ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জামায়াতকে জড়ানো টিআইবির বিবৃতি ‘দুরভিসন্ধিমূলক’: মিয়া গোলাম পরওয়ার


জামায়াতকে জড়ানো টিআইবির বিবৃতি ‘দুরভিসন্ধিমূলক’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিবৃতি প্রদান করায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমালোচনা করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি টিআইবির বিবৃতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন, যা সোমবার রাতে জামায়াতের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্ট। তারপরও দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে টিআইবির মিথ্যা বর্ণনামূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানো অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক।’

আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা না থাকলেও জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের বিবৃতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

গত রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি বিকালে একটি বিবৃতি দেয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

গোলাম পরওয়ার টিআইবির বিবৃতি সম্পর্কে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের পেশাদার যে কোনো কাজকে নির্বিঘ্নে সম্পাদনের পরিবেশ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী কর্তৃক তা বাধাগ্রস্ত হোক, কিংবা সত্য প্রকাশে বাধা অথবা হুমকির সম্মুখীন হবে- তা সমর্থন করে না, বরং প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।’

আরও পড়ুন: রাশেদ খানের দাবি, আমির হামজার কাছে নারীসংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও আছে

তিনি বলেন, ‘সুতরাং জামায়াতকে নিয়ে টিআইবির মনগড়া তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অটিজমের জন্য স্পিচ থেরাপির গুরুত্ব ও পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


অটিজমের জন্য স্পিচ থেরাপির গুরুত্ব ও পদ্ধতি

একটি শিশু যখন কথা বলার পরিবর্তে আঙুল দিয়ে তার পছন্দের খেলনাটি দেখায়, অথবা কেউ যখন একই কার্টুনের সংলাপ বারবার উচ্চারণ করে, তখন তাদের জন্য নিজেদের প্রয়োজন বোঝাতে সমস্যা হয়। তারা নিজের ইচ্ছামতো প্রয়োজন বুঝাতে পারে না। আবার, কিছু শিশু সাবলীলভাবে কথা বলতে পারলেও, কথোপকথনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অন্যের ইশারা ও ইঙ্গিত বুঝতে পারা, কিংবা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এই অভিজ্ঞতাগুলো অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের (Autism Spectrum Disorder – ASD) সঙ্গে সম্পর্কিত যোগাযোগের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

স্পিচ থেরাপির লক্ষ্য

স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যক্তির কার্যকর যোগাযোগ, ভাষা বোঝা ও প্রকাশ করা, সামাজিকভাবে অংশগ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো। কথ্য ভাষা যদি ব্যক্তির প্রয়োজন ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সেটির বিকাশেও সহায়তা করা হয়। একই সঙ্গে অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমও ব্যবহার করা হয়। একজন স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট ব্যক্তির যোগাযোগের শক্তি, সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করেন। এই পরিকল্পনায় ব্যক্তির বয়স, ভাষা বা কথা বিকাশের পর্যায়, পছন্দ, দৈনন্দিন পরিবেশ এবং পরিবারের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো শিশু পানি চাইতে না পারে এবং কান্নাকাটি করে, তবে লক্ষ্য শুধুমাত্র তাকে ‘পানি’ শব্দটি উচ্চারণ করানো নয়, বরং তাকে কথা, ইশারা, ছবি বা উপযুক্ত যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের চাহিদা প্রকাশ করতে সক্ষম করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য থেরাপিস্ট কাজ করেন। পরবর্তীতে, তার সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দ, বাক্য ব্যবহার কিংবা কথার দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। থেরাপির লক্ষ্য সবসময় নির্দিষ্ট, বাস্তবসম্মত এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য; যেমন, শিশু যেন উপযুক্ত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের পছন্দ জানাতে পারে, সাহায্য চাইতে পারে, অথবা কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে অসম্মতি প্রকাশ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে লক্ষ্য ও কৌশল পরিবর্তন করা হয়।

মূল্যায়ন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

সব অটিস্টিক ব্যক্তির জন্য একই থেরাপি বা অনুশীলন কার্যকর হয় না। তাই থেরাপি শুরু করার আগে প্রয়োজনভিত্তিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন থেরাপিস্ট সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন—

• ভাষা বোঝার দক্ষতা : নির্দেশনা, প্রশ্ন, শব্দ ও বাক্যের অর্থ কতটুকু বোঝেন।

• ভাষা প্রকাশের দক্ষতা : কথা, অঙ্গভঙ্গি, ছবি বা অন্য মাধ্যমে কীভাবে নিজের বার্তা জানান।

• সামাজিক যোগাযোগ : কথোপকথন, যৌথ কার্যক্রম ও পারস্পরিক যোগাযোগে কীভাবে অংশ নেন।

• কথ্য ভাষার বৈশিষ্ট্য : শব্দ, বাক্য, উচ্চারণ, কণ্ঠস্বরের সুর এবং বারবার একই কথা ব্যবহারের সম্ভাব্য ভূমিকা।

• বিকল্প যোগাযোগের প্রয়োজন : ছবি, কমিউনিকেশন বোর্ড বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কি না।

• দৈনন্দিন কার্যকারিতা : বাড়ি, স্কুল, কর্মক্ষেত্র বা সামাজিক পরিবেশে যোগাযোগের কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে এবং কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

এছাড়া, ভাষা বিকাশে অভিভাবকের উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রবণক্ষমতা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রবণসমস্যা ভাষা ও যোগাযোগের বিকাশকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবিত করে। প্রয়োজনে অডিওলজিস্টের মাধ্যমে শ্রবণ পরীক্ষা করানো হয়।

অটিজম নির্ণয় এবং অন্যান্য সহাবস্থানকারী অবস্থার মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার্ড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পিচ থেরাপিস্ট, চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের মাধ্যমে করা হয়। অভিভাবকদের উচিত রেজিস্টার্ড পেশাজীবীদের শরণাপন্ন হওয়া।

তথ্যসূত্র : হেলথলাইন

লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ, ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে স্বল্প বেতনে পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, সংকট নিরসনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা উচিত।

বুধবার দলের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার সন্তান পোশাক শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’

দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে, তবে দেশের পুরো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সরকার এখনো সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে। কারণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের পক্ষে জীবন ধারণ করা সত্যিই অসম্ভব। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে অবিলম্বে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা ঠিক যে শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও সমভাবে সত্য যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়বে।’

অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা সুযোগসন্ধানীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

একই সঙ্গে শ্রমিক ভাই-বোনদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি, তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে অক্ষত রাখুন। কারণ শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারাও বেঁচে থাকবেন।’ পাশাপাশি কারখানা মালিকদের উদ্দেশে তিনি শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার: সহপাঠীর বাইরে শিশুর নতুন সঙ্গী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার: সহপাঠীর বাইরে শিশুর নতুন সঙ্গী

ক্লাস শুরু হতে তখনো কিছু সময় বাকি। বিদ্যালয়ের এক কোণে রাখা বইয়ের আলমারি। তার সামনে জড়ো হয়েছে উম্মে হাবিবা, সাদিয়া, আহনাফ তাহমিদ, নওরিনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

আলমারির মধ্যে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বই। সেখান থেকে কেউ বেছে নিচ্ছে রূপকথার গল্প, কেউ খুঁজছে বিজ্ঞানবিষয়ক বই। কেউ পছন্দের বইটি বাড়িতে নিয়ে যেতে নিজের নাম লিখছে রেজিস্ট্রার খাতায়। পছন্দের বইটি হাতে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে উঠছে আনন্দ। বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার শিশুদের এই আনন্দ এনে দিয়েছে।

শহর থেকে দূরে

কুমিল্লা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লালমাই অবস্থিত। মেঠোপথ, সবুজ প্রকৃতি আর হিমেল হাওয়ায় ঘেরা এ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগটির নাম বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার।

উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার ৪৭৬ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিয়েছে এই পাঠাগার। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিশুদের আরেকটি জগৎ চিনতে, কল্পনাশক্তি বাড়াতে এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রথমে উদ্যোগটি গ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফ মিঠু।

প্রবাসে থেকেও দেশের শিশুদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন মিঠু। নিজের এবং বন্ধুদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার। তার সঙ্গে কাজ করছেন আরও ১০ স্বেচ্ছাসেবী। যুক্তরাজ্যে বসেই পাঠাগারের খোঁজখবর রাখেন তিনি। এ জন্য ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ১০ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ।

গ্রুপের মাধ্যমে পাঠাগারের কার্যক্রম পরিচালনা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ পেয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট সবাই। দেশে থাকা স্বেচ্ছাসেবীরা সেসব নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে পাঠাগারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতি সপ্তাহেই তারা পাঠাগার থেকে বই নিয়ে যায়। পাঠাগারে বিভিন্ন মজার বই রয়েছে। পড়া শেষ হলে বই রেখে নতুন আরেকটি বই নিয়ে যায়। এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিদ্যা বিকাশকে ধন্যবাদও জানায় শিশুরা।

যেভাবে দাঁড়াল বিদ্যা বিকাশ

২০২৪ সালের মার্চ মাস। সাইফ মিঠুর মেয়ে আরিয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তখন। ইংল্যান্ডের কেন্ট (মেডওয়ে) অঞ্চলের গিলিংহামে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আরিয়া প্রতি সপ্তাহে স্কুল থেকে বই নিয়ে আসত বাসায়। গল্প, রূপকথা, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিভিন্ন মনীষীর জীবনীসহ নানা বিষয়ের বই। পড়া শেষে ফেরত দেওয়ার সময় স্কুলের দেওয়া ‘রিডিং রেকর্ডে’ অভিভাবকের স্বাক্ষর নিতে হতো। সেখানে স্বাক্ষর করতেন সাইফ মিঠু ও তার স্ত্রী।

মিঠুর ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বই পড়ার এই অভ্যাস দেখে প্রশ্ন ওঠে তার মনে, বিশ্বের অগ্রগামী একটি শহরের বিদ্যালয়ের শিশুদের মতো তার নিজের দেশের গ্রামের শিশুরা কী বই পড়ার এমন সুযোগ পায়? তাদের হাতেও কী প্রতি সপ্তাহে নতুন বই পৌঁছায়? ভাবনাগুলো আচ্ছন্ন করে রাখে তাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন মিঠু। শুরু হয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের হাতে বই পৌঁছে দিতে বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের যাত্রা।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার যুক্তিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

মিঠু জানান, প্রথমে লালমাই উপজেলার ১৫টি বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিতে ১৫০টি করে বই দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের যাত্রা। পরে আরো ৫২টি বিদ্যালয়ে ১০০টি করে বই দেন তিনি। সব মিলিয়ে ৬৭টি বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয় সাত হাজার ৪৫০টি বই।

পেছনে ১০ স্বেচ্ছাসেবী

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশে থাকা ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী। মাঠপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, পাঠাগার গড়ে তোলার প্রস্তুতি, নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, সেরা পাঠক নির্বাচন, পুরস্কার বিতরণ, পাঠাগার উদ্বোধনসহ নানা কাজ করেন তারা।

এসব কাজে স্বেচ্ছাসেবী ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা সহযোগিতা করেন।

একটি উদ্যোগ থেকে বড় স্বপ্ন

ছোট পরিসরে শুরু হওয়া বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কার্যক্রম এখন অনেক বিস্তৃত; কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না প্রতিষ্ঠাতা সাইফ মিঠু। তার পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা এবং বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঠাগার গড়া।

উপজেলার বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শুরু থেকেই পাঠাগারের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবীব। বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৩৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বই বিতরণ, বই বিতরণ রেজিস্টার সংরক্ষণসহ পাঠাগারের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি নিজেই। শিক্ষার্থীদের বই পড়তে নানাভাবে উৎসাহিত করেন তিনি।

আহসান হাবীবের ভাষ্য, ‘আমার খুবই ভালো লাগে, যখন দেখি শিক্ষার্থী সিরিয়ালে রেজিস্ট্রারে নাম তুলে বই নিয়ে যায়। মোবাইল ফোনের এই যুগেও শিক্ষার্থীরা পাঠাগার থেকে বই নিয়ে পড়ে- এটি সত্যি প্রশংসনীয়।’

তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরেও নানা বিষয়ে জ্ঞান বেশি। কারণ তারা এখন নিয়মিত বই পড়ে। এটি তাদের এখন পাঠ্যভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

বিদ্যাবিকাশ পাঠাগারের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়কের করছেন কাজী ইয়াকুব আলী নিমেল। প্রান্তিক শিশুদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে বিদ্যাবিকাশের হয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ গত ১ নভেম্বর তাকে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ যুব সংগঠক সম্মাননা’ দেওয়া হয়।

কালের কণ্ঠকে নিমেল বলেন, বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কার্যক্রম শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

নিমেল জানান, বই পড়ার প্রতি শিশুদের আগ্রহ ধরে রাখতে প্রতিবছর সেরা পাঠক সমাবেশ করা হয়। এতে অংশ নেয় পাঠাগারের বই পড়া শিক্ষার্থীরা। পাঠ্যাভ্যাস, আগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা পাঠকদের দেওয়া হয় পুরস্কার। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে।

উদ্যোক্তার ভাষ্য

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফ মিঠু কালের কণ্ঠকে বলেন, বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পরই কাজ শেষ হয়নি। পাঠাগার পরিচালনার জন্য ১০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবীরা বইয়ের তালিকা সংরক্ষণ, নতুন বইয়ের তালিকা প্রস্তুত, স্কুলে স্কুলে বিতরণ, রেজিস্ট্রার খাতায় বিলি, সেরা পাঠক নির্বাচনসহ নানা কাজ করেন। এ ছাড়া এ কাজে এখন এলাকার শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিও যুক্ত।

লন্ডনের হাই সিকিউরিটি কারাগার এইচএমপি বেলমার্শ-এর খাদ্য বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত সাইফ মিঠু আরো বলেন, পরিবার নিয়ে আমি যুক্তরাজ্যে থাকি। এখানকার একটি স্কুলে পড়ে আমার মেয়ে আরিয়া। বই পড়ার প্রতি তার আগ্রহ থেকে নিজের দেশের গ্রামের স্কুলগুলোতে পাঠাগার গড়ে তোলার চিন্তা মাথায় আসে।

মিঠু বলেন, ২০২৪ সালে প্রথমে আমরা সীমিত আকারে শুরু করি। দুই বছরের মাথায় ২০২৬ সালে এসে আমরা ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার গড়ে তুলতে পেরেছি। এই কাজে সহযোগিতায় আমার অনেক বন্ধু, পরিচিতজন ও শুভানুধ্যায়ীও এগিয়ে এসেছেন।

মিঠু জানান, পাঠাগারের জন্য সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, জীবনী, দর্শন, ভ্রমণ, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ ও সংস্কৃতি- বিভিন্ন বিষয়ের বৈচিত্রময় ও রুচিশীল বইয়ের তালিকা প্রস্তুত ও সংগ্রহ করার কাজ চলছে এখন। প্রথমে এত বই কেনার জন্য অর্থ কোথায় পাবো- তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।

মিঠুর ভাষ্য, শুরুতে আমার কাছে এত বই কেনার জন্য তহবিল ছিল না। পরে সিদ্ধান্ত আমার পড়া ও ব্যায়ামের ঘরটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস এয়ারবিএনবিতে অতিথিদের জন্য ভাড়া দিলাম। পরে ভাড়ার সেই অর্থ দিয়ে বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের জন্য বই কেনা শুরু করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ৭ দিনের সফরে আসছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


বাংলাদেশে ৭ দিনের সফরে আসছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানি

ভারতের বিশিষ্ট আলেম এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাবেক সভাপতি, আমিরুল হিন্দ ও আওলাদে রাসুল (সা.) মাওলানা সায়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর সুযোগ্য সাহেবজাদা, মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.) বাংলাদেশে এক সপ্তাহের সফরে আসছেন।

ভারতের উত্তরাখণ্ড প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.) উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী মনীষী ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সায়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর সন্তান। তিনি ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশ সফরের কারণে দেশে আলেম-উলামা ও ধর্মীয় অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এই এক সপ্তাহের সফরের সময় তিনি দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আলেম-উলামা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.)-এর পিতা, মাওলানা সায়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামী মনীষী। তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও আমিরুল হিন্দ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দ্বীনি, সামাজিক ও সাংগঠনিক অবদান উপমহাদেশের ইসলামী অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

এছাড়া, মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.)-এর দাদা, মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক এবং শায়খুল আরব ওয়াল আজম হিসেবে পরিচিত একজন প্রখ্যাত ইসলামী মনীষী ছিলেন।

ধর্মীয় অঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.)। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই বাংলাদেশ সফর দুই দেশের আলেম-উলামা ও ধর্মীয় অঙ্গনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য এবং মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%