০৮:০৩ পি.এম
পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি চক্র ম্যানগ্রোভ বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছে। শুক্রবার তোলা ছবি। কালের কণ্ঠ
গলাচিপা উপজেলার সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার চলমান রয়েছে। এটি ম্যানগ্রোভ বন এবং সেখানে উপস্থিত জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে মাছ শিকার করার জন্য বন বিভাগ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করা হচ্ছে। তারা বলেছেন, সংরক্ষিত বনের ভেতরে চলমান খালগুলোতে যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি জানিয়েছেন, যদিও মাছ শিকারের কথা স্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খালে মাছ শিকারের বৈধ অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
গলাচিপা উপজেলায় বন বিভাগের উদ্যোগে ১৫ হাজার ২৯০ একর ম্যানগ্রোভ বনকে সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেখানে মাছ শিকার করার জন্য একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা জড়িত। তারা বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে বাঁধ দিয়ে মুক্তভাবে মাছ শিকার করছে।
গলাচিপা উপজেলার চরকার ফারমা এলাকার মাছ শিকারি বাকপ্রতিবন্ধী জসিমের স্ত্রী রেশমা বেগম মন্তব্য করেন, দুই সপ্তাহ আগে ওই এলাকার জাফর ও মাহবুব জসিমের ওপর হামলা করেছে, जब সে সংরক্ষিত বনের খালে মাছ ধরার চেষ্টা করছিল। জাফর দাবি করেন যে তারা ওই খাল চার লাখ টাকায় বিট রেখেছেন এবং সেখানে অন্য কেউ মাছ ধরার সুযোগ পাবেন না।
রেশমা আরও বলেন, 'যদি এসব খাল খোলা (উন্মুক্ত) থাকে, তাহলে আমাদের মতো গরিবরা জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবনযাপন করতে পারে।'
অভিযুক্ত মাহবুব বলেন, জসিমের সঙ্গে তাদের একটু ঝামেলা হয়েছিল। তারা ফরেস্ট অফিস এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে চরকার ফারমার বনের ভেতরের আটটি খাল বিট নিয়েছেন। আরো বলেছে, অন্যান্য খালও যার কাছে বিট রয়েছে, সে মাছ ধরতে পারে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে এমপি আবুল হোসেন খানকে সংবর্ধনা
মাহবুব আরও জানান, 'আমরা যে খাল বিট নিয়েছি, সেখানে জসিম মাছ ধরার চেষ্টা করলে বাধা দিলে ঝামেলা তৈরি হয়, যা পরে মীমাংসা হয়ে গেছে।'
চরকার ফারমার মধ্যস্বত্বভোগী মোশারেফ প্যাদা বলেছেন, 'প্রতিবছরই এ বন বিট দেওয়া হয়। এ বছরও ফরেস্ট অফিস এবং রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে খালের বিট নেওয়া হয়েছে। যারা খালের বিট নেয়, তারাই মাছ ধরে। কেউ কেউ বিট বিক্রি করে দেয়। তবে, কাদের কত টাকা দিতে হয়েছে, তা পরে বলবেন।'
বন বিভাগের গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী জানিয়েছেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বনের খাল বিট দিইনি। যারা খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, 'সংরক্ষিত বনের ভেতর প্রবেশ করা মানে হলো বন এবং বনের প্রকৃতিকে ধ্বংস করা। বিভিন্ন সময় সরেজমিনে কথা বলে আমরা দেখেছি, তারা এই খালগুলোতে শুধু মাছ ধরে না, বিষও প্রয়োগ করে। এতে শুধু মাছ নয়, খালের ছোট-বড় সব জলজ প্রাণী ও প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।'
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী বড় কালীবাড়িতে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দুর্গোৎসব উদযাপন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন