ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ডাসারে গরুর খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ২০ লাখ টাকা


ডাসারে গরুর খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ২০ লাখ টাকা

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় একটি গরুর খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে খামারে থাকা গরুসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আগুনে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব পূয়ালী গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পূয়ালী গ্রামের আব্দুল মজিদ মাতুব্বরের ছেলে মো. কামাল মাতুব্বর নিজ বাড়িতে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন।

সেখানে প্রায় ২০টি গরু লালন-পালন করছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় শেরপুর-ময়মনসিংহ সীমান্তে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন,

শনিবার দুপুরে হঠাৎ খামারে আগুনের সূত্রপাত হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো খামারে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে এরই মধ্যে খামারের গরুসহ বিভিন্ন মালামাল ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন: চাপরতলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আশায় জামাল আহমদের প্রচারণা শুরু, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী

কয়েকটি গরু আগুনের মধ্যে পড়ে যায় বলেও জানান স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী মো. কামাল মাতুব্বর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আগুনে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।”

প্রত্যক্ষদর্শী মো. কাওছার মাতুব্বর ও মাহাবুব বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।

দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরও পড়ুন: দৌলতপুরে ১১ বস্তা সার আটক, দীপু ট্রেডার্সকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করা হবে।”

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ঢাবিতে ছিন্নমূল মানুষদের খাবার বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ঢাবিতে ছিন্নমূল মানুষদের খাবার বিতরণ

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিকের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচিতে শিশু ও নারীসহ প্রায় ৫০ জন ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, আবুল কাসেম প্রধান ও রাকিব হোসেন, সদস্য সাব্বির হোসেন ও জুল হোসেন, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন ও তরিকুল ইসলাম তারেক, শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য তাহমিদ হুমায়ূন তানিম ও সিয়াম রহমান, কবি জসিম উদ্দিন হল ছাত্রদলের সদস্য মাহফুজ ইকবাল, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের সদস্য আয়াজুর রহমান ও শাফওয়ান মাহমুদ, জগন্নাথ হলের ছাত্রদল নেতা কানাই, রোকেয়া হলের ছাত্রনেত্রী রিয়া বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রনেত্রী সুরভী আক্তারসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি সম্পর্কে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে সমন্বয়ের রাজনীতির একটি নতুন ধারা প্রবর্তন করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে বিএনপিকে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন। তাঁর সময়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন, বিএনপির জন্য একটি প্রতিষ্ঠান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমরণ লড়াকু যোদ্ধা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন দেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তরিকুল ইসলাম তারিক আরও বলেন, প্রয়াত এই মহীয়সী নেত্রীর জন্মদিনে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সাথে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁর আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনাকে ধারণ করে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


পোল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা

পোল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে দূতাবাসের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জানানো হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে, পোল্যান্ডে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন কোনো বক্তব্য, আচরণ, কর্মকাণ্ড বা প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর, অসত্য, উসকানিমূলক, আপত্তিকর বা পোল্যান্ডের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের পরিপন্থী হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।

দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেগুলো হলো-

# পোল্যান্ডের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে মেনে চলুন।

# কোনো তথ্য, বক্তব্য বা কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচারের আগে তার সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করুন।

# অসত্য, বিভ্রান্তিকর, আইনবিরোধী বা উসকানিমূলক বক্তব্য, কনটেন্ট বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন।

# অনলাইন ও অফলাইন-উভয় ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীল, সংযত ও আইনসম্মত আচরণ করুন।

# ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।

# পোল্যান্ডে বসবাস, কাজ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইন ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভিডিও ফাঁস, মাদরাসা সুপারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভিডিও ফাঁস, মাদরাসা সুপারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি স্কুলছাত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর, স্থানীয়রা এক মাদরাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে আটক করে বেধড়ক মারধর করেছে। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।

আটক শিক্ষকের নাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০), যিনি বরুড়া উপজেলার পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার সুপার এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমানের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও দেখতে পেয়ে মাকে জানায়। তার পর সে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে এবং মাদরাসার বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমকে ভিডিওগুলো দেয়।

এরপর ভিডিওগুলো ইব্রাহিমের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের হাতে পৌঁছলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিজানুর রহমানকে আটক করে এবং বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে কিছু লোক তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে, কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকায় ধরে ফেলে। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন এবং ১৭ বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পূর্বেও তিনি নারীদের নিয়ে একাধিক অনৈতিক অপরাধে জড়িত থাকায় তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে। গত দেড় বছরে তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি সালিসও বসেছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, হুজুর তাকে প্রায় দেড় বছর ধরে বিরক্ত করছিলেন। এক পর্যায়ে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দিলে তাকে ব্ল্যাকমেইল ও কুফুরি কালামের ভয় দেখিয়ে অচেতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে আটক মিজানুর রহমান বলেন, প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয় এবং বিয়ে পড়ানো কেন্দ্র করে গ্রামের একটি মহল শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে এ চক্রান্ত করেছে। একই সাথে তিনি জানান, জনতার হামলার সময় তার ১২ বছরের ছেলে সিয়াম নিখোঁজ হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মাদরাসা সুপারকে আটক রেখে মারধরের সংবাদ পেয়েছেন তারা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতা লাভের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি বলেন, আসুন আমরা একে অপরকে হুমকি দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করি এবং এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে আলোচনা শুরু করি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে।

লি এমন এক সময়ে এই প্রস্তাব দিলেন যখন উত্তর কোরিয়া আসন্ন বার্ষিক যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র নিন্দা করেছে এবং আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় আলোচনার বিকল্প নেই। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ প্রয়োজন।

কোরীয় যুদ্ধের সক্রিয় সংঘাত ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এখনো ঘটেনি। লি অব্যাহতভাবে বলেছেন, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বর্তমান অবস্থান গত বছর দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির অনুসরণ। ওই সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।

তবে বাস্তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন দুই কোরিয়াকে এক করার নীতি থেকে সরে এসেছেন। দক্ষিণ কোরিয়াকে তিনি উত্তর কোরিয়ার 'সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র' হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া জুলাই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের জন্য চাপ প্রয়োগের নীতিতে সিউল সরে এসেছে। পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কার্যক্রমের বিস্তার রোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব লি'-এর বারবার দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। বরং তারা রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা, খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে।

এ বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়া সফর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত মস্কোতে আরও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই এই সফর হতে পারে। সিউলের প্রধান নিরাপত্তা মিত্র ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮,৫০০ সেনা মোতায়েন করে রেখেছে, যাতে পিয়ংইংয়ের সামরিক হুমকি মোকাবেলায় দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড এই সপ্তাহে বলেছেন, ইউরোপের যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের ফলে কোরিয় উপদ্বীপে তার বাহিনীর সদস্যদের সম্ভাব্য হুমকির ধরন বদলে গেছে।

এদিকে সোমবার শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তারা সেখানে যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা সঙ্গে করে উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে এসেছে। তিনি আরও জানান, আমাদের প্রশিক্ষণে সেই হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫০ সালের ২৫ জুন উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করলে কোরীয় যুদ্ধের সূচনা হয়। সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানসহ উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দ্রুত দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল দখল করে নেয়। এর পরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে শান্তিচুক্তি না হওয়ায় দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%