০৬:২৬ পি.এম
দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতি বর্তমানে নানামুখী চাপে থাকায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি না হওয়ার কারণে আগামী দুবছর সময় কঠিন যাবে।
সোমবার (২২ জুন) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আমির খসরু বলেছেন, দুই বছর সময় কঠিন যাবে, আমি আগেভাগে বলছি। দুইটা বছর কষ্ট করতে হবে সবাই মিলে। এবং জনগণের জীবন যেটা (স্বাভাবিক রাখার) সেটাও আমরা নীতির ভিত্তিতে করব। সহায়তার ভিত্তিতে।
আরও পড়ুন: সউদীতে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কারাদণ্ড ২৫ বছর বাড়ানো হয়েছে
যতটুকু সীমিত আমাদের সম্পদ আছে, সেটাই দিয়েই আমরা কাজ করব। তবে আমি এটা বলছি না। কিন্তু অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে, যে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতায় যেতে, সেটার জন্য দুবছর সময় লাগবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি যদি বলি কালকে সকালে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এই কমিটমেন্টটা আমি দিতে চাইব না।
এটার জন্য দুবছর সময় প্রয়োজন। এই ভঙ্গুর অর্থনীতি, খারাপ অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। ঘুরে দাঁড়াবে। এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি হবে ‘প্রসপারিটি অব বাংলাদেশ’।
চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে ‘প্রসপারিটি ফর বাংলাদেশ’। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ- আমরা তা দেখব।
আরও পড়ুন: ভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন, নিসচার র্যালি ও আলোচনা সভা
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতেও দুবছর প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট, আমি আবারও বলছি দুই বছরের কুশন দরকার। আপনি দেখবেন ইনশাল্লাহ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের বিশাল একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে ক্যাপিটাল মার্কেটে, বিশাল সুযোগ। সকলের জন্য।
কীভাবে হবে, তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটে প্রথম আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আস্থাটা ফিরিয়ে আনা। এইজন্য আমরা একটি কমিশন করেছি যারা একদম স্বাধীন, অবৈশ্বিক এবং সম্পূর্ণ পেশাদার। সুতরাং, এরা সব আইনগুলো পরিবর্তন করছে যাতে আমাদের বিনিয়োগকারীরা সুরক্ষিত থাকে। যারা তালিকাভুক্ত হবে কোম্পানিগুলো, তারা যাতে আস্থা পায় যে ক্যাপিটাল মার্কেটে তাদের শেয়ারটি সঠিকভাবে লেনদেন হবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের যেন বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর আস্থা থাকে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ডিরেগুলেশন একটি বড় পদক্ষেপ। আমি জানি এটা খুব কঠিন। অনেক বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছি ইতিমধ্যে। এ ঘোষণা করার সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এক্সিকিউশন করতে গেলে আরও বাধাগ্রস্ত হব, আমি জানি কিন্তু যত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আমি নিতে প্রস্তুত আছি।
তিনি বলেন, এই ডিরেগুলেশনের পথে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত হয়, তাদের আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেব। ওই যে দরজা আছে পেছনে, সেদিকে বেরিয়ে যান। তাদের কোনও দরকার নেই। দেশ হিসেবে আমরা অনেক ‘সাফার’ করেছি। বাংলাদেশের মানুষ এখন চায় একটি সত্যিকার মুক্ত জীবনযাপন করতে।
আরও পড়ুন: এনসিপি সরকার গঠন করলে কে কোন মন্ত্রণালয় পাবেন, জানালেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
বাজেট বক্তৃতায় সাড়ে চার পৃষ্ঠায় এ নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী; সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে যেসব বাধার শিকার হতে হয়, সেখানকার অনেক কিছুর আমলাতান্ত্রিক কারণে সেসবের অনেক কিছু কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয় সরকারের তরফে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি সঞ্চয় না বাড়ে, সম্পদ তৈরি না হয়, তাহলে অর্থনীতির সুদিন ফিরবে না। কারণ তারা (সীমিত আয়ের মানুষ) তো ভোক্তাও বটে। তাই ওই কনটেক্সটে, আমার কাছে এইবারের যে আয়করের হারের কাঠামো সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে, তা কিছুটা ‘রিগ্রেসিভ’ মনে হয়েছে। কারণ এর আগে ৫ শতাংশ হার যে ছিল, আমি মনে করি এটি রাখা উচিত ছিল সরকারের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন