্রেসিভ’ মনে হয়েছে। কারণ এর আগে ৫ শতাংশ হার যে ছিল, আমি মনে করি এটি রাখা উচিত ছিল সরকারের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি সার্বক্ষণিক কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি সার্বক্ষণিক কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সারাদেশে অনলাইন সাংবাদিক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের জন্য গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি চালু করা হয়েছে; তথ্য অধিদফতরের সদর দপ্তরে একটি বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী আজ সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবদুল মান্নানের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেছেন, সারাদেশে অনলাইন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো- গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি; তথ্য অধিদফতরের সদর দপ্তরে একটি বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ ২৪ ঘণ্টা কর্মরত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে এই কমিটির মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে সত্যতা নিশ্চিত করে ‘তথ্যবিবরণী’ এবং ‘প্রতিবাদলিপি’ সরকারি ও বেসরকারি সকল গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি জানান, সদর দপ্তরের পাশাপাশি তথ্য অধিদফতরের আওতাধীন বিভাগীয় পর্যায়ে অবস্থিত আঞ্চলিক তথ্য অফিসসমূহ নিজ নিজ অঞ্চলের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ওপর নিবিড় নজরদারি করছে।

অপপ্রচার এবং সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অধিদফতরের ফিচার শাখা থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক বিশেষ নিবন্ধ ও ফিচার তৈরি করে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালসমূহে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ৪০ দিনেও অধরা অভিযুক্ত, জাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ৪০ দিনেও অধরা অভিযুক্ত, জাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধির সংবাদ অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে, অভিযুক্তকে অতিসত্তর গ্রেপ্তার করতে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করতে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর ব্যানারে তারা মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষক ঘুরে, প্রক্টর কী করে?’, ‘হয়রানির গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘নারীবান্ধব ক্যাম্পাস চাই’সহ নানান স্লোগান দেন। পরবর্তীতে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে নারী নিরাপত্তা মঞ্চের সংগঠক ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া জানান, গত ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার ঘটনায় অভিযুক্ত এখনও আইনের আওতায় আসেনি।

৪০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা কিংবা তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি খুলে বলেন, আন্দোলনের মুখে প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিল। সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

সোহাগী আরও বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ১২ মের ঘটনা না, পরবর্তী সময়েও ক্যাম্পাসে একাধিক নিপীড়নের ঘটনার উদাহরণ রয়েছে।

তিনি জানান, প্রশাসনকে বারবার বলেছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়তো তাদের দায়িত্ব নয়, কিন্তু ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। সেই দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

গত আড়াই বছরে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ অভিযোগের কার্যকর সমাধান হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

সোহাগী বলেন, আজকের নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি একটি দিনেই তৈরি হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার ফলেই এই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে প্রশাসনের বিলম্বের সমালোচনা করেন তিনি এবং বলেন, প্রশাসন সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও প্রকাশ হয়নি।

নারী নিরাপত্তা মঞ্চের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নারী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্দোলন আরো শক্তিশালী করা হবে বলেও জানান।

মানববন্ধনে একই সংগঠনের আরেক সদস্য ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিসা জামান জানান, পরিবার নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের প্রত্যাশায় তাদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

লামিসা ঘোষণা দেন, অনেক সময় দেখা যায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে বলছেন নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের নয়। তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার—এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের শনাক্তকরণ বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট করার মতো কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি।

লামিসা আরও জানান, ঘটনায় পরে প্রায় আড়াই হাজার নারী শিক্ষার্থী ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দাবিগুলোর কোনটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্তের তথ্য প্রকাশের কথা বললেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। ছুটির মধ্যেও নারী নিরাপত্তা মঞ্চ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ছুটিকালেও ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকায় নারী হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। একজন নারী শিক্ষার্থী প্রতিদিন নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে, সেই ক্যাম্পাসকে নিরাপদ বলা যায় না।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জবাবদিহি সংশ্লিষ্টদেরই করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও ইজাজুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও ইজাজুল হক

জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমের অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের মে মাসে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ রোববার (২১ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বিভাগের ৬ জেলার ৪২টি উপজেলার মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে প্রথম স্থান লাভ করেছে গলাচিপা উপজেলা। মে মাসে জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৮টি, যা অর্জিত হয়েছে ৪২৯টি। অন্যদিকে, মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৬টি, যা অর্জিত হয়েছে ২১৯টি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধনের হার ১০০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ১৮৯ শতাংশ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন মিলিয়ে গড় সাফল্যের হার দাঁড়িয়েছে ১৪৫ শতাংশ, যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এ বিষয়ে ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “কোনো অর্জন একার পক্ষে সম্ভব নয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সচিব, উদ্যোক্তা ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং দলগত কাজের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। এ অর্জন গলাচিপাবাসীর। এজন্য বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সারা দেশের ৫০৭টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে বর্ষসেরা ইউএনও নির্বাচিত হয়েছিলেন আবুজর মো. ইজাজুল হক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%