০৯:১০ পি.এম
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের পথে হাঁটা শুরু করেছে।
তিনি এটি বলেছেন শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবির জন্য আয়োজিত বিভাগের সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।
আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, আমরা নির্বাচনের আগে দেখতে পেয়েছি, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, তিনি বলেছিলেন, "আপনারা সবাই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবেন।" কিন্তু নির্বাচনের পরে সেই গণভটের কাজ বাস্তবায়নের জন্য যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন করার কথা ছিল, সেই পরিষদের শপথ তারা নেননি। সরকার দিন-রাত প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দেশের জনগণের সাথে প্রতারণা করছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
তিনি আরও বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ একটি দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সংসদে বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছে দেশের স্বার্থে। সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বলাও হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই সরকার শুধুমাত্র জনগণের ভোটের রায়ের সাথে প্রতারণাই করেনি, বরং দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। গুম-খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের সাথে সমঝোতা করে সরকার রাজনীতি করছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনের আজ মাত্র চার-পাঁচ মাস হয়েছে। এর মধ্যেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা বলেও রেকর্ড পরিমাণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে রেকর্ড পরিমাণে তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে। আগে আমার দেশের জনগণ যে বাজার ১০০ টাকা দিয়ে করত, সেই বাজার এখন দেড়শ টাকা দিয়ে করতে হচ্ছে। সুতরাং এই সময়ে বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনার করবে, কতটুকু তারা সফল হবে, সেটা আমাদের সবার দেখা হয়ে গেছে।
আসিফ মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ অনেক অত্যাচার, অনিয়ম, অন্যায় করেছে। তাদের পতন হয়েছে শুধুমাত্র অত্যাচার এবং অন্যায়-অনিয়মের জন্য নয়। তাদের পতন হয়েছে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণে। তিনি বলেন, "এই সরকারও সেই একই পথে হাঁটা শুরু করেছে।" যদি সরকার জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবে বিরোধী জোট হিসেবে জনগণের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হতে পারে।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পেজে অনেক ধরনের গান-টান শুনলাম। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দুই-তিন বছর ধরে বন্ধ। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে আসলেন, কিন্তু শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা আসবে, এই প্রত্যাশা পুরণ করতে পারলেন না।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, তিনি চীন গেলেন। সেখানেও আমরা মিডিয়াতে অনেক কিছু দেখলাম, কিন্তু আমার দেশের জনগণের জন্য কী নিয়ে আসলেন? এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য বা অর্জন দেখা গেল না। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আপনি যদি শোঅফ করার জন্য ঘুরতে যেতে চান, সেটাও হতে পারে, সমস্যা নেই।" কিন্তু দেশের জনগণের জন্য কিছু নিয়ে আসতে পারেননি। পররাষ্ট্রনীতিতেও সরকারের ব্যর্থতার পরিচয় জনগণ পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন