প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি স্কুলছাত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর, স্থানীয়রা এক মাদরাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে আটক করে বেধড়ক মারধর করেছে। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।
আটক শিক্ষকের নাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০), যিনি বরুড়া উপজেলার পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার সুপার এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমানের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও দেখতে পেয়ে মাকে জানায়। তার পর সে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে এবং মাদরাসার বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমকে ভিডিওগুলো দেয়।
এরপর ভিডিওগুলো ইব্রাহিমের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের হাতে পৌঁছলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিজানুর রহমানকে আটক করে এবং বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে কিছু লোক তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে, কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকায় ধরে ফেলে। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন এবং ১৭ বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পূর্বেও তিনি নারীদের নিয়ে একাধিক অনৈতিক অপরাধে জড়িত থাকায় তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে। গত দেড় বছরে তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি সালিসও বসেছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, হুজুর তাকে প্রায় দেড় বছর ধরে বিরক্ত করছিলেন। এক পর্যায়ে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দিলে তাকে ব্ল্যাকমেইল ও কুফুরি কালামের ভয় দেখিয়ে অচেতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে আটক মিজানুর রহমান বলেন, প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয় এবং বিয়ে পড়ানো কেন্দ্র করে গ্রামের একটি মহল শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে এ চক্রান্ত করেছে। একই সাথে তিনি জানান, জনতার হামলার সময় তার ১২ বছরের ছেলে সিয়াম নিখোঁজ হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মাদরাসা সুপারকে আটক রেখে মারধরের সংবাদ পেয়েছেন তারা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন