০৪:১৬ পি.এম
ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাজ্য সরকার উত্তর সাগরের একটি বিতর্কিত নতুন গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনায় অনুমোদন প্রদান করেছে। বুধবার এই ঘোষণা প্রকাশিত হয়।
এটি কয়েক মাস ধরে চলা গ্যাসক্ষেত্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটায়।
২০২৪ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসা লেবার সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনো অনুমোদন দেওয়া হবে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানি আইনপ্রণেতার
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম মন্তব্য করেছেন যে, অ্যাবারডিনের প্রায় ১৫০ মাইল পূর্বে অবস্থিত জ্যাকড’ গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজের অনুমোদন দিলে ‘কয়েক শত মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে এবং এ শীতে কয়েক লাখ বাড়ি উষ্ণ রাখতে সহায়তা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ যখন সত্যিই নানা সংকটে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ব্রিটেনে বিদ্যমান জ্বালানির মজুত সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর বিষয়টি দায়িত্বশীলভাবে বিবেচনা করা উচিত। এই মজুত আমাদের সহায়তা করতে পারে।’
বার্নহাম আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যেতে ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে জলবায়ু সুরক্ষায় আমাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আগামী কয়েক দশক তেল ও গ্যাসের প্রয়োজন হবে।’
আরও পড়ুন: ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমুদ্রসৈকত বন্ধ
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা উত্তর সাগরের বিষয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’
এর আগে, কনজারভেটিভ সরকার জ্যাকড এবং রোজব্যাংক গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজের অনুমোদন দিয়েছিল।
রোজব্যাংকে মূলত তেলের মজুত রয়েছে এবং এটি শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমে অবস্থিত।
তবে পরিবেশবাদীদের আইনি চ্যালেঞ্জের পর উভয় ক্ষেত্রের অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়।
আরও পড়ুন: সীমান্ত আলোচনা শুরু করতে উত্তর কোরিয়াকে প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া
স্কটল্যান্ডের আদালত সেই চ্যালেঞ্জের পর খননকাজের অনুমোদন বাতিল করে।
দুটি ক্ষেত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আদুরা জানিয়েছে, এই ক্ষেত্র দুটি থেকে উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৬ শতাংশ পাওয়া যেতে পারে।
এছাড়া, এই ক্ষেত্র দুটি দেশের অর্থনীতিতে ২ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ডের বেশি (৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার) অবদান রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সাড়ে ৩ হাজার জনেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
এমন একটি সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন উত্তর সাগরে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন বাড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপও রয়েছে।
আরও পড়ুন: অধিকৃত পশ্চিম তীর পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন