০১:০৭ পি.এম
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে শুধুমাত্র ফেল করা বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকবে। এ বছর এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এ তথ্য জানান।
বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় যদি কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়, তাহলে তাকে পরের বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকে।
আরও পড়ুন: ৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মজনু কাইয়াঁ
তবে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে ছাত্রীরা বরাবরের মতো এগিয়ে রয়েছে। তবে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছেন ছাত্ররা। এবারের পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ছাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন, পাসের হার ৫৬.৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন, পাসের হার ৪৭.৭৫ শতাংশ।
এছাড়া এবারে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ ছাত্রী।
আরও পড়ুন: এক নজরে দেখে নিন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে?
তবে এবারের পাসের হার গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। চলতি বছর গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী। এই হিসাবে এবারের পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
চলতি বছর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিলো ২০২। শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
আরও পড়ুন: শেকৃবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, শুরু হলো কমপ্লিট শাটডাউন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন